বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :স্মৃতি, আবেগ আর বন্ধুত্বে ভরা প্রীতি ম্যাচে আবারও একত্র হলেন সোনালি সময়ের তারকারা।দিনাজপুরের বিরামপুর হাইস্কুল মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বহু প্রতীক্ষিত লিজেন্ড খেলোয়াড়দের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। মুখোমুখি হয় বিরামপুর লিজেন্ড একাদশ ও সোটাপীর লিজেন্ড একাদশ—যেখানে মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এক সময়ের তারকা খেলোয়াড়দের আবেগ আর ফুটবলপ্রেম।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই ছিল দারুণ আক্রমণাত্মক। প্রতিটি পাস, প্রতিটি দৌড় আর প্রতিটি আক্রমণে যেন ফুটে উঠেছে পুরনো দিনের সেই তেজ, সেই লড়াই করার মানসিকতা। বয়স বাড়লেও কমেনি ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা—এমন দৃশ্যই দেখেছেন মাঠে উপস্থিত দর্শকরা।
পুরো ম্যাচজুড়ে চলে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। গোলের একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও দুই দলের রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ও গোলরক্ষকদের দক্ষতায় শেষ পর্যন্ত কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। ফলে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টার পর ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রতে শেষ হয়। তবে স্কোরলাইন যা-ই বলুক, খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ও দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ম্যাচটি ছিল উপভোগ্য ও স্মরণীয়।
এই আয়োজনকে সফল করতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন দুই দলের একঝাঁক নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন—জাকারিয়া আলম রানা, মোঃ আবু হোসেন, মোঃ আলী হোসেন, এ. এস. এম কাদিরুজ্জামান প্রিন্স, রফিকুল ইসলাম (রফিক), মোঃ রবিউল ইসলাম, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম, আবুল কালাম আজাদ (হিটলার) এবং মোঃ গোলাম মোস্তফা। তাদের সম্মিলিত উদ্যোগেই এত বড় আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
খেলা শেষে খেলোয়াড়দের মাঝে ছিল আনন্দঘন পরিবেশ। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে মাঠে নেমে খেলার অভিজ্ঞতা তাদের মনে করিয়ে দেয় সোনালি অতীতের কথা। হাসি, গল্প আর স্মৃতিচারণে ভরে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ, যা ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও দৃঢ় করে তোলে।
এ ধরনের আয়োজন শুধু একটি খেলা নয়—এটি প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা, অতীতের সঙ্গে বর্তমানের এক সেতুবন্ধন। লিজেন্ড খেলোয়াড়দের এমন মিলনমেলা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশাই করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
