Header Ads Widget

বন্যায় ১৩৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছেন বন্যার্তরা

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : Sunday, July 7, 2024 | 7/07/2024 11:30:00 PM

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা :বন্যায় গাইবান্ধার সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ২৯ ইউনিয়নের ৬৭ হাজার ৭২৯টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে পাট, ভুট্টা, আউশ ধান ও আমন বীজতলাসহ আড়াই হাজার হেক্টরের অধিক জমির ফসল। পানি ওঠায় ১৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। 
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, রোবার (৭ জুলাই) বিকাল ৩টায় গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখ পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। করতোয়া নদীর পানি গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালী পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ১৪৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আবারও বাড়তে শুরু করেছে তিস্তা নদীর পানি। গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রভাবিত হচ্ছে। গাইবান্ধার যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে ৪ উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পানিবন্দি এসব এলাকার মানুষ গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে। প্রকট আকার ধারণ করেছে গোখাদ্যসহ বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গাইবান্ধার সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন, সুন্দরগঞ্জের ৯টি, সাঘাটার ৮টি ও ফুলছড়ি উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ২৯ ইউনিয়নে পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ৬৭ হাজার ৭২৯টি। এরমধ্যে গাইবান্ধা সদরে ৩৯ হাজার ৮৮৯টি, সুন্দরগঞ্জে ৫২ হাজার, সাঘাটা ১৫ হাজার ১৫০টি ও ফুলছড়ি ৭৪ হাজার ৯০টি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা আরও বেশি। পানিবন্দি এসব মানুষের জন্য স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে মোট ১৮১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে সাঘাটা উপজেলায় রয়েছে ৩৬টি, সুন্দরগঞ্জে ৪৮টি, ফুলছড়িতে ২৩টি, সদরে ২৪টি, সাদুল্যাপুরে ৩৩টি, পলাশবাড়ীতে ৬টি ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ১১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাফিজুল হক জানান, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে জেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। ঘাঘট ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার প্রভাবে এ পর্যন্ত ১৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রোকসানা বেগম ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, বন্যার কারণে মাদ্রাসাসহ ২২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। এরমধ্যে ফুলছড়ি উপজেলার একটি পরীক্ষা কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অপরদিকে, জেলায় এ পর্যন্ত ১১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। এরমধ্যে ১৭টি স্কুলে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুল বলেন, এ পযন্ত জেলার ১৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা এবং উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। ইউনিয়নভিত্তিক বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় মেডিকেল টিম, কৃষি টিম, স্বেচ্ছাসেবক টিম এবং লাইভস্টোক টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া একাধিক এনজিও বানবাসী মানুষের সেবায় কাজ করছে।

পীরগঞ্জে ফেন্সিডিল ও ইনজেকশন উদ্ধার : গ্রেফতার— ২

শেখ সমশের আলী, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি : পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের বাসির পাড়া গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে রোববার ভোরে এক মাদক কারবারী কে গ্রেফতার করা হয়। অপর দিকে ঠাকুরগাঁও ডিবি পুলিশ পৌর শহরের রঘুনাথপুর মহল্লার মাদক কারবারী বাবুল ওরফে ঠুটা বাবুল কে মাদক সহ গ্রেফতার করেন। পীরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ খায়রুল আনামের নেতৃত্বে এস.আই হালিম, এস.আই সজল, এস.আই আশরাফুল, এস.আই মিরাজ, এস.আই সবুজ চন্দ্র রায় ও সঙ্গীয় ফোর্স ওই গ্রামে অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারী ইউসুফ আলী ওরফে মিঠুন (২৮) কে সু—কৌশলে গ্রেফতার করেন। ওই সময় তার কাছ থেকে ৩৫ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল উদ্ধার করেন। গ্রেফতারের সময় পুলিশ তার কাছ থেকে মাদক বিক্রয়ের ৫ হাজার ১শ টাকা জব্দ করেন। অপর দিকে ঠাকুরগাঁও ডিবি পুলিশ ওই দিন অভিযান চালিয়ে, সাগুনি ব্রিজের উত্তর পার্শ্বে যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে ঠুটা বাবুল এর কাছ থেকে ৯০ পিচ নেশাদ্রব ইনজেকশন উদ্ধার করেন। এ ব্যাপারে পীরগঞ্জ থানায় মাদক আইনে ২টি মামলা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃতদের ঠাকুরগাঁও আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

গভীর রাতে পানিবন্দি মানুষের পাশে সাংসদ নাইমুজ্জামান ভূঁইয়া

এ রায়হান চৌধুরী রকি, পঞ্চগড় প্রতিনিধি :পঞ্চগড় পৌরসভার জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করেছেন পঞ্চগড় এক আসনের সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তা। 
শনিবার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১ টা পর্যন্ত পৌরসভার কামাতপাড়া, জালাসী হঠাৎ পাড়া, তেলিপাড়া, ট্রাক টার্মিনাল এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় সাংসদ পানিবন্দি মানুষের ভোগান্তি লাঘবে পানি নিস্কাসনের জন্য স্থায়ী সমাধান হিসেবে মাস্টার প্লান করে ড্রেন নির্মাণ সহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন। পরে তিনি পৌরসভার এসব এলাকার ৫ শতাধিক মানুষের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন। শুকনো খাবার হিসেবে এক কেজি করে মুড়ি, চিড়া ও হাফ কেজি গুড় পানিবন্দি মানুষের হাতে তুলে দেন সাংসদ নাইমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তা। এসময় সাংসদ স্ত্রী মেজর (অবঃ) কাজী মৌসুমি, পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র জাকিয়া খাতুন, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার রায়, পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসানাত মো হামিদুর রহমান, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইদুর রহমান, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম হুমায়ূন কবীর উজ্জ্বল সহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 
পঞ্চগড় পৌরসভার জলবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধান হিসেবে সাংসদের কোন পরিকল্পনা আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে সাংসদ নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তা বলেন, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতে দেশের যে কোন শহরেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। প্রাকৃতিক দূর্যোগে কারো হাত নেই। সৌদি আর সহ বিশ্বের অনেক উন্নত দেশও জলাবদ্ধ হয়েছে। আমরা মেয়র সহ একসাথে কাজ করে যাচ্ছি। যেই ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য আমরা আজকে ভোগান্তিতে পড়েছি অতীতে আমাদের মেয়রেরা দুরদর্শী কোন পরিকল্পনা নেয়নি। তাছাড়া চিকন ড্রেনেজ ব্যবস্থা আর নাগরিকের অসচেতনতায় যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। পানি দ্রুত সড়ে যেতে পারছেনা। তবে সবচেয়ে আর্শীবাদ হল করতোয়া নদী আমাদের কাছে। আমরা ভাল ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে পানি নদীতে ফেলতে পারলে জলাবদ্ধতা হবেনা। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগের সরকার সব সময় মানুষের পাশে আছে। এই যে বৃষ্টি হচ্ছে মধ্যরাত হলেও আমরা মানুষের পাশে এসেছি। যারা দুর্গত মানুষ তাদের পাশে আমি শেখ হাসিনার বার্তা নিয়ে আসেছি। আমরা এটুকু কথা দিতে পারি এবারের জলাবদ্ধতা যে ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে হয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের মাধ্যেমে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে একটা প্রকল্প শুরু হবে। এর বাইরেও আমরা একটা মাস্টার প্লান নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি আগামী এক বছরের মধ্যে এই জলাবদ্ধতা নিরসনে একটা স্থায়ী সমাধান হবে।

মাদক ও জুয়ামুক্ত ডিমলা গড়তে ডিমলা থানার ওসির বিশেষ ভূমিকা

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : Saturday, July 6, 2024 | 7/06/2024 10:51:00 PM

মাজহারুল ইসলাম লিটন,ডিমলা(নীলফামারী)ঃ মাদক ও জুয়ামুক্ত ডিমলা গড়তে ডিমলা থানার ওসি দেবাশিষ রায়ের বিশেষ ভূমিকায় উপজেলা বিভিন্ন এলাকা হতে প্রতিদিন পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারী ও জুয়ারুদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। 
পুলিশের বিশেষ এই ভূমিকায় এলাকার সর্বস্তরের সচেতন মহল ডিমলা থানার ওসিকে বাহবা জানিয়েছেন। নীলফামারীর ডিমলায় শুক্রবার রাতে প্রতিদিনের ন্যায় পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় উপজেলা পরিষদের অফিসার্স ক্লাব এর সামন থেকে উপজেলা সদরের শিবমন্দির পাড়া এলাকার সুশীল চন্দ্র দাসের ছেলে টুটুল চন্দ্র দাস (৪২)কে ১০ পুড়িয়া হিরোইনসহ গ্রেফতার করে ডিমলা থানার সাব ইন্সপেক্টর উৎপল কুমার রায়। 
অপরদিকে জুয়া খেলার অপরাধে বোচাগাড়ী বাবুরহাট গ্রামের মৃত জগলাল রবিদাসের ছেলে সনাতন (৩১), দক্ষিন তিতপাড়া গ্রামের মৃত ওয়ারেস আলীর ছেলে লাভলু মিয়া (২৫), রামডাঙ্গা গ্রামের বেনী মধাব দাসের ছেলে বাবু দাস (৩৩), ভেদু দাসের ছেলে কালীপদ দাস (৩২), মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪৮) সরদারহাট আদর্শপাড়া গ্রামের মহাদেব দাসের ছেলে রতন দাস (৪০) কে জুয়া খেলার অপরাধে গ্রেফতার করে ডিমলা থানা পুলিশ। 
এ ব্যাপারে ডিমলা থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। ডিমলা থানার (ওসি) দেবাশীষ রায় সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মাদক ও জুয়ামুক্ত ডিমলা গড়তে থানা পুলিশের বিশেষ ভুমিকায় জুয়া মাদক ব্যবসায়ি ও সেবনকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় ¬¬¬¬আনতে প্রতিদিন থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উলিপুরে বন্যায় আশ্রয় নেওয়া পরিবারে স্বাস্থ্যসেবা ও ঔষধ বিতরণ

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের উলিপুরে বন্যায় আশ্রয় নেওয়া ২শ পরিবারে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ও বিভিন্ন প্রকার ঔষুধ বিতরণ করা হয়েছে। 
গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে হাতিয়া ইউনিয়নের নীলকন্ঠে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের রাস্তায় আশ্রয় নেয়া এসব পরিবারে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সহ ও বিভিন্ন প্রকার ঔষধ প্রদান করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এইচআই ইনচার্জ মোজাম্মেল হক, স্বাস্থ্য পরিদর্শক গোলাম রসূল, স্বাস্থ্য পরিদর্শক নিবারণ চন্দ্র রায়, সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শ মিজানুর রহমান, স্বাস্থ্য সহকারী আয়নাল হক, মাসুদ রানা, আব্দুল ওহাব প্রমূখ।

ফুলবাড়ীতে জমির শাক-সবজির গাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী থেকে: দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে রাতের অন্ধকারে ১০ শতাংশ জমিতে লাগানো পটল, ঢেড়স, করলা, বরবটি, পুুঁইশাকসহ বিভিন্ন প্রকার শাক সবজির গাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে পথে বসেছেন বর্গাচাষি দিনমজুর লাল বাবু রায়। ঘটনাটি ঘটেছে, গত বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে ফুলবাড়ী উপজেলার ৭নং শিবনগর ইউনিয়নের বহিলহারপুর গ্রামে। বর্গাচাষি দিনমজুর লাল বাবু রায় বলেন, খেতখামারে দিনমজুরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের আশায় গ্রামের মধ্যে থাকা ফুলবাড়ী পৌরশহরের শিবু দত্ত নামের এক ব্যক্তি ১০ শতাংশ জমি ১৬ হাজার টাকা বছর চুক্তিতে বর্গা নিয়েছেন। বর্গা নেওয়া ১০ শতাংশ জমিতে জমিতে লাগানো পটল, ঢেড়স, করলা, বরবটি, পুুঁইশাকসহ বিভিন্ন প্রকার শাক সবজি আবাদ করেছেন। ইতোমধ্যে গাছে পটল, বরবটি, করলা, পুঁইশাক ধরেছে। বাবু লাল রায় প্রতিদিন মজুরি দিতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে যান। এ সময় বর্গা নেওয়া ওই জমির শাক-সবজির আবাদ দেখাশুনা করেন তার মা কল্যাণী রানী রায়। কিন্তু কারো সাথে কোনো প্রকার শত্রুতা না থাকলেও কে বা কারা গত বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে শত্রুতা করে পুরো ১০ শতাংশ জমিতে আবাদ করা শাক-সবজির গাছ কেটে দিয়েছে। এতে বর্গার জন্য দেওয়া ১৬ হাজার টাকার সঙ্গে আবাদের খরচ প্রায় ২০ হাজার টাকা পুরোটাই লোকসানে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বাবু লাল রায়ের মা কল্যাণী রানী রায় বলেন, এতোদিন শরীরের পরিশ্রম ধারদেনা করে টাকা জোগান দিয়ে আবাদ করা হয়েছিল। আশা ছিল আবাদ করে কিছু লাভ হলে সেই লাভের টাকা দিয়ে চাল কিনে রাখবেন পরিবারের লোকের খাবার জন্য। কিন্তু শত্রুতা করে খেতের সব গাছে কেটে দেওয়ায় বড় ধরনের ঋণদেনায় পড়ে গেছে পুরো পরিবার। প্রতিবেশি ভাদু চন্দ্র রায় (৭০) ও কলেজ ছাত্র তনু রানী রায় (২২) বলেন, বাবু লাল রায়ের কারো সাথে কোনো শত্রুতা নেই, তারপরও যারা তার আবাদ নষ্ট করে দিয়েছে তাদের কখনো ভালো হবে না। শিবনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ছামেদুল ইসলাম মাস্টার বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই, তবে ওই গ্রামে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাবু লাল রায়ের পরিবারকে কিছু সহায়তা করার চেষ্টা করবেন। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান বলেন, শাক-সবজি নষ্ট করার ঘটনার কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেছে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডোমারে মাছের পোনা চাষে লাখপতি সুমন

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : Friday, July 5, 2024 | 7/05/2024 03:22:00 PM

আপেল বসুনীয়া, চিলাহাটি ওয়েব : নীলফামারী জেলার ডোমারে মাছের পোনা চাষের সংখ্যা বেড়েছে । মাছ চাষ এবং পোনা চাষ অনেক পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে।
নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার মির্জাগঞ্জ মাস্টার পাড়া গ্রামের পোনা চাষী সুমন ইসলামের বর্তমান প্রধান আয়ের উৎস মাছের পোনা চাষ।
কার্প জাতীয় মাছের পোনা চাষী সুমন ইসলাম বলেন- পূর্বে মাছ চাষের জন্য পুকুরে বিভিন্ন আকারের পোনা মজুদ করতাম, কেউ কেউ বছরে ১/২ বার রেনু /ধানী ছাড়তেন। পোনা অতিরিক্ত হলে মাঝেমধ্যে কিছু বিক্রি করতেন।
কিন্তু বর্তমানে শার্প এনজিও এর মৎস্য কর্মকর্তা ও সহকারী মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শে অনেকে ৩/৪ বার রেনু/ধানি পুকুরে মজুদ করেন শুধুমাত্র বিভিন্ন আকারের পোনা মাছ বিক্রির উদ্দেশ্যে।
লাভের বিষয়ে জানতে চাইলে সুমন ইসলাম চিলাহাটি ওয়েবকে বলেন- আমার আর্থিক সচ্ছলতা এসেছে একমাত্র মাছের পোনা চাষের মাধ্যমে। আমি ৩৪ শতাংশের একটি পুকুরে ৫০ দিনের ১৮ হাজার টাকা খরচ করে কার্প জাতীয় ৮ মন পোনা মাছ ৮২ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। এখনো যে পরিমান পোনা মজুদ আছে যার বাজার মূল্য প্রায় ২০ হাজার টাকা। এ পুকুর হতে লাভ প্রায় ৮৪ হাজার টাকা।
সেলফ-হেল্প অ্যান্ড রিহেবিলিটেশন প্রোগ্রামের (শার্প) এর মৎস্য কর্মকর্তা রবিউল আলম জানান- পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় সমন্বিত কৃষি ইউনিট (মৎস্য খাত) মাছ চাষে বিভিন্ন প্রযুক্তি সদস্য পর্যায়ে বাস্তবায়ন এবং সম্প্রসারণ করে আসছে।
তিনি আরো বলেন- স্বল্প সময়ে স্বল্প খরচে অধিক লাভের জন্য গুনগত মানের মাছের পোনা উৎপাদন ও বিক্রির কোন বিকল্প নেই।
ডোমার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন- ডোমারে বেশ কয়েকটি মৎস্য হ্যাচারি রয়েছে। মাছ চাষে ভাল পোনার কোন বিকল্প নেই।
উপজেলা পর্যায়ে চাষীদের পরামর্শ প্রদান অব্যাহত রয়েছে। লাভ বেশী হওয়ায় অনেকে মাছের পোনা চাষে ধাবিত হচ্ছে। আমার জানা মতে শার্প এনজিও মৎস্য চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।