নজরুল ইসলাম, পঞ্চগড় ব্যুরো : পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে টাকা ছাড়া কাজ না করা সহ নানা অভিযোগ তুলেছেন উপজেলার শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যন আশরাফুল ইসলাম। এই সাথে তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্পের বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে অনিয়ম, ঘুষ দাবি ও প্রশাসনিক হয়রানির করা হচ্ছে বলে দাবি করছেন। শনিবার দুপুরে উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের কাজীগছ এলাকার বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি করেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান।
চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম দাবি করেন, রাজনৈতিক কারণে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা থাকলেও এখনো তাকে স্থানীয় সরকার বিভাগ বহিষ্কার করেনি। এসব মামলায় তাঁর কোন নামই নেই। তবে মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি পুনরায় অফিসে যোগদান করে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ করছেন। যোগদান করা সংক্রান্ত একটি চিঠি জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক বরাবরে দিয়ে অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দিয়েছেন। তবে ভিজিএফ কার্যক্রমে তার নাম থাকলেও টিসিবি কার্যক্রমের তালিকা প্রস্তুত ও মাইকিংয়ের ক্ষেত্রে তার নাম ব্যবহার না করতে ইউএনও নিষেধ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টিকে তিনি জীবন্ত ব্যাক্তিকে মৃত দেখানো ও প্রশাসনিক হয়রানির অংশ বলে উল্লেখ করেন।
চেয়ারম্যানের দাবি, তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের সহযোগিতায় এবং উপজেলা পিআইও অফিসের কার্য সহকারী জহিরুলের মাধ্যমে ওই টাকা নেওয়া হতো। শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিল অনুমোদনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা প্রশাসনের কাছে তাকে দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে। নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ না দিলে অনেক ক্ষেত্রে বিলের কাগজে স্বাক্ষর করা হয় না বলেও তিনি দাবি করেন। ইউএনও’র সহযোগী কয়েকজনের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পের বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রায় ১৫ শতাংশ টাকা দাবি করা হয়। ইউনিয়নের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলেও বিল ছাড় পেতে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে। একটি প্রকল্পের ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দে তিনলাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে এবং শালবাহান হাটের অর্ধকোটির বরাদ্দে ১৫ লাখ টাকা ঘুস না দেয়ায় বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে না মর্মে দাবি করেন চেয়ারম্যান। এসব ঘটনার ভিডিও, অডিও রেকর্ড, হোয়াটসএ্যাপে কথোপকথনের স্ক্রিন সর্ট সহ নানা প্রমাণাদি হাতে আছে বলেও জানান ইউপি চেয়ারম্যান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার একপেশি আচরণে ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এছাড়া, বিভিন্ন প্রকল্পের বিল ও প্রশাসনিক কাজ নিয়ে একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কাক্সিক্ষত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। বরং নানা অজুহাতে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করে চেয়ারম্যান বলেন, পরিষদে আমি গেলে সেখান থেকে চৌকিদার দিয়ে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে আমাকে বের করে দেয়া হবে। ইউএনও জানিয়েছেন, উপর থেকে তাঁর উপর নির্দেশনা আছে যেন আমাকে কাজে যোগ দিতে দেয়া না হয়। তবে পঞ্চগড় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আমাকে আগামী ১৬ মার্চ (সোমবার) পর্যন্ত কাজে যোগ না দিতে বলেছেন।
তবে এ বিষয়ে তদন্ত করে সঠিক বিচার ও অন্যায়ভাবে হয়রানি বন্ধ করে চেয়ারম্যানের দাপ্তরিক কাজ করতে দিতে পঞ্চগড় ১ আসনের সাংসদ মুহাম্মদ নওশাদ জমির ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদৃষ্টি কামণা করেন ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজ শাহিন খসরু বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান যেসব অভিযোগ করেছেন তার কোন ভিত্তি নেই। তিনি নিজে থেকেই কিছু ভিডিও তৈরী করেছেন। সেসবে আমাকে বা আমার নামে টাকা নেয়া হয়েছে তার কোন প্রমাণ নেই। তিনি জোড় করে এসব করছেন। মামলার কারণে যোগদান না করতে পারায় পাগল হয়ে গেছেন। আমাদের কাছেও অনেক প্রমাণ আছে। তদন্ত হোক তাহলে সব বের হয়ে আসবে।
পঞ্চগড় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সীমা শারমিনের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
