আপেল বসুনীয়া, চিলাহাটি ওয়েব : নীলফামারীর চিলাহাটির শান্তিনগরে একটি সেতু ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘ ১২ বছরেও স্থায়ী সংস্কার বা নতুন সেতু নির্মাণ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই গ্রামের মানুষ।
ভাঙা সেতুর ওপর স্থানীয়দের তৈরি বাঁশের অস্থায়ী জাকলা দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শিক্ষার্থী, শিশু, বৃদ্ধ ও সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
ফলে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। যেকোনো সময় অস্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০-১১ অর্থবছরে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের মাত্র তিন বছরের মাথায় নদী খননের সময় সেতুটির দুই প্রান্ত ভেঙে যায়। এরপর আর সেতুটির স্থায়ী সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি।
বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা নিজেদের অর্থায়নে বাঁশ দিয়ে জাকলা তৈরি করে কোনো রকমে চলাচলের ব্যবস্থা করেন।
সেতু ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এভাবেই প্রায় ১২ বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন স্থানীয়রা। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
স্থানীয় বাসিন্দা করিম উদ্দিন বলেন, “ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় আমাদের প্রতিদিন অনেক কষ্ট হয়। ছোট ছোট বাচ্চা ও বৃদ্ধসহ সবাই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। দ্রুত এখানে একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।”
স্থানীয়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই পথ দিয়ে প্রতিদিন দালানগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেতকীবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, গোমনাতী মহাবিদ্যালয় ও শহীদ জিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। অস্থায়ী বাঁশের জাকলা নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের চলাচলও এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিক্ষার্থী মরিয়ম আক্তার বলেন, “স্কুলে যেতে খুব ভয় লাগে। বর্ষাকালে সমস্যা আরও বেড়ে যায়। আমরা দ্রুত একটি নিরাপদ সেতু চাই।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধানের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি বাঁশের জাকলাই দীর্ঘদিন ধরে একমাত্র ভরসা হয়ে আছে।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু শিক্ষার্থী নয়—দুই গ্রামের হাজারো মানুষের চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে দ্রুত একটি নতুন ও টেকসই সেতু নির্মাণ করা হোক। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত অস্থায়ী পারাপারের নিরাপদ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
দীর্ঘ ১২ বছর ধরে একটি ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের ওপর নির্ভর করে থাকা মানুষের দুর্ভোগের অবসানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

