আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী, দিনাজপুর প্রতিনিধি:দেশের সম্পদ রক্ষার এই আন্দোলনে সেদিন বিডিআরের গুলিতে
তরিকুল, আমিন ও সালেকিন নিহত এবং দুই শতাধিক মানুষ
আহত হন। প্রতিবছর এই দিন টিকে ফুলবাড়ী ট্র্যাজেডি
দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
ফুলবাড়ী দিবসে আজ বুধবার বার সকাল ১০ টায় শহীদ মিনারে
পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে দিনব্যাপী শ্রদ্ধা নিবেদন, সভা ও
সমাবেশের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। শহীদ
মিনারেপুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে নিমতলা মোড়ে জাতীয় তেল,
গ্যাস ও খনিজ সম্পদ ফুলবাড়ী শাখার আয়োজনে আলোচনা সভা
অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন,
জাতীয় তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির নেতা
অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ও
বক্তব্য রাখেন ফুলবাড়ী তৈল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা
কমিটির আহ্বায়ক মোঃ সাইফুল ইসলাম (জুয়েল)। অন্যান্যদের
মধ্যে বক্তব্য রাখেন এস.এম.নুরুজ্জামান, মোঃ হামিদুল
ইসলামসহ কেন্দ্রিয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এক বিবৃতিতে তাঁরা বলেছেন, জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলনে
এটি অনন্য দিন। সেদিন দেশের কয়লা সম্পদ রক্ষায় লাখো কণ্ঠে
ধ্বনিত হয়, ‘উন্মুক্ত না, বিদেশি না, রপ্তানি না। এই
আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণের রায় ঘোষিত হয়, গ্যাস, তেল,
কয়লাসহ সব সম্পদের ওপর জনগণের শতভাগ মালিকানা নিশ্চিত
করে তা জনস্বার্থে ব্যবহার করতে হবে। দেশি-বিদেশি
কমিশনভোগীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করে জাতীয় সম্পদ রক্ষা
করতে হবে।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, অভ্যুত্থানের ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও
ফুলবাড়ী চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। এশিয়া এনার্জি
নানাভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা
উত্তোলনের ষড়যন্ত্র থামেনি। দেশের সমুদ্রের গ্যাস সম্পদ অসম
চুক্তিতে সাম্রাজ্যবাদী বহুজাতিক কোম্পানিকে দেওয়ার
প্রচেষ্টা চলছে।
এই দিকে পৃথক পৃথকভাবে ফুলবাড়ী দিবসে সম্মিলিত আমরা
ফুলবাড়ী বাসীর ব্যানারে সাবেক মেয়র মোঃ মর্তুজা সরকার
(মানিক) ও সম্মিলিত নাগরিক সমাজের ব্যানারে সাবেক পৌর
মেয়র ও বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ¦ মাহমুদ আলম লিটন ও
স্থানীয় বেশ কিছু সংগঠন শোক র্যালী বের করেন ও র্যালী শেষে
সংগঠনের এর পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পন করা হয়।
পরিশেষে আনু মোহাম্মদ বলেন বিএনপি যদি ফুলবাড়ীতে কয়লা
উত্তোলনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে তাহলে জনগণের কাছে
তারা প্রত্যাখান হওয়ার আশঙ্খা রয়েছে। ভবিষ্যতে ফুলবাড়ী
কয়লাখনি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান সরকারকে ।
