নজরুল ইসলাম, পঞ্চগড় ব্যুরো : বিশ্বায়নের এই সময়ে মান সম্মত শিক্ষাগ্রহণই যখন মূল উপজীব্য। আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে যখন নিরলস কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে বর্তমান সরকার। তখন রোদ ঝড় বৃষ্টির সাথে চলছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লুকোচুরি খেলা। সামান্য বৃষ্টি কিংবা ঝড় বাতাসে বই খাতা নিয়ে দৌড়ে আশ্রয় নিতে হয় পাশ্ববর্তী কোন বাড়িতে।
২০২২ সাল থেকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার দক্ষিণ কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ভবনটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খোলা আকাশের নিচে ও গাছের ছায়ায় ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে শতাধিক শিক্ষার্থী। তীব্র রোদ আর আকস্মিক বৃষ্টির কারণে চরম দুর্ভোগে পরতে হয় এসব কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের, যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।
সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, মূল ভবনের শ্রেণিকক্ষগুলো জরাজীর্ণ। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে অনবরত। কোথাও কোথায় বিম ফেটে জং ধরা রড ভয়ংকর ভাবে দৃশ্যমান হয়ে আছে। বিদ্যালয় মাঠের খোলা জায়গায় এবং গাছের নিচে মাদুর পেতে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন। আকাশের অবস্থা খারাপ হলে বা প্রচণ্ড রোদ উঠলে শিক্ষকরা ক্লাস সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। হঠাৎ বৃষ্টি নামলে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা নিয়ে দ্রুত পাশের বাড়িগুলোতে আশ্রয় নিতে হচ্ছে।
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, কয়েক দশক পুরোনো এই ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে ভেতরের মরচে পড়া রড বেরিয়ে এসেছে। ভবনের দেওয়ালে ও বিমে বড় বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ম্যানেজিং কমিটি ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবনের ভেতরে সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী কাওছার জানায়, "খোলা মাঠে রোদের মধ্যে ক্লাস করতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। একটু বৃষ্টি এলেই বই-খাতা ভিজে যায় এবং দৌড়ে অন্য জায়গায় পালাতে হয়। এভাবে আমরা ঠিকমতো পড়ালেখায় মন দিতে পারছি না।
"অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই দশা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। খোলা আকাশের নিচে শিশুদের এভাবে ফেলে রেখে 'সবার জন্য শিক্ষা'র স্লোগান অর্থহীন হয়ে পড়ে। তারা অবিলম্বে এখানে একটি নতুন ভবন নির্মাণ করার দাবি জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই তারা বাধ্য হয়ে খোলা মাঠে ক্লাস নিচ্ছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন চিঠি চালাচালি করেও এর সুরাহা মেলেনি।
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোমিনুল হক বলেন, বিষয়টি আমাকে আগে অবগত করা হয়নি, জানার পরে অস্থায়ী ক্লাসরুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০২২ সালে স্কুল ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিল প্রকৌশলীরা এরপরও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কিভাবে অবগত নয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার সময়ে এ বিষয়ে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেউ কিছু জানাননি।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা জানান, এতদিনেও কেন এই ভবনটি নিয়ে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি এটা ভীষণ হতাশাজনক। আমি বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরে স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে টিন শেডের শ্রেণীকক্ষ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি। এবং নতুন ভবনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
