Type Here to Get Search Results !

ঘুষের অভিযোগে তেঁতুলিয়া থেকে ইউএনও প্রত্যাহার

নজরুল ইসলাম, পঞ্চগড় ব্যুরো : ঘুষ নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আলোচনার মধ্যে থাকা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরুকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ থেকে প্রত্যাহার করেছে সরকার। গত ২ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব গোলাম মোরশেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব (সংযুক্ত) পদে পদায়ন করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এদিকে, ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরুকে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব (সংযুক্ত) হিসেবে পদায়ন করা হয়। প্রজ্ঞাপনে তাঁর পূর্বের তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলির আদেশও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রত্যাহারের কারণ সম্পর্কে প্রজ্ঞাপনে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এর আগে, গত ২৯ জুন রেহানা বেগম উর্মি নামে এক নারী ইউএনও কার্যালয়ের সামনে ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেন, ছেলেকে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ইউএনও তাঁর কাছ থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন। চাকরি না হওয়ায় তিনি প্রকাশ্যে টাকা ফেরতের দাবি জানান। পরে একই অভিযোগে জেলা প্রশাসকের কাছেও লিখিত আবেদন করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ছয় মাস আগে ২১ বছর বয়সী ছেলের চাকরির জন্য ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে তিনি এক লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন অজুহাত দেওয়া হয়। সম্প্রতি ইউএনওর বদলির খবর জানতে পেরে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে টাকা ফেরতের দাবি জানান এবং জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে ইউএনওর কাছে টাকা ফেরত চাইছেন। জবাবে ইউএনও বলেন, তিনি ওই নারীকে চেনেন না এবং এটি একটি সাজানো নাটক। অভিযোগের পরদিন তেঁতুলিয়া উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইউএনওর পক্ষে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও কর্মবিরতি পালন করেন। তারা অভিযোগটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানান। তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ কর্মসূচি সরকারি আচরণবিধি ও নীতিমালার পরিপন্থী কি না, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এদিকে অভিযোগের পর রেহেনা বেগম উর্মির বিরুদ্ধে তেঁতুলিয়া থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়। মামলায় তাঁকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে তাঁর আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়। পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. আবু সাইম জানান, সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এবিষয়ে আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, "আমি বিষয়টি গত শুক্রবার জানতে পেরেছি। আমাকে যদি চলে যেতে বলা হয়, তাহলে আমি চলে যাবো।"
বিভাগ

Top Post Ad

Hollywood Movies