Header Ads Widget

চিলাহাটিতে বীর মুক্তিযোদ্ধার বন্দোবস্ত নেওয়া জমি বেদখল

জুয়েল বসুনীয়া, চিলাহাটি ওয়েব : নীলফামারী জেলার চিলাহাটিতে মুক্তিযোদ্ধার নামে খাস খতিয়ানের বরাদ্দকৃত জমি জোর পূর্বক দখল করার অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা আদালতে একটি মামলা দায়ের করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে- চিলাহাটির ডোগডাবুরী ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হকের নামে নব্বই দশকে খাস খতিয়ান থেকে ৪১ শতাংশ আবাদির জমি তার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়।
শামসুর হকের মৃত্যুর পর তার ৩ ছেলে তহিদুল, মিন্টু, তোফিজুল ৪ মেয়ে সোনাবী, রহিমা, ছকিনা ও ফিরোজা পিতা রেখে যাওয়া ওই জমিতে চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। এরই মধ্যে তাদের অর্থ সংকট দেখা দিলে পিতা রেখে যাওয়া জমিটুকু একশত টাকার স্টামে প্রতিবেশী আতা বুদ্দিনের ছেলে বুলু মিয়ার কাছে ৪৫ হাজার টাকায় বিনিময় বন্ধক রাখে। সময় মত টাকা জোগাড় করতে না পারায় তাদের বন্ধকৃত জমি মুক্ত করতে পারেনি।
এই সুযোগে লালসার শিকারে পরে বুলু মিয়া ওই বন্ধকৃত স্টামে এক লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা লিখে জমিটি তার কাছে বিক্রি করার দাবি তুলে। একটি মহলের ইঙ্গিতে বুলু মিয়া দখল ধরে রাখতে আবাদি জমির উপর বসতভিটা নির্মাণ করে।
মুক্তিযোদ্ধার ছেলে তহিদুল ও তোফিজুল চিলাহাটি ওয়েবকে বলেন- আমাদের প্রয়োজনে একশ টাকার স্টামে ৪৫ হাজার টাকার বিনিময় বুলু মিয়ার কাছে জমি বন্ধক রেখেছি। তিনি ওই স্টামে ঘষাঘষি করে ১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা লিখে জমিটি তার কাছে বিক্রির অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা এই জুলুমবাজের সুবিচার দাবি জানাচ্ছি।
বুলু মিয়া বলেন- এখানে অনেকেই ষ্টামে লিখে খাস জমি ক্রয় করে। সেই সূত্র ধরে আমিও ৪৫ শতক জমি ১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকায় বিনিময়ে কিনে নিয়েছি। সেই সুবাদে দীর্ঘদিন থেকে ওই জমিতে চাষাবাদ সহ ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছি। পিতার শেষ সম্বল জমিটুকু হারিয়ে ৩ ছেলে ৪ মেয়ে পথে পথে ঘুরছে। উপায় না পেয়ে মুক্তিযোদ্ধার ৩ ছেলে ৪ মেয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল আলম বিপিএএ বলেন- কারো নামে বরাদ্দকৃত খাস জমি হস্তান্তরের কোন সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে জমি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।