Header Ads Widget

বদরগঞ্জে গুচ্ছ গ্রামের তুচ্ছ ঘটনায়...

আকাশ রহমান,বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি : রংপুরের বদরগঞ্জে গুচ্ছ গ্রামের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আয়োজন করা হয় বিরাট এক গ্রাম সালিস। কিন্তু অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা গ্রাম সালিসে উপস্থিত না হওয়ায় উŤসুক জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের বাড়ীঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়। যার ফলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা ৫দিন যাবত ঘরে ঢুকতে না পেরে খোলা আকাশের নিচে দিনাতিপাত করেন।
অবশেষে গতকাল রবিবার দুপুরে থানা পুলিশের সহযোগীতায় এই সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের মধ্য দিয়ে বদ্ধ ঘরের তালা খুলে দেয় সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিট পুলিশ শহিদুর রহমান।
সরেজমিনে গ্রামবাসী জানায়, উপজেলার কালুপাড়া ইউনিয়নের বৈরামপুর সরকারপাড়া গুচ্ছ গ্রামের দিনমজুর তাজকুল ইসলামের বাড়ীতে পাশর্^বর্তী চান্দামারী জেলেপাড়া গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী শিবু চন্দ্র দাস নিয়মিত আসা যাওয়া করতে। এনিয়ে গ্রামবাসীর চোখে ভিন্ন ঘটনার সন্দেহ হলে তারা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করেন।
গ্রামবাসীর মুখে ঘটনাটি শোনার পর ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি সুস্পষ্ট করতে ইউপি সদস্যকে একটি গ্রাম সালিসের আয়োজন করতে বলেন। কিন্তু গত মঙ্গলবার গ্রাম সালিসের আয়োজন করা হলে অভিযুক্ত তাজকুল ও তার স্ত্রী মোছা. বেলালী বেগম গ্রাম সালিসে উপস্থিত না হয়ে স্বপরিবারে অন্যত্র চলে যান।
পরে গ্রাম সালিশ ভুন্ডল হওয়া এবং ইউপি চেয়ারম্যানকে সালিসে ডেকে এনে হয়রানী করার কারণে গ্রামের কতিপয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে তাজকুলের বাড়ীঘরে তালা ঝুলিয়ে দেন। যার ফলে তাজকুল ঘরে ঢুকতে না পেরে গ্রামবাসী মোক্তারুল ইসলাম সহ ৪জন ব্যক্তির নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেইসাথে তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে বাড়ীর বাইরে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করেন। 
এদিকে গতকাল রবিবার বদরগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগীতায় বিট পুলিশ এএসআই শহিদুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে ডেকে নিয়ে সেখানকার ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম সহ সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মুছলেকা নিয়ে তাজকুলের ঘরের তালা খুলে দিয়ে তাদেরকে ঘরে ঢুকিয়ে দেন।
এ সময় তাজকুল ইসলাম বলেন- আমি শিবু চন্দ্রের সাথে মাছের ব্যবসা করি। অথচ গ্রামের লোকজন শিবু ও আমার স্ত্রীকে নিয়ে সন্দেহ পুর্বক গ্রাম সালিসের আয়োজন করলে আমি লোকলজ্জার ভয়ে সেদিন গ্রাম সালিসে উপস্থিত হয়নি। এ কারণে গ্রামের কতিপয় লোকজন আমার বাড়ীঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়। আমার ঘরে তালাবদ্ধ থাকায় আমি এতদিন পরিবার পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতাম। আজ পুলিশে সহযোগীতায় নিজের ঘরে ঢুকতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। এখন আমার কারো উপর কোন অভিযোগ নাই।
বদরগঞ্জ থানার ওসি হবিবুর রহমান বলেন- কারো ঘরে কেউ তালা ঝুলিয়ে দিতে পারেনা। আমি তাজকুলের অভিযোগ পেয়ে সেখানকার দায়িত্ব প্রাপ্ত বিট পুশিকে ওই সমস্যা সমাধান করার নির্দেশ দিয়েছি। কারণ যারা তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে এবং যিনি অভিযোগ করেছে তারা সবাই একই গ্রামের মানুষ। আর তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে মামলা মোকদ্দমা করে কাউকে হয়রানী করা যাবেনা। বরং তারা সবাই মিলেমিশে থাকুক আমরা এটাই চাই।