Friday, December 16, 2022

আপেল বসুনীয়া, চিলাহাটি ওয়েব : বেশিদিনের কথা নয়, প্রতিটি গ্রামে নজরে পড়ত মাটির ঘর। যাকে গ্রামের মানুষ বলে গরিবের এসি ঘর। ঝড়-বৃষ্টি থেকে বাঁচার পাশাপাশি অত্যন্ত ঠাণ্ডায় বসবাস-উপযোগী এ মাটির ঘর আর নজরে পড়ে না। গ্রামে আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন এনজিও’র ঋণ ও কায়িক পরিশ্রমে গরিব পরিবারগুলো এখন তৈরি করছে ছোট্ট আকারে দালান। তার ওপর তুলছেন টিনের চালা।
নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর, বোতলাগাড়ী, খাতামধুপুর, কাশিরাম বেলপুকুরে বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গ্রামে এ মাটির ঘর চোখে পড়ত। যেখানে লালমাটি বা চিপটে মাটি সহজলভ্য, সেখানে এ ধরনের ঘর বেশি তৈরি করা হতো। এ মাটির ঘরকে স্থানীয়ভাবে কোঠার ঘর বলে থাকেন অনেকেই। ঘরের গাঁথুনি দেয়ার সময় কারিগররা মাটিকে ভালোভাবে গুঁড়ো করে তাতে ছোট ছোট করে পাটের আঁশ বা খড় কেটে দেয়া হতো। এতে মাটি দীর্ঘস্থায়ী আঁকড়ে ধরে থাকত। কারিগররা একটি ঘরের চারদিকে এক স্তরে ২ ফুট বাইট মাটি দিয়ে একদিন বা দু’দিন রোদে শুকিয়ে আবার গাঁথুনি শুরু করতেন। এভাবে একটি ঘর তৈরি করতে প্রায় এক মাস সময় লাগত।
এ ঘর তৈরি করার উপযোগী সময় হচ্ছে শীতকাল বা শুষ্ক মৌসুম। এমন মাটির ঘর তৈরি করে ছাদ হিসেবে বাঁশ ও তার উপরে অন্তত এক ফুট মাটির প্রলেপ দেয়া হতো। এসব কারণে এমন ঘর সবসময় ঠাণ্ডা থাকে। এমনকি আগুন লাগলেও ঘরের ভেতরের কোনো আসবাবপত্র পুড়ে যায় না। ঘরের ভেতরে ও বাইরে আকর্ষণীয় করার জন্য গ্রামীণ আল্পনায় গৃহবধূরা কাদা-পানি দিয়ে প্রলেপ দিতেন। আবার মাটির ঘরে সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে আরও মজবুত করে তাতে রং বা চুন লাগিয়ে দেয়া হতো। দূর থেকে দেখে মনে হতো এটি একটি পাকা বাড়ি।
পরিতাপের বিষয়, কালের আবর্তনে এমন মাটির ঘর আর কেউ নতুন করে তুলছেন না। হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ এ ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর। বর্তমানে আয়ের উত্স বৃদ্ধি পাওয়ায় এ অঞ্চলে ইট, বালু সহজলভ্য হওয়ায় এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হওয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে মাটির ঘর।

0 comments:

Post a Comment