Type Here to Get Search Results !

উলিপুরে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ নিয়ে মহা সংকটে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

খালেক পারভেজ লালু, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : উলিপুর হাসপাতালের রোগিরা চাহিদা মত ঔষধ পাচ্ছে না। স্বল্প মেয়াদী ঔষধ বিতরন নিয়ে ইনডোর ও আউটডোর ফার্মেসী কর্তৃপক্ষের মধ্যে চলছে চাপা চাপি ও জোড়াজোরি।সেই সাথে মেয়াদ উর্ত্তীন্ন ঔষধ নিয়ে মহা সংকটে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ষ্টোরে মেয়াদ উর্ত্তীন্ন ও স্বল্প মেয়াদী ঔষধ কিভাবে আসলো অথবা কেন এসব ঔষধ সরবরাহ নেয়া হল তার দায় কেউ নিছে না।এ দায় কে নিবে তার কোন সুষ্পষ্ট জবাব মেলেনি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছ থেকে। এদিকে ঔষধ সংকটের কারনে ওয়ার্ড ক্লিনিক গুলো গত ৬ মাস পর চলতি মাসে প্রতি ক্লিনিকে এক বক্র করে ঔষধ সরবারাহ করা হয়েছে। তবে আউটডোর ,ইনডোর, জরুরী বিভাগ,গর্ভবতী মা শিশু কেন্দ্র ও অন্নান্য পয়েন্টের চাহিদার বিপরিতে ১০ ভাগ ঔষধ সরবারাহ করা হচ্ছে বলে রোগিদের চিকিৎসা পত্র অনুযায়ী ঔষধ দিতে পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন তারা।উপরি নিয়ে স্বল্প মেয়াদের ঔষধ ও তালিকার অর্ধেক সরবরাহ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ষ্টোর কিপারের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, উপজেলার ৫ লাখ মানুষের জন্য ৫০ শর্য্যার এ হাসপাতাটিতে সরকারী ভাবে ৭০ ভাগ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টেন্ডারের মাধ্যমে ২৫ ভাগ ঔষধ কিনে চিকিৎসাসেবা পরিচালিত হয়। সরকারী ভাবে ঔষধ বছরের ৪ দফায় সরবরাহ করেন এ্যাসেন্সিয়াল ড্রাগ লিঃ বগুড়া।বাকী ঔষধ আর্থিক বছরের জুলাই মাসে টেন্ডারের ম্যাধ্যমে ক্রয় করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জনসংখ্যা অনুযায়ী ও বড় উপজেলা হিসাবে ঔষধ বরাদ্ধ না হওয়া এবং স্বল্প মেয়াদের ঔষধ ও সরবরাহ সংকটের ফলে এমটি হচ্ছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার রয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্টির স্বাস্থ্য সেবায় রয়েছে ৬টি ইউনিয়ন উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ৫৭টি ওয়ার্ড ক্লিনিক। দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় সরকারী ভাবে ৪৭ পদের ঔষধ সরবারাহ করা হলেও হাসপাতালের আউটডোর,ইনডোর, জরুরী বিভাগ , মাওশিশু স্বাস্থ্য সেবা ও অন্নান্য ইউনিট গুলো ১০/১৫ পদের ঔষধ সরবরাহ পাচ্ছেন। যা দিয়ে আগত রোগিদের প্রয়োজনীয় চাহিদা পুরন করা যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। লাগাতার কয়েক দিন হাসপাতাটিতে সরোজমিনে গিয়ে আউটডোর, ইনডোর, জরুরী বিভাগ, মাও শিশু স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র সহ সব বিভাগ পরিদর্শন করে এবং সেবা নেওয়া ও ওয়ার্ডে ভর্ত্তি রোগিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চিকিৎসা ব্যবস্থা পত্রের ৪/৫ পদের ঔষধের মধ্যে ২/৩ পদের বেশী ঔষধ মিলছে না। অধিকাংশ ঔষধই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এমন কি প্যাসিটামল ট্যাবলেট ঠিকমত পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগিদের। অনেকে ঔষধ না পেয়ে ব্যবস্থা পত্র ছিড়ে ফেলে দিচ্ছেন।আউটডোর ও ইনডোর. ও গর্ভবতী মা শিশু স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসার বেশ কয়েকজন রোগির ব্যবস্থা পত্র পর্যালোচনা করেও এমন চিত্র পাওয়া গেছে। হাসপাতালটিতে আউটডোরে প্রতি দিন গড়ে ২/৩ শত রোগি চিকিৎসা নিতে আসে। ওয়ার্ডে ভর্ত্তি রোগির সংখ্যা শর্য্যা সংখ্যার বেশী থাকে। হাতিয়া অনন্তপুর গ্রামের শহীদুর রহমান(৬০) শ্বাসকষ্ট নিয়ে ওয়ার্ডে ভত্তি হয়েছেন। তাকে ৬ পদের ঔষধ দিয়েছে তার মধ্যে ৩ পদের বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।আমরা দরিদ্র মানুষ কিনতে পারলে হাসপাতালে আসতাম না। হাসপাতালে কোন ঔষধ পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ তার।দরিদ্র রাবেয়া বেওয়া(৮০) বলেন, ডাক্তার দেখি ৩টা ঔষধ লেখছে। ঔষধ দিল একটা বাকী গুলা বাইরে কিলতে বললো| ইনডোরের ইনচার্জ শাহীনুর বেগম বলেন, এক মাস মেয়াদের ঔষধ তাও চাহিদার অর্ধেক দিয়ে চালিয়ে নিতে বলেন| স্বল্প মেয়াদের ঔষধ নিতে আপত্তি করলেও তা নিতে আমাদের বার্ধ্য করা হয়| আগের টি এইচ এ ও আর এমও স্যার ঔষধ না থাকলে কিনে দিতেন| বর্হিবিভাগ ফার্মেসির ফার্মাসিষ্ট মো. মেহেদী হাসান বলেন, চাহিদা দেওয়া হয়| কিন্ত ১১ পদের বেশী ঔষধ পাওয়া যায় না| ফলে রোগিদের চাহিদা পত্র অনুযায়ী ঔষধ দেওয়া যাচ্ছে না| নিত্য দিন এ নিয়ে রোগিদের সাথে ক্যাছাল লাগে| ডা. শহীদুল ইসলাম আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা বলেন,সরবরাহ ঔষদের মধ্যে রোগিদের চিকিৎসা পত্র দেওয়া হয়। তবে সব সময় সব ঔষধ সরবরাহ করা হয় না| অনেক সময় চিকিসার স্বার্থে বাইরের থেকে কিনতে বলা হয়| ষ্টোর কিপার মো. বসির উদ্দিন বলেন. মেয়াদ উর্ত্তীন্ন ঔষধ গুলো আমার আমলের নয়| স্বল্প মেয়াদের ঔষধের কথা শিকার করে বলেন,তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে অপারতা প্রকাশ করেন বলেন, টিএইচএ স্যার সব জানেন | তার সাথে কথা বলেন| এ বিষয়ে সরবরাহকারী ঠিকাদার মের্সাস আসলাম উদ্দিন বলেন, আমি জুলাই মাসের মধ্যে সব ঔষধ সরবরাহ করেছি| কোন মেয়াদ উর্ত্তীন্ন ঔষধ সরবরাহ করিনি| উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ৬টি পদের স্বল্প মেয়াদের ঔষধ সরবরাহের নেওয়া হয়েছে| সরবরাহকারী ঠিকাদারের কাছে উপরি নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন | তবে কোনো অনিয়ম বা অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়।' স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব আলম ছালেহী বলেন, খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কথা বলতে জেলা সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও সাড়া মেলেনি।
বিভাগ

Top Post Ad

Hollywood Movies