Type Here to Get Search Results !

শ্রমিক সংকটে বিপাকে দিনাজপুরের কৃষক, কাটেনি ২০ হাজার হেক্টর জমির ধান

আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী, দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুর জেলায় চলতি বোরো মৌসুমে জনবল সংকট ও কৃষি যান্ত্রিক মেশিনের অভাবে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান এখনো মাঠে পড়ে রয়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলায় একযোগে ধান কাটার মৌসুম শুরু হলেও পর্যাপ্ত শ্রমিক ও হারভেস্টার মেশিন না থাকায় কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর জেলায় বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। তবে একই সময়ে অধিকাংশ এলাকায় ধান পাকায় শ্রমিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। অন্যদিকে প্রয়োজনের তুলনায় কম সংখ্যক কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার মেশিন থাকায় দ্রুত ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। কৃষকদের অভিযোগ, শ্রমিকের মজুরি অনেক বেড়ে গেছে। একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। তারপরও সময়মতো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এতে পাকা ধান ঝড়ে পড়া ও বৃষ্টিতে ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফুলবাড়ী উপজেলার মোঃ ফাহিম নামে কৃষক জানান, “ধান পাকলেও শ্রমিক ও মেশিনের অভাবে সময়মতো কাটতে পারছি না। এছাড়াও জমিতে পানি জমে রয়েছে। প্রতিদিন বৃষ্টি হচ্ছে। এভাবে আর কয়েকদিন বৃষ্টি হলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।” জেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে হারভেস্টার মেশিনের মাধ্যমে ধান কাটার কার্যক্রম চালানো হলেও চাহিদার তুলনায় তা খুবই কম বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, দ্রুত ধান কাটতে বিভিন্ন উপজেলা থেকে অতিরিক্ত শ্রমিক ও কৃষি যন্ত্রপাতি আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি কৃষকদের কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। কৃষকরা দ্রুত সরকারি সহযোগিতা ও পর্যাপ্ত কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন, যাতে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই মাঠের ধান নিরাপদে ঘরে তোলা সম্ভব হয়। দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলতি বোরো মৌসুমে এখনও শতভাগ ধান মাঠ থেকে কেটে ঘরে তুলতে পারেননি কৃষকেরা। এরই মধ্যে বাজারে ধানের দাম কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। কৃষকদের অভিযোগ, শ্রমিক সংকট ও কৃষি যন্ত্রপাতির অভাবে ধান কাটতে দেরি হচ্ছে। অন্যদিকে বাজারে ধানের দাম হঠাৎ কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেক কৃষক বলছেন, ধান কাটার খরচ, শ্রমিকের মজুরি ও সার-বীজের দাম বাড়লেও সেই তুলনায় ধানের ন্যায্যমূল্য মিলছে না। ফুলবাড়ীর উপজেলা এক কৃষক জানান, “এখনও সব ধান কাটতে পারিনি। এর মধ্যেই ধানের দাম কমে গেছে। এতে আমাদের লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।” কৃষকরা দ্রুত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিভাগ

Top Post Ad

Hollywood Movies