নজরুল ইসলাম, পঞ্চগড় ব্যুরো : হাফেজ তিন সন্তান নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলার দক্ষিণ লাঠুয়াপাড়া এলাকার ওয়ালিউল্লাহ মিন্টু ও রূপালী বেগম দম্পতি। তিন সন্তান বাইরে থাকায় নিজের ভাই-বোনদের কাছেই ক্রমাগত হুমকি-ধমকি, মামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেছে পরিবারটি। এমনকি ২৫ এপ্রিল আবারো এই দম্পতির নামে মামলা করলে পুলিশ শনিবার বিকেলে ওয়ালিউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়ান তার স্ত্রী রূপালী বেগম। বুধবার জামিন পান তিনি। এই ফাঁকে এই দম্পতির ঘরবাড়ি হামলা, জমিতে হালচাষ ও শতাধিক বাঁশ কেটে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তারা।
তারা জানান, ২০০৮-৯ সালে ঢাকায় পাড়ি জমান ওয়ালিউল্লাহ মিন্টু ও রূপালী বেগম দম্পতি। সেখানে নিজে রিকশা চালিয়ে এক মেয়ে ও তিন ছেলেকে বড় করে তোলেন। মেয়েটিকে বিয়ে দিয়েছেন আর তিন ছেলে তাজুল ইসলাম, আবু বক্কর ও রাকিবুল ইসলামকে তৈরি করেছেন কোরআনের হাফেজ। করোনাকালে ২০২১ সালে সবাইকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন মিন্টু। বাড়ির পাশের একখণ্ড জমিতে ঘর তোলেন তারা। এ সময় পৈতৃক জমি দাবি করলে তা নিয়ে বড় ভাই মাসুদসহ ভাই-বোনদের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ২০২৪ সালে তাকে ঘরতোলা জমিসহ ১৮ শতক জমি মৌখিকভাবে বুঝিয়ে দেন তারা। মিন্টুর বাবা হবিবর রহমান ও চাচা মফিজুর রহমান খান দুই ভাই মিলে জমি কিনেছিলেন ৩ একর ১৮ শতক। চাচা এলাকায় না থাকায় সুযোগে সব ভোগদখল করছিলেন ভাই মাসুদ, রবিউল ইসলাম ও আমিনার রহমান টিটু। মিন্টু খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তার চাচার ভাগের জমি তাকে নিজের বাবার বলে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে বিরোধ শুরু।
ওয়ালিউল্লাহ মিন্টুর বড় ছেলে হাফেজ তাজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার চাচারা আমার বাবা মাকে নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতন করছে। তারা কৌশলে আমার বাবাকে জেলে পাঠিয়ে আমাদের ঘরবাড়িতে হামলা ও জমিতে হালচাষ করেছে। সব বাঁশ কেটে নিয়েছে। বাড়ি এসে আমরা দেখি আমার বাবা জেলে মা গ্রেপ্তার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমরা এর বিচার চাই।
রূপালী বেগম বলেন, আমার হাফেজ তিন সন্তান নিয়ে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সুযোগ পেলেই তারা আমাদের উপর নির্যাতন করে। আমরা নিরাপত্তা চাই। আমার সন্তানরা বাইরে থাকে। আমি ও আমার স্বামী বাড়িতে থাকি। আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছে, সব বাঁশ কেটে নিয়েছে।
অপরপক্ষের একটি মামলার বাদী মিন্টুর ভাই টিটুর স্ত্রী খাদিজা বেগমের নাম্বার কল করলে তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে তিনি মামলার অভিযোগে বলেছেন, গত ২১ এপ্রিল স্বামীর রোপন করা বাঁশ কাটতে গেলে মিন্টু ও তার স্ত্রী তাদের উপর হামলা করে। তাদের আক্রমনে তিনি, তার সতীন নার্গিস ও দুই মেয়ে বিথী ও হীরা মারাত্মক আহত হয়। তাই আমরা ২৫ এপ্রিল মামলা করি।
ধাক্কামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, ওই পরিবারের জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সমাধানের জন্য একাধিকবার বসেছি কিন্তু সমাধান করতে পারিনি। মামলা পাল্টাপাল্টি মামলা চলছে। ঘরবাড়িতে হামলা ও বাঁশকাটার বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি।
