Type Here to Get Search Results !

মানবতার স্পর্শে ঘুরে দাঁড়ালেন গয়া কাকা

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :বিরামপুর পৌর শহরের বড় মাঠ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ফুচকা, চটপটি ও মাখা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন সবার পরিচিত মুখ ‘গয়া কাকা’। সহজ-সরল এই পরিশ্রমী মানুষটি হঠাৎ অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে পড়লে তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। এর সাথে যুক্ত হয় আরেকটি বড় বিপদ—তার উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ভ্যানটি নষ্ট হয়ে যাওয়া। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে তিনি চরম দুর্দশার মধ্যে দিনাতিপাত করতে বাধ্য হন। পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে ওঠে যে, সংসার চালানোই হয়ে পড়ে অনিশ্চিত। এমন অবস্থায় স্থানীয় কিছু সচেতন ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গয়া কাকার মানবিক কাহিনী তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর দেশ-বিদেশে অবস্থানরত অসংখ্য সহৃদয় মানুষ তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য এগিয়ে আসেন। গয়া দাদার চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় অপারেশনের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন ভিক্টর স্পোর্টিং ক্লাবসহ আরও অনেক মানবিক সংগঠন ও ব্যক্তি। পাশাপাশি বিরামপুর বড় মাঠের খেলোয়াড়, সংগঠক ও সমাজসেবীরা সম্মিলিতভাবে তার চিকিৎসা কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করেন। শুধু চিকিৎসাতেই থেমে থাকেনি সহায়তার হাত। পরবর্তীতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগে গয়া কাকার নষ্ট হয়ে যাওয়া ভ্যানটি মেরামত করে দেওয়া হয় এবং পুনরায় ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় করে তাকে প্রদান করা হয়। এতে করে তার নতুন করে জীবনযুদ্ধ শুরু করার পথ সুগম হয়। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো— গয়া কাকা বর্তমানে আগের তুলনায় অনেকটাই সুস্থ আছেন। সম্প্রতি বিরামপুর বড় মাঠে একটি খেলা চলাকালীন সময়ে তিনি তার ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে আবারও চটপটি ও মাখা বিক্রি শুরু করেছেন। দীর্ঘদিন পর তাকে কাজে ফিরে আসতে দেখে এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ও আনন্দের আবহ তৈরি হয়। এই দৃশ্য উপস্থিত অনেকের মন ছুঁয়ে যায়। একসময় যিনি অসহায় অবস্থায় জীবনযুদ্ধ থামিয়ে দিতে বসেছিলেন, তিনি আজ আবার নতুন উদ্যমে নিজের অবস্থানে ফিরে এসেছেন—এ যেন মানবতার এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত। গয়া দাদার এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি জানানো হয়েছে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। বিরামপুর চাইল্ড কেয়ার ক্যাডেট একাডেমীর পরিচালক মুশফিকুর রহমান, সোনালী স্বপ্ন ক্রীড়া সংঘের সভাপতি ইব্রাহীম মিঞা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ফাহিম সরকারসহ যাদের প্রচেষ্টায় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং সহায়তার দ্বার উন্মুক্ত হয়।
বিভাগ

Top Post Ad

Hollywood Movies