আজম রেহমান,ঠাকুরগাঁও : দীর্ঘ প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে আজ সোমবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে তার প্রথম সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিনে এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকারের মাধ্যমে সেই দাবি পূরণ হয়েছে। আজ ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।
ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আপনারা এই বিশ্ববিদ্যালয়টি দেখে রাখবেন, খেয়াল রাখবেন। আপনাদের আন্তরিকতার জন্য আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনারাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি রেখেছিলেন। সেই দাবি আজ বাস্তবায়িত হয়েছে।
সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২ টায় সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে রাষ্ট্রপতি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের এই জনপদে উচ্চশিক্ষার নতুন দ্বার উন্মোচনের প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
সফরসূচি অনুযায়ী, আজ সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর তিনি জামালপুর এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন।রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। অল্প সময়ের মধ্যে তার নির্দেশনায় ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে যেখানে আমরা এখন জায়গা পেয়েছি, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত জায়গার বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই জায়গা শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁও সুগার মিল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় জমি নেওয়া হবে। এ জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় ও সুগার মিল কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি। রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানসহ যারা এখানে এসেছেন, তাদের প্রতিও আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। তারা অতি অল্প সময়ের মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা ও অবকাঠামোর কাঠামো তৈরি হবে। এর মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের এই এলাকার মানুষের জন্য আজ আনন্দের দিন। আনন্দের দিন এই কারণে যে আমরা একটি সুযোগ পেয়েছি। উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে আমরা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করব। আমরা বিশ্বাস করি, এ এলাকার মানুষ সেই সুযোগ গ্রহণ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে সত্যিকার অর্থে শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন। কর্মসূচি শেষে নিজ বাসভবনে ফিরে মধ্যাহ্নভোজ ও সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম নেবেন। পরে সার্কিট হাউসে গিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে তার।
এর আগে রোববার ৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে স্বাগত জানানো হয় এবং সার্কিট হাউসে দেওয়া হয় গার্ড অব অনার।
সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন। সেখানে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি। এরপর বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নিতে তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন। উপাচার্য এ অঞ্চলের মানুষ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক ছিলেন। তার জন্ম পার্শ্ববর্তী আটোয়ারী উপজেলায়।
তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সদস্যরা, যারা অত্যন্ত উচ্চশিক্ষিত মানুষ, তাদের পরিচালনায় বিশ্ববিদ্যালয়টি দ্রুত এগিয়ে যাবে।রাষ্ট্রপতির নিজ বাসভবনে ফিরে মধ্যাহ্নভোজ ও সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার কথা রয়েছে। পরে সার্কিট হাউসে আনুষ্ঠানিকতা শেষে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে ঠাকুরগাঁও ছাড়বেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মানুষের উন্নতির জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। বেকারত্ব দূর করতে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, হানাহানি ও সংঘর্ষ নয়, আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র যেন আর হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতির এই সফর ঘিরে গতকাল থেকেই উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে ঠাকুরগাঁওজুড়ে। শহরের প্রধান সড়ক, বিভিন্ন মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সাজানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির যাতায়াতের পথ ও কর্মসূচিস্থলে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে অনুষ্ঠানস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে।


