Type Here to Get Search Results !

গাইবান্ধায় নিলাম বন্ধ, ড্রেজিংয়ের বালু লুট

পলাশবাড়ী( গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় বাঙালী নদীর ড্রেজিং প্রকল্প থেকে উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ বালু দীর্ঘদিন নিলাম না হওয়ায় চুরি, লুটপাট ও নদীতে বিলীন হওয়ার ঘটনায় সরকারি রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নিলাম কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সরকারি সম্পদ রক্ষায় চরম অব্যবস্থাপনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় ‘বাঙালী-করতোয়া-ফুলজোর-হুরাসাগর নদীর সিস্টেম ড্রেজিং/পুনঃখননসহ তীর সংরক্ষণ’ প্রকল্পের আওতায় ২০১৯ সালে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধায় ২১৭ কিলোমিটার নদী খনন শুরু হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড খননকাজ সম্পন্ন করে। এর মধ্যে গাইবান্ধার সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জে বাঙালী নদীর ২৪ কিলোমিটার ড্রেজিং শেষে উত্তোলিত বালু ডাইকে সংরক্ষণ করে জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ড্রেজিংয়ে উত্তোলিত বালুর মূল্য নির্ধারণ ও নিলাম কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২০২৩ সালে জেলা মাটি/বালি নিলাম কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং সদস্য সচিব পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী। ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ২২ মে পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে নিলাম অনুষ্ঠিত হলেও এরপর অবশিষ্ট ১২টি প্যাকেজ আর নিলামে তোলা হয়নি। সরেজমিনে দেখা গেছে, সাঘাটার দোহাইল-১ ও দোহাইল-২ ডাইকের বালু প্রায় সম্পূর্ণ উধাও। দাঙাবাড়ি ও কিংকরপুর ডাইকে আংশিক বালু অপসারণের চিহ্ন রয়েছে। অন্যদিকে পাকুরতলা, কিংকর ও গোবিন্দগঞ্জের পারসোনাইডাঙা এলাকার নদীতীরবর্তী ডাইকের বালু নদীতে বিলীন হচ্ছে। কয়েকটি ডাইকে গাছ লাগানো, ঘাস জন্মানো এবং জমির মালিকানা দাবি করে দখলের চেষ্টারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, চুরি, লুটপাট ও নদীতে বিলীন হয়ে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ ঘনফুট বালুর ক্ষতি হয়েছে, যার বাজারমূল্য ৩০ লাখ টাকার বেশি। অতিবৃষ্টিতে আরও বালু নদীতে ভেসে যাওয়ায় রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় বাড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাইবান্ধা উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) ওয়ালিদ আরশাদ রিওন বলেন, আগে কয়েক দফা নিলাম হলেও নদীতীরবর্তী অবস্থান ও পরিবহন সমস্যার কারণে কিছু ডাইক অবিক্রিত ছিল। পুনরায় নিলামের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে ওই বালুর চাহিদা বেড়েছে। তারপরও এক বছরের বেশি সময় ধরে নিলাম না হওয়ায় একটি সিন্ডিকেট দিনে-রাতে সরকারি বালু সরিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। নিলাম কমিটির সদস্য ও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি যোগদানের পর এ বিষয়ে কোনো সভা হয়নি। কমিটির গাফিলতিতে সরকারি সম্পদ লুট হয়ে থাকলে সেটি অবশ্যই উদ্বেগজনক। সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও নিলাম কমিটির সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আল মামুনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়ারেস বলেন, সরকারি সম্পদ লুটপাটের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব ও ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, সরকারি সম্পদ লুটপাট বা চুরির ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কেন দীর্ঘদিন নিলাম হয়নি এবং কারা দায়ী, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
বিভাগ

Top Post Ad

Hollywood Movies