নজরুল ইসলাম, পঞ্চগড় ব্যুরো : পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্তে বিজিবি বিএসএফের মাঝে পুশইন হওয়া লোকজনকে সীমান্ত থেকে সড়ানো নিয়ে তীব্র উত্তেজনা চলছে। রবিবার দুপুর ১২ টা থেকে একটা পর্যন্ত বিজিবি-বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডারদের মধ্যে এই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এসময় পুশইন হওয়া লোকজনকে বাংলাদেশ অংশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। এসময় কোম্পানি কমান্ডারদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা জড়িয়ে পড়ে। বিএসএফ বিজিবি সহ পুশইন হওয়া লোকজনকে সড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি কঠোরভাবে প্রতিহত করে। বিজিবির তীব্র বাধাঁ ও কড়া অবস্থানের কারণে পিছু হটতে বাধ্য হয় বিএসএফ। পরে দিনে দুপুরে সীমান্ত লাইট জ্বালিয়ে দেয় বিএসএফ।
এই ঘটনার পরে দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাড়তি সদস্য মোতায়েন করে। চলছে সীমান্তে সতর্কতা মাইকিং করে বিজিবি । এতে সীমান্তে না যাওয়া এবং বিজিবিকে সহায়তা করতে বলা হয়।
তবে সীমান্ত এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় মানুষজন সীমান্ত এলাকায় এখনো ভিড় করছে বিজিবিকে সহায়তা করার জন্য। কেউবা আসছেন দেখার জন্য।
তবে বিজিবি ও বিএসএফ শূন্যরেখায় সর্তক অবস্থান করছে। বাড়তি সতর্কতা হিসেবে বিজিবি বাংকারে অবস্থান নিয়েছে। বিকেল তিনটায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক। তবে তিনি বিজিবি সদস্যদের সাথে কথা বলে চলে যান।
তবে বিএসএফ তাদের নিতে অস্বীকার করেছে। গত দুই দিনে তিনবার বিওপি, কোম্পানি কমান্ডার ও ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতেও কোন সমাধান মেলেনি।
স্থানীয় মানুষজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিএসএফ অমানবিক আচরণ করছে। তাদের কারণে সীমান্তে পানির মধ্যে ক্ষেতের আইলে ৬০ ঘন্টা ধরে অবস্থান করছে বিএসএফ কর্তৃক ঠেলে দেওয়া ১০ জন ব্যক্তি । তাদের খাবার সহ পানির তীব্র কষ্ট হচ্ছে।
মাধুপাড়া কোম্পানি কমান্ডার আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা বিএসএফের পুশইন ঠেকিয়েছি। কোনভাবেই তাদের আমরা বাংলাদেশে ঢুকতে দিবোনা। আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি।
এরআগে, গত শুক্রবার ভোর রাতে বিএসএফ নারী পুরুষ শিশু সহ ১০ জনকে পুশইন করেছে সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের প্রধানপাড়া বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে। তবে দীর্ঘ ৬০ ঘন্টা ধরে সীমান্তে মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা। এরপর থেকে তারা ক্ষেতের আইলে পানির মধ্যে বসে আছেন। প্লাস্টিক দিয়ে ঘেরা তৈরী করে সেখানেই অবস্থান করছেন পুশইন হওয়া লোকজন।
