Header Ads Widget

পলাশবাড়ীসহ জেলা জুড়ে তীব্র শীতে বাড়ছে রোগবালাই

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধাঃ জেলার পলাশবাড়ীতে তীব্র শীত ও কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পলাশবাড়ীতে স্বাভাবিক জীবনে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে শীত আর কুয়াশা।
গত ৬দিন ধরে এই জনপদে সূর্যের দেখা মিলেনি। শনিবার (১৩ জানুয়ারি) এখানে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল থেকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ছে। সেই সঙ্গে মৃদু শৈত্য প্রবাহের কারণে জনজীবনে দেখা দিয়েছে ভোগান্তি। কর্মজীবী মানুষ পড়েছেন বিপাকে। দরিদ্র দিনমজুর ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী সবচেয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছ। সেই সঙ্গে পশুপাখিও দূরাবস্থার শিকার। শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকেই। সকালের আলোতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে রাস্তায় গাড়ি চলাচল করছে। যদিও রাস্তায় মানুষের সংখ্যা একেবারে কম। শীতের এই তীব্রতা প্রভাব ফেলেছে কৃষকের ধানের বীজতলায়। বেলা গড়িয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ঠাণ্ডা বাতাস। সকাল থেকে সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও সূর্যের দেখা মেলে না। এতে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। ঠাণ্ডায় নাকাল হয়ে পড়ছে ছিন্নমূল, অসহায়, খেটে-খাওয়া দিনমজুর মানুষেরা। 
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও ) বলেন, যেভাবে শীত ও কুয়াশা পড়ছে তাতে শিশু ও বৃদ্ধদের সতর্কতার সাথে রাখতে হবে। শীতজনিত রোগের কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শনিবার পলাশবাড়ী ৫০ শয্যা হাসপাতালে অনেক রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৬ শিশু ও ৬ জন পুরুষ রয়েছেন। আর নিউমোনিয়ায় ৬ এবং শ্বাসকষ্টের রোগী রয়েছেন চারজন। ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালে নানা বয়সী মানুষ ভর্তি হচ্ছে। তাদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যা বেশি। শীতজনিত কারণে গত সাত দিনে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে দেড় শতাধিক শিশু। জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার ১ নং কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের চকবালা গ্রামের রিকশাচালক আমিন বলেন, ‘শীতের কারণে ২-৩ দিন ধরে রিকশা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ঠান্ডার কারণে লোকজন কম বের হওয়ার তেমন যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। তাই আয়ও কমে গেছে।’ রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সকাল ৮টায় গাইবান্ধায় মৌসুমের সর্বনিম্ন ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৭ থেকে ৯৯ ভাগ। 
চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি জেলায় ভারি মেঘের কারণে বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বেশ কয়েক দিন ধরে বয়ে চলা হাড়কাঁপানো শীতে কাবু হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের ১০ লক্ষাধিক মানুষ। রাত নামলে ঘনকুয়াশা পড়ছে। সেইসঙ্গে কনকনে ঠান্ডা বাতাস বয়ছে। গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা জুয়েল মিয়া বলেন, শীতার্ত মানুষের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। এ পর্যন্ত জেলার সাত উপজেলায় ৪৫ হাজার কম্বল বরাদ্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি সহযোগিতায় বিভিন্ন জায়গায় শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।