Home » , » সারের দাম বৃদ্ধিতে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ

সারের দাম বৃদ্ধিতে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 28 August, 2022 | 2:47:00 PM

রবিউল ইসলাম,চিলাহাটি ওয়েব : দেশের সর্ব উত্তরের জেলা নীলফামারীর চিলাহাটিতে এবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অপরদিকে সারের দামও বেশি। হঠাৎ সারের দাম কেজিতে ৬ টাকা বৃদ্ধিতে কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে কৃষকের মাঝে। কৃষকরা বলছেন, চলতি আমন মৌসুমে খরচ উঠবে কিনা এ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। সবচেয়ে সমস্যা বর্গাচাষিদের। তারা বলছেন, কেজি প্রতি সারের দাম বেড়েছে ৬ টাকা। এতে বিঘা প্রতি ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে তাদের। ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এবং অনাবৃষ্টির কারণে এ বছর সেচ দিয়ে ধান রোপণ করতে হচ্ছে। সব মিলে শ্রমিক খরচ ও আনুষঙ্গিক যে খরচ হবে, তাতে চলতি মৌসুমে আমন চাষে তাদের কোনো লাভই হবে না। আবার অনেক সময় দাম দিয়েও চাহিদা অনুযায়ী মিলছে না সার বলে অভিযোগ করেন চাষিরা। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার আমন মৌসুমে এক বিঘা জমিতে খরচ হবে প্রায় ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা। এরমধ্যে ইউরিয়া সার ৩০ কেজি ৬৬০-৬৮০ টাকা, পটাশ ১০ কেজি ২৮০, ফসফেট ১৫ কেজি ৪২০, জিপসাম ১০ কেজি ২২০ টাকা। এছাড়া শ্রমিক, হালচাষ ও রোপণ করতে ৩ হাজার টাকা এবং সেচ খরচ হবে ১ হাজার টাকা। বিগত মৌসুমগুলোতে এক বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ৪ হাজার ৫শ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অর্থাৎ এবার সার এবং সেচ খরচে অতিরিক্ত গুণতে হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা। কেতকীবাড়ী গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘এবার দুই বিঘা জমিতে জমিতে ধান চাষ করছি। এরই মধ্যে দেড় বিঘা জমিতে ধান রোপণ শেষ হয়েছে। হঠাৎ করে সারের দাম ৬ টাকা বেড়ে গেছে। দাম বেড়ে যাওয়ায় খুব টেনশনে আছি। এছাড়াও ডিলার ইচ্ছা মাফিক সারের দাম নেবে। এতো বেশি টাকায় সার কিনে আবাদ করা সম্ভব নয়।’ আরেক কৃষক গ্রামের কৃষক ইউনুস আলী বলেন, ‘আমন ধান মূলত বৃষ্টিনির্ভর। কিন্তু যে ধানের চারা রোপণ করবো সেই সময় বৃষ্টি ছিল না। বাধ্য হয়ে সেচ দিয়ে ১ বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছি। সারের দাম বাড়ানোয় উৎপাদন খরচ যেভাবে বাড়বে, সেই তুলনায় তো আর ধানের দাম পাবো না। ফলে লোকসানের বোঝা বাড়বে।’