Home » » প্রথমবারের মত খানসামায় ট্রেতে বীজতলা

প্রথমবারের মত খানসামায় ট্রেতে বীজতলা

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 12 January, 2022 | 5:21:00 PM

এস.এম.রকি,খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ প্রথমবারের মতো দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রকীকরণ প্রকল্পের আওতায় সমালয় চাষাবাদ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আধুনিক পদ্ধতিতে ধানের ফলন বৃদ্ধিসহ একযোগে কর্তন করার লক্ষ্যে ট্রেতে বীজতলা তৈরি কার্যক্রম শুরু করেছে কৃষক-কৃষাণীরা। উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব গোবিন্দপুর এলাকায় বুধবার (১২ জানুয়ারী) সকালে অটোমেটিক রাইস সিটলিং প্লান্টারের মাধ্যমে ট্রেতে চারা উৎপাদন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বাসুদেব রায়। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খানসামা সূত্রে জানা যায়, ট্রে পদ্ধতিতে চারা কুয়াশা বা শৈত্যপ্রবাহে নষ্ট হয় না। বরং চারাগুলো সুস্থ ও সবল হয়। বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে যেভাবে ফসলি জমি কমতে শুরু করেছে, এমতাবস্থায় ট্রে পদ্ধতি সময়োপযোগী। এই আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারে ট্রেতে চারা উৎপাদনের ফলে ধানের উৎপাদন খরচ কম, শ্রমিক সংকট দূর এবং সময় সাশ্রয় হবে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৃষি বিভাগের সহায়তায় চলতি মৌসূমে পূর্ব গোবিন্দপুর এলাকায় ৫০ একর জমিতে ব্রি-ধান ৮৯ জাতের ধান চাষ করা হচ্ছে। এ কারণে মাঠে ২২০০ ট্রেতে বীজ বপন করা হয়েছে। এ বছর ট্রেতে বীজতলা, যন্ত্রের মাধ্যমে চারা রোপণ, কম্বাইন্ড হারভেস্টারের মাধ্যমে ধান কাটা ও মাড়াই হবে। অর্থাৎ এ বছর আধুনিক পদ্ধতিতেই কৃষি কাজ সম্পন্ন হবে। এ পদ্ধতিতে চাষিরা কম খরচে তাদের ধান সহজেই ঘরে তুলতে পারবেন। আধুনিক পদ্ধতিতে এই প্রথমবার চারা তৈরির কাজ সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন কৃষি বিভাগ। অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার জানান, সনাতন পদ্ধতিতে চারা রোপণ করলে ৩৫-৪০ দিনের চারা রোপণ করতে হয়। আর ট্রেতে পরিমাণ মতো জৈব সার ব্যবহার করে বীজতলা তৈরীর করার পর তা ২৫ থেকে ৩০ দিন পর মাদুরের মতো করে তোলা যায়। এরপর রোপণ যন্ত্র রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে মাঠে রোপণ করা হয়। এই পদ্ধতিতে দুজন শ্রমিক একটি রোপণ মেশিন দিয়ে দিনে প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে ধানের চারা রোপণ করতে পারেন। তিনি আরো জানান, অত্যাধুনিক এ প্রযুক্তি কৃষকদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে পারলে সনাতন পদ্ধতির চেয়ে ধান চাষে ফলন বাড়ে ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ। এ পদ্ধতি জনপ্রিয় করা গেলে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি চাল রপ্তানির ক্ষেত্রেও দারুণ অগ্রগতি হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বাসুদেব রায় জানান, সহজেই কৃষকের ফসল উৎপাদন করার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া এ কার্যক্রমে সহজে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকদের অধিক ফলন ঘরে তোলা সম্ভব এবং সাশ্রয় কম হবে। তিনি আরো বলেন, প্রথম বারের মত খানসামা উপজেলায় ৫০ একর জমিতে বোরো ধানের সমালয়ে চাষাবাদ লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। আশা করছি ভালো ফলাফল আসতে পারে। সেই লক্ষ্য নিয়ে আন্তরিকতার সাথে কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।