Home » » বিরামপুরে ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য বিনা পয়সার হোটেল

বিরামপুরে ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য বিনা পয়সার হোটেল

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 17 October, 2021 | 11:01:00 PM

মিজানুর রহমান মিজান, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি, চিলাহাটি ওয়েব : ক্ষুধার্ত পথচারী ও হতদরিদ্র মানুষকে ডেকে খাবার খাওয়ান দিনাজপুর জেলার বিরামপুরের হাজী হোটেলের মালিক বেলাল মল্লিক। প্রতি বৃহস্পতিবার প্রায় ২০০ অসহায় ক্ষুধার্ত মানুষকে খাবার খাওয়ান তিনি। ব্যবসার পাশাপাশি অনাহারি মানুষের মুখে খাবার তুলে দিয়ে শান্তি খুঁজে পান। প্রায় ৫ বছর ধরে তিনি এই মানবিক কাজটি করছেন।
বিরামপুর পল্লবী মোড়ের হাজী হোটেলে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষুধার্তরা দুই একজন করে অন্যান্য ক্রেতাদের সঙ্গে বসে বিনা পয়সায় খবার খাচ্ছেন। এছাড়াও প্রতি বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত প্রায় ২০০ জন অসহায় মানুষকে খাবার খাওয়ান হোটেল মালিক। পরম যত্ন সহকারে তাঁদের খাবার পরিবেশন করেন হোটেল কর্মচারীরা। আবার এসময় ভাত-তরকারি নিজ হাতে তুলে খাওয়ান বেলাল মল্লিক। খাবারের তালিকায় থাকে সাদা ভাত, গরুর মাংস, মুরগির মাংস, ছোট মাছ, সবজি, ডাল এবং মাঝে মধ্যে খিচুড়িও থাকে। 
বৃহস্পতিবার ছাড়াও যে কোনো সময় কোনো ক্ষুধার্ত মানুষ তাঁর হোটেলের সামনে দাঁড়ালে সবার আগে তাঁকে ডেকে পেট ভরে খাবার খাওয়ায়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি হোটেল কর্মচারীরাও সযত্নে এসব ক্ষুধার্তদের সেবা করেন। অসহায় একজন বৃদ্ধ বলেন, ‘আমার বাড়ি জোতবানি, সকালে পেটের দায়ে বাড়ি থেকে বেড় হয়েছি। দুপুর হয়ে গেছে ক্ষুধা লেগেছে, এই বাবাজির হোটেলে আসলাম। অনেক যত্ন করে খাবার দিচ্ছে। বিরামপুরে আসলে আমাকে খাওয়ার চিন্তা করতে হয় না। এই হোটেলের মানুষ আমাকে খেতে দেয়। আল্লাহপাক এই বাবাজির অনেক ভালো করবেন।’ আরকেজন বৃদ্ধা বলেন, ‘হারা গরীব মানুষ ভিক্ষা করে খাউ, খিদা লাগলে এ্যাটেকুনা আসি, এ্যামরা হামাক পেট ভরে খাবার দেয়। আবার বৃহস্পতিবার করে এ্যাটে হামার খাবার রেডি থাকে।’ হোটেলের কর্মচারী সোহেল। কাজ করছেন অনেকদিন যাবত। তিনি বলেন, ‘আমার হোটেল মালিকের অর্ডার আছে বৃহস্পতিবার ছাড়াও যে কোনো দিন মানুষ খেতে চাইলে খেতে দিতে হবে। তাই যদি কোনো ক্ষুধার্ত মানুষ আসেন। তাহলে সবার আগে তাঁকে খেতে দেই।
 হোটেল মালিক বেলাল মল্লিক বলেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য। ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে আহার তুলে দিলে আল্লাহ খুশি হন। কেননা ওসব ক্ষুধার্ত মানুষের মাঝেও তো আল্লাহ থাকেন। তাছাড়াও অনাহারি মানুষের কষ্ট দেখলে আমার খুব কষ্ট হয়। তাই ব্যবসার পাশাপাশি যতটুকু পারি অসহায় মানুষের সেবা করি। প্রতি বৃহস্পতিবার তাদের যখন নিজ হাতে খাবার খাওয়াই, তখন একটা আলাদা সুখ অনুভব করি। আমার ইচ্ছা আছে, যতদিন বেঁচে থাকবো, ততদিন এসব অনাহারি মানুষের মুখে আহার তুলে দেবো।