Home » » অসচ্ছল ব্যক্তিদের কার্ড দেওয়ায় বিপাকে ইউপি চেয়ারম্যান

অসচ্ছল ব্যক্তিদের কার্ড দেওয়ায় বিপাকে ইউপি চেয়ারম্যান

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 21 September, 2021 | 11:02:00 AM

চিলাহাটি ওয়েব ডেস্ক : নীলফামারী জেলাের ডোমার উপজেলার গোমনাতী ইউনিয়নের ভিজিডি কার্ডে ২ ইউপি সদস্য আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সচ্ছল ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় ৭ টি ভিজিডি কার্ড স্থগিত করে প্রকৃত অসচ্ছল ব্যক্তিদের নামে কার্ড দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান। অপরদিকে ওই দুই ইউপি সদস্যের সাতটি কার্ড স্থগিত হওয়ায় তাদের প্ররোচনায় ৭ জন নারী ডোমার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে, গোমনাতী ইউনিয়ন পরিষদে ২০২১/২২ অর্থ বছরে প্রত্যেক ইউপি সদস্যে ১৪টি করে কার্ড বরাদ্দ পায়। এর মধ্যে ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য জাহিদুল ইসলাম ও ফারুক হোসেন দুলাল তাদের কার্ডে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পায় ইউনিয়ন ভিজিট কমিটি।
পরবর্তীতে দুই দফা মিটিংয়ে ওই দুই ইউপি সদস্যকে একাধিকবার ডাকা হলেও তারা মিটিংয়ে না আসায় ইউনিয়ন ভিজিডি কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইউপি সদস্যের ৭ টি কার্ড স্থগিত করে অনলাইনে অপেক্ষামান তালিকা থেকে যাচাই-বাছাই করে অসচ্ছল ও হতদরিদ্রদের ৭টি কার্ড দেওয়া হয়। যা ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশন ভিজিডি কমিটির সকল সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে শুধুমাত্র ওই দুই ইউপি সদস্যে স্বাক্ষর ছাড়া । পরবর্তীতে ইউপি সদস্যের ৭ টি কার্ড বাতিল হলে তারা মরিয়া হয়ে উঠে। ওই ৭ নারীকে নিয়ে চেয়ারম্যানকে হেও করার জন্য সংবাদ সম্মেলন করে যাতে বুঝাতে চায় নতুন ৭টি কার্ডে চেয়ারম্যান টাকা নিয়েছে।
ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন দুলাল জানায়-আমাকে কোন ভিজিডি কার্ডের ভাগে দেননি চেয়ারম্যান,কোন ভিজিডি কার্ডেই পাইনি আর টাকা নিব কিভাবে? তবে আমাকে চূড়ান্ত তালিকায় পনেরোটি টিক চিহ্ন দিতে বলেছে। আমার ওয়ার্ড এর সব কার্ড ফাইনাল হলেও চারটি নাম বাদ পড়েছে। আমি মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে গিয়ে দেখি চূড়ান্ত তালিকায় আমার ওয়ার্ড এর চারটি নামও রয়েছে। ওই চারটি নাম চেয়ারম্যানের কাছে চাইতে গেলে তা না দিয়ে বিভিন্ন মহলে বলেছে আমরা নাকি কার্ডের জন্য টাকা নিয়েছি।
ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম জানান- টাকা নিয়ে কার্ড দেয়ার ব্যাপারটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। চেয়ারম্যান কার্ড দিবে না দুর্নীতি করবে, আমার ওয়ার্ড এর কার্ড কেটে অন্য জায়গায় দেয় তাহলে দুর্নীতিটা আমি করছি না তিনি করেছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ বলেন- সরকারি নীতিমালা মেনে ভিজিডি কার্ডের তালিকা আমরা প্রস্তুত করেছি। ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্যের কিছু কাজ স্থগিত হওয়ায় তারা আমার নামে মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছে। সামনে নির্বাচন তাই কিছু কুচক্রী মহল আমার নামে এসব মিথ্যা রটাচ্ছে।
ডোমার উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জানান- এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি ডোমার উপজেলা থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি তদন্ত করেছেন, খুব শীঘ্রই তদন্তে জানা যাবে আসল সত্যতা।