Home » » বিরামপুর সীমান্তে দুই দেশ মিলে একাকার

বিরামপুর সীমান্তে দুই দেশ মিলে একাকার

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 16 June, 2021 | 10:46:00 PM

মিজানুর রহমান মিজান,বিরামপুর(দিনাজপুর) প্রতিনিধি, চিলাহাটি ওয়েব : দিনাজপুর জেলার ভারতীয় সীমন্তবর্তী বিরামপুর উপজেলায় দিন-দিন বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। সেই সঙ্গে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।
 সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের মানুষের অবাধ চলাফেরার কারণে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ ও করোনায় আক্রান্ত মৃত্যুর সংখ্যা। বিরামপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের লোকজন ভারতীয়দের সঙ্গে অনেকটাই মিলে-মিশে বসবাস করছে। তাঁরা ইচ্ছেমতো ভারতে প্রবেশ করছে। আবার ভারতীয়রাও ইচ্ছেমতো বাংলাদেশে আসছে। এ কারণে চলতি জুন মাসের শুরু থেকেই বিরামপুর উপজেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে হু-হু করে বেড়েই চলছে। জনসমাগম সরকার এরই মধ্যে নিষিদ্ধ করা, ভিনদেশীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপাসহ নানা কর্মসূচি নিলেও। ঐ এলাকার মানুষ-জন এগুলো মোটেও মানছে না। এই এলাকার অনেকেরই করোনা ভাইরাসের সম্পর্কে নেই কোনো ধারণাও। ফলে সংক্রমণের হার দিন-দিন বেড়েই চলছে। জানা যায়, বিরামপুর উপজেলার প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা সীমান্ত ঘেঁষা। এই ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে সীমান্তের নজরদারির জন্য রয়েছে বিজিবি’র পাঁচটি ক্যাম্প। এর মধ্যে বেশ কিছু গ্রাম রয়েছে প্রায় উন্মুক্ত। শুধু একটি নালা, খাল, সীমান্ত পিলার কিংবা কাঁটা তাঁরের বেড়া ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পার্থক্যের চিহ্ন এঁকে দিয়েছে। গ্রামগুলোর ভারতীয় অংশে প্রায় ২০০ থেকে ৪০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে রয়েছে কাঁটা তারের বেড়া। এই কাঁটা তারের বেড়ার ফাঁক দিয়ে ভারতীয় মানুষ বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশের মানুষ ভারতে অবাধে প্রবেশ করছে। নেই কোনো পার্সপোর্ট-ভিসার বালাই। সীমান্তে ভারতীয় অংশের গ্রাামগুলো হলো- কোঁচপাড়া-হিন্দুপাড়া, উচা গোবিন্দপুর-নিচা গোবিন্দপুর, জামালপুর, ছিরামপুর, ভীমপুর, হামলাকুড়ি, চাপড়া ও কৈতাড়া। অন্যদিকে বাংলাদেশ অংশের গ্রামগুলো হলো চৌঘরিয়া, দক্ষিণ দামোদরপুর (বাসুপাড়া), গোবিন্দপুর, দক্ষিণ দাউদপুর, পলিখিয়ার মামুদপুর, খিয়ারমামুদপুর (কসবা), ভাইগড়, হামলাকুড়ি, চাপড়া ও খিয়ারদুর্গাপুর(কৈতাড়া)। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বিরামপুর উপজেলার ৫নং বিনাইল ইউনিয়নের হামলাকুড়ীঁ ও ২নং কাটলা ইউনিয়নের দামোদরপুর (বাসুপাড়া), দক্ষিণ দাউদপুর (জোলাপাড়া), গোবিন্দপুর । সেখানে ভারতের মানুষ বাংলাদেশে ও বাংলাদেশের মানুষ ভারতে অবাধে প্রবেশ করছে। সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে বিজিবি’র সীমান্তরক্ষা পোস্ট মাত্র ১০০ গজ দুরে। আর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ’র) পোস্ট রয়েছে কাটা তাঁরের বেড়ার ওপারে। হামলাকুড়ী ও দক্ষিণ দাউদপুর একেবারে সীমান্ত ঘেঁষে ভারতের অভ্যন্তরে নামাজের জন্য তৈরি করা হয়েছে মসজিদ। সেখানে উভয় দেশের মানুষ এক সঙ্গে নামাজ আদায় করছে। শুধু তাই নয়- ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের নামাজও তাঁরা এক সঙ্গে জামায়াতে আদায় করেন। এলাকাবাসী জানান, এসব এলাকার অনেক বাংলাদেশি ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে এবং ভারতীয়রা বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন। সেই সঙ্গে ভারতের অনেক ছেলে-মেয়ে বাংলাদেশের প্রাথমিক বা মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে। বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, করোনা প্রাদুর্ভাবে বিরামপুর উপজেলায় সর্বমোট ৩৭৩ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। 
গত রবিবার সকাল থেকে সোমবার পর্যন্ত ২৩ শনাক্ত হয়েছেন। এটি করোনার শুরু থেকে সর্বোচ্চ শনাক্ত বলে জানা যায়। তা ছাড়া গত এক সপ্তাহ মারা গেছে চারজন করোনা রোগী। এ নিয়ে এই বিরামপুরে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা: মো: শাহারিয়ার ফেরদৌস হিমেল বলেন, ভারতীয় সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় এখানে করোনা সংক্রমণের হার দিন-দিন বাড়ছে। তা ছাড়াও এলাকার মানুষ চলাফেরায় ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনেক উদাসীন। করোনা থেকে নিরাপদে থাকতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি সকলকেই তাঁদের সচেতন হতে হবে। এ বিষয়ে ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক(সিও) লে. কর্ণেল মো: শরিফ উল্লাহ আবেদ বলেন, বিরামপুর সীমান্ত এলাকাটি অবশ্যই অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। তবে আমি আমার অধীনস্থ সকল বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডারদের সর্তকতার সহিত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছি এবং আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। সীমান্তের কোনো এলাকা দিয়ে কোনো ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করলে সঙ্গে সঙ্গেই আমরা তাঁদের আইনের আওতায় নিয়ে আসছি।