Home » » পাপিয়া আক্তার এর দু'টি কবিতা

পাপিয়া আক্তার এর দু'টি কবিতা

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 28 February, 2021 | 12:02:00 AM

এখানে প্রবেশ নিষেধ 
= পাপিয়া আক্তার = 
কুড়িটা বসন্ত দাঁড়িয়ে থেকেছি অপেক্ষায়
তোমার ঐ নিভৃত চরণের শব্দ শুনবো বলে
অপেক্ষায় পাথর হয়ে গেছি তবুও --
শব্দ শুনতে পাইনি এক বিন্দুও।
 
বৃক্ষের ডালে মাথা রেখে ভেবেছি হয়তো
এ তোমারই অবারিত কাঁধ,
ভরষা করেছি তবুও কখনো বলে উঠেনি-
"এবার তো ওঠো, অনেকক্ষন তো হলো"
কখনো আবার ঝাপটে ধরেছি আবেগের বশে।
 
কতোকাল ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে আছি
কী ভীষণ আগ্রহ নিয়ে চেয়ে থেকেছি
তুমি ফিরেও তাকাওনি!
ভালবাসার নিবেদন অগ্রাহ্য করেছো
অনাহূত অযুহাতে বিদীর্ণ করেছো কমল হৃদয়
গভীর সুক্ষ্ম নীরব আঘাতে।
 
এই শহরের চড়ুই পাখিরাও জানে,
আমি কার অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছি।
 সন্ন্যাসীনীর মতো হাহাকার করে উঠি;
দেখা দাও..দেখা দাও...পরমুহূর্তেই চোখ মুছি।
অনড় বিশ্বাসে অপেক্ষা করতে করতে
পায়ে শিকড় গজিয়েছে তবুও
আমার অপেক্ষার অন্ত মিলেনি।
 
 আমি চুল বাঁধিনি বহুকাল--
দেইনি চোখে কাজল,কপালেও টিপ পরিনি
রঙীন ভাবে সাজাইনি নিজেকে।
শুধু তোমার ভালবাসায় সুন্দর হতে চেয়েছি
বলে-আলুথালু বেশে থেকেছি-
চৈত্রের খড়া রোদে আজও অপেক্ষায়।
 
আমি যখন রবীন্দ্র কাব্য পড়ে ভীষন আবেগে
তোমায় এঁকেছি কল্পনায়,তোমাকে না
পাওয়ার সর্বনাশা শূণ্যতায় ভালবাসার জন্য
যখন আমি মরেছি প্রচন্ড তেষ্টায় --
তখন তোমার দরজার ঝুলন্ত সাইনবোর্ডে
লিখে দিয়েছো-"এখানে প্রবেশ নিষেধ!"
আহহ! আজও হয়ে রইলাম পাথর।
 
ভাল থাকুক ভালবাসা 
= পাপিয়া আক্তার =
বক্ষ প্রসারিত করে সঁপে দিলাম আমার
আমিকে,এক বুক শ্বাস আর প্রশস্ত বাহু
দিলাম ছড়িয়ে তোমাকে,হোক যা হবার।
হয়তো,বয়ে যাবে কালবৈশাখী কিংবা
বাঁধভাঙা বন্যা।বেদনারা আজ অঝোরে
অন্তঃসলিলা হয়ে মনের ভিতর বয়ে চলুক
আঘাতে-আঘাতে তিরতির করে, তবু
তোমার ঠোঁটে বিজয়ের হাসি-ই থাক।
 
তীর ছোঁড়ো আমার বিরাণ শূন্য বক্ষে
রক্তাক্ত করো আমার বেদনাহত হৃদয়কে
 শূলে চড়াও আমার অন্তর আত্মাকে।
কেটে টুকরো টুকরো করে সাগরে ভাসাও
একটু শান্তি খোঁজার অনুসন্ধিৎসু মনকে।
কষ্টগুলো সব আমার উপর বয়ে যাক
তবুও পৃথিবীর সব সুখ তোমার-ই থাক।
 
 চাপা কান্নাগুলো ছটফট করে মরুক
কষ্টগুলো জমে-জমে পাহাড় হয়ে যাক
 চোখের কাজলে ভিজে যাক বালিশ
জলে ভেজা চোখ দুটো অন্ধ হোক।
অনলে পুড়ে ভস্ম হয়ে ছাই হয়ে যাই
দুঃখরা আচ্ছাদন হয়ে থাক আমৃত্যু
তবুও সমস্ত ভাল লাগা তোমার-ই থাক।
 
 আমার অধিকারের টুটি চেপে ধরো
চপেটাঘাত করো প্রতিটি চাওয়ার পিঠে
অবুঝ মনে বাণ মারো,আমার ধৈর্য্যের
চামড়া করাতে ছিড়ে নুন ছিটাও তাতে।
সূর্য যেভাবে দিনশেষে দাঁতে দাঁত চেপ
সয়ে যায় সূর্যাস্তে নিজের পরাজয়-
আমিও না হয় পরাজয়ের মুকুট পড়বো
তবুও জয়ের মুকুট তোমার-ই থাক।
 
 আমার ক্ষত পাঁজর যন্ত্রণাতে মরুক-
মাথার উপর পুরো আকাশটা ভেঙে পরুক
বুকের খা খা মরুভূমিতে আর্তনাদ গুলো
গুমরে কাঁদুক।কষ্টের তাপদাহে হাজারও
খন্ডে খন্ডিত হৃদয়ে টিপ টিপ করে ফোঁটায়-
 ফোঁটায় রক্তের ঝর্ণা ঝড়ুক।তবুও আমার
রাজ্যের সিংহাসন চিরকাল তোমার-ই থাক।
 
 অমৃত চাইনা আমি,বিষ দাও আমায়
তোমার আনন্দ উল্লাসের বাদ্য বাজাও
নৃত্যের তালে তালে ছন্দ তোলো আর
আমার হাসির অন্ধকার কবর খোঁড়ো।
ঘৃণা আর অপবাদের চিতা জালাও
কন্ঠণালী চেপে ধরো সজোরে যেনো,
রা......শব্দ বেরুতে না পারে। আমার
বাগানে কখনো বসন্ত আসতে দিওনা
সেথায় চাষ করো নিন্দার আর ধিক্কার।
তবুও অন্যের বুকে চিরদিন সুখে-ই থাক।