Home » » পৈত্রিক সম্পত্তি উদ্ধারে প্রশাসনসহ সাংবাদিকদের দ্বারস্থ শ্যামল সরকার

পৈত্রিক সম্পত্তি উদ্ধারে প্রশাসনসহ সাংবাদিকদের দ্বারস্থ শ্যামল সরকার

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 29 January, 2021 | 5:24:00 PM

বিশেষ প্রতিনিধি, চিলাহাটি ওয়েব : প্রভাবশালীদের দখলে থাকা কয়েক কোটি টাকার পৈত্রিক সম্পত্তি উদ্ধারসহ ফিরে পাওয়া আশায় উপজেলা প্রশাসনসহ সাংবাদিকের দ্বারস্থ হয়েছেন এক ভূমিহীন পরিবার। আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় পরিবার পরিজন নিয়ে পার্বতীপুর মিডিয়া কর্ণারে এক সংবাদ সম্মেলনে ভূমি উদ্ধারে সংবাদকর্মীদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন অবসরপ্রাপ্ত রেল কর্মচারী শ্যামল কুমার সরকার (বাবলু)। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা মমতা ময়ী জননী মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা, মুজিব বর্ষ উপলক্ষে যখন ভুমিহীনদের বাড়ী নির্মাণ করে দিচ্ছেন আর আমি আমার পৈত্রিক সম্পত্তি উদ্ধার করে বসবাস করতে পারব না? এটা ভাবতে অবাক লাগছে। 
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন প্রভাবশালীরা আমার পিতার নামীয় জমিতে নির্মাণ করেছেন বিভিন্ন অবকাঠামো। এসব জমির খোজ খবর নিতে গিয়ে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে চলে এেেসছি পার্বতীপুরে। রেল কর্মচারী শ্যামল কুমার সরকার জানান, তার বাড়ী গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর গ্রামে। নদী ভাঙ্গনের কারনে তারা গৃহহীন হয়ে পড়লে পক্ষাঘাতগ্রস্ত পিতাকে নিয়ে তিনি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে চলে আসেন। রেলে চাকুরী হওয়ার সুবাদে পার্বতীপুরের বাবুপাড়ায় সরকারী বাসায় বসবাস শুরু করেন। কিন্তু তার বাবার নামীয় রেখে যাওয়া গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ পৌর এলাকায় তার বাবার ৪৯ শতক জমিতে দহবন্দ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় এবং বিএস গোডাউন নির্মিত হয়েছে। এছাড়াও আবু বক্কর সিদ্দিক ৮শতক, পারভিন আকতার ৫.৫শতক, আমেনা বেগম ১৬শতক, শিমুলী বেগম ৫.৫শতক, আঞ্জুমানয়ারা বেগম ১১ শতক জমি দখলে রয়েছে। তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সকারী কমিশনার (ভূমি) এর নিকট পৃথক পৃথক ৫টি খারিজ বাতিল চেয়ে দখলকারী ইসহাক ভূইয়া, আব্দুল জব্বার সরকার, আব্দুল মালেক মিয়া, আব্দুর রশিদ ও পারভীন আক্তারের বিরুদ্ধে আবেদন করেছে। 
অপরদিকে, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জমি দখলকারী আবু বকর, পারভীন আক্তার, আমেনা বেগম শিমুলী বেগম ও আঞ্জুমানারা বেগম ও দহবন্দ ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নিকট আবেদন করলেও বিষয়টির কোন সুরাহা হয়নি। আমি জমি উদ্ধারের জন্য সুন্দরগঞ্জ গেলে কয়েকজন অচেনা যুবক আমাকে অনুসরন করে নানা ভাবে এলাকা ছাড়ার হুমকী প্রদান করেছেন। উপজেলার সুন্দরগঞ্জ দহবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কবির মুকুল বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অভিযোগকারী আমার কাছে আসলে আমি তাকে সার্বিক সহযোগিতা করবো। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও চলতি দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আল-মারুফ বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শ্যামল কুমার সরকারের স্ত্রী কল্পনা সরকার, ছেলে চন্দন কুমার সরকার, পুত্রবধু সমাপ্তি সরকার ও নাতি অরূপ ও দ্বিপন।