Home » » ঠাকুরগাঁওয়ে কিশোর হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় একজনের যাবজ্জীবন- ১০ জনকে বেকসুর খালাস

ঠাকুরগাঁওয়ে কিশোর হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় একজনের যাবজ্জীবন- ১০ জনকে বেকসুর খালাস

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 04 October, 2020 | 10:29:00 PM

মাহমুদ আহসান হাবিব, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রশিদুল ইসলাম (১৬) নামে এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে শহিদুল ইসলাম বুলু (৫৯) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল রোববার দুপুরে ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বি এম তারিকুল কবীর এ রায় প্রদান করেন। এছাড়াও ওই মামলার অপর আসামী বাহাদুর আলীর(৫৯) বিরুদ্ধে ৩২৩ ধারার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড ও ৫শ টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেয়া হয়। দ-প্রাপ্ত শহিদুল ইসলাম বুলু(৫৯) উপজেলার দক্ষিন রাজাগাঁও গ্রামের মৃত জাকারিয়ার ছেলে এবং বাহাদুর আলী একই গ্রামের সংলু কশাইয়ের ছেলে। এছাড়াও আসামী আশরাফুল ইসলাম,মোস্তাফিজুর রহমান ,খাদেমুল ইসলাম,একরামুল হক,শাহাদুর ,সলিম উদ্দীন ওরফে সংলু কশাই,রজব আলী,শামীম হোসেন,শাহিনুর মোছা ফরিদা বেগম সহ ১০জনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত না হওয়ায় তাদেরকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১ জুন সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে মামলার বাদী সিরাজুল ইসলাম তার ২ সহোদর ভাই শাহালম ও রশিদুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির অনতিদূরে রাজাগাঁও মৌজায় পৈত্রিক জমিতে হাল চাষ করতে যায়। এর কিছুক্ষন পর দন্ডিত আসামীরা বে আইনী জনতায় দলবদ্ধ হয়ে লাঠি সোটা লোহার রড সহ অবৈধ অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদীকে হালচাষে বাঁধা দেয়।বাদী তাদের বাঁধা দেওয়ার কারণ ও মালিকানার পক্ষে কাগজ দেখতে চাইলে আসামী শহিদুল ইসলাম বুলুর হংকারে আসামীরা বাদীর উপর চড়াও হয় এবং এলাপাথারী মারপিট শুরু করে।বাদীকে মারপিট করায় তার অপর ২ ভাই তাকে রক্ষার জন্য এগিয়ে গেলে তারা তাদের উপরও হামলা চালায় এবং এলোপাথারী মারপিট করতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা আহতদের উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরদিন ২ জুন বিকেল ৪ টায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রশিদুল ইসলাম মারা যায়। এ ঘটনায় মৃতের বড় ভাই সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৬ জনকে আসামী করে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০০৭ সালের ২৬ এপ্রিল তদন্ত শেষে ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জসীট দাখিল করেন। বাদীর অভিযোগ,পুলিশের চার্জসীট ও সাক্ষীদের সাক্ষ্যপ্রমাণে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় আদালত উপরোক্ত রায় ঘোষনা করেন।