Home » » দিনাজপুরে ২৮ বছর ধরে আতর বিক্রি করেন আব্দুল জলিল

দিনাজপুরে ২৮ বছর ধরে আতর বিক্রি করেন আব্দুল জলিল

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 24 October, 2020 | 9:59:00 PM

দিনাজপুর প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব :দিনাজপুরে ২৮ বছরধরে আতর বিক্রি করেন আব্দুল জলিল। প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকলেই যে শত কষ্টের মাঝেও মানুষের সেবা করা যায় তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দিনাজপুরের আতর বিক্রেতা আব্দুল জলিল। দিনাজপুর জেলা শহরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় পায়ে হেঁটে আতর বিক্রি করেন তিনি। তাতে যে অর্থ উপার্জন হয় তার অর্ধেক পরিমাণ অর্থের আতর লোকজনকে মাখিয়ে বেড়ান তিনি। এ জন্য এলাকার মানুষ তাকে ভালবেসে নাম দিয়েছেন ‘আতর জলিল’।
আব্দুল জলিল প্রায় ২৮ বছর ধরে পায়ে হেঁটে দিনাজপুর শহরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার অলিতে-গলিতে আতর বিক্রি করে বেড়ান। তাঁর হাতে সবসময় একটি আতরের বোতল থাকে। তবে কেউ আতর কিনুক বা না কিনুক, সামনে যাকেই পান তাকেই হাসিমুখে আতর মাখিয়ে দেন তিনি। পথে মানুষের কোন জটলা দেখলে সেখানেই পসরা সাজিয়ে বসে পড়েন তিনি। সবাইকে আতর মাখিয়ে দেন। আবার হাঁটতে হাঁটতে কখনও ক্লান্ত হয়ে পড়লে রাস্তার পাশে জিরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি আতরের পসরা সাজিয়ে বসেন।আব্দুল জলিলের নিকট থেকে কেউ আতর কেনেন বা না কেনেন তাতে কিছু যায় আসে না। লাভ হলো কিনা সেদিকেও খেয়াল রাখেন না তিনি। দিনশেষে হিসেব করে দেখেন কত লাভ হলো, আর সেই লাভের অর্ধেক টাকার আতর পরের দিন মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেন। আব্দুল জলিলের দাবি প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক মানুষকে আতর মাখিয়ে দেন। নামাজের সময় হলেই চলে যান মসজিদে, সেখানেও সব মুসল্লিকে আতর মাখিয়ে দেন তিনি।দিনাজপুর সদর উপজেলার নয়নপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল জলিল। তাঁর বয়স প্রায় ৬১ বছর। স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ের টানাটানির সংসার আব্দুল জলিলের। তবুও লাভের অর্ধেক টাকার পরিমাণ আতর মাখিয়ে বেড়ান তিনি। এভাবে সুগন্ধি ছড়ানোয় গর্বিত পরিবারের সদস্যরা। এই মানুষটি এলাকার বেশ পরিচিত মুখ। যিনি কখনো লাভের হিসেব করেন না। তাই ভালবেসেই পরিচিতি পেয়েছেন ‘আতর জলিল’ হিসেবে।আব্দুল জলিলের জানান, নবীর সুন্নত ও ভালবাসা থেকেই মানুষকে আতর মাখিয়ে বেড়ান। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত আয়ের অর্ধেক অর্থ দিয়ে এভাবেই সবাইকে আতর মাখাতে চান তিনি। সবচেয়ে ভালো আতরই বিক্রি করেন তিনি। 
এই বিশ্বাস থেকেই মানুষ তার কাছ থেকে আতর ক্রয় করেন। কেউ যাতে তার আতর নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করার সুযোগ না পায় এই কামনা করেন তিনি। দারিদ্রতার মাঝেও মানুষ ও দ্বীনের জন্য সুগন্ধি ছড়ানোর কাজে নিয়োজিত তিনি।আব্দুল জলিলের ৩ ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেদের মধ্যে দুইজন ব্যবসা করেন ও অন্য একজন একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। বাড়িতে রয়েছেন স্ত্রী সালেহা বেগম। মূলত স্ত্রীর প্রেরণাতেই মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন বলে জানান আব্দুল জলিল।তিনি বলেন, ‘কারও ভাল লাগলে আতর কেনেন, আর ভাল না লাগলে কেনেন না। এতে দুঃখ নেই। যতদিন বেঁচে আছি সবাইকে আতর মাখাতে চাই। আমার লাভের অংশ থেকেই এই আতর মাখিয়ে দেই।’ জলিলের স্ত্রী সালেহা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী যে কাজটি করেন তা গর্ব করার মতো। সবাই তাকে ভালবাসে। এটা পরকালের জন্যও উপার্জন।