Home » » ঠাকুরগাঁওয়ে আদিবাসী সম্প্রদায়ের কারাম উৎসব

ঠাকুরগাঁওয়ে আদিবাসী সম্প্রদায়ের কারাম উৎসব

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 18 September, 2020 | 11:23:00 PM

মাহমুদ আহসান হাবিব,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : ঠাকুরগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত হল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ওরাঁও সম্প্রদায়ের কারাম উৎসব। পরিবারের সুখ-শান্তির জন্য ও নিজেদের সুস্থতায় কারাম নামের একটি বিশেষ বৃক্ষের বন্দনার মধ্য দিয়ে ওরাঁও সম্প্রদায়ের লোকজন এই উৎসব পালন করে। 
জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ও ঠাকুরগাঁও কারাম পূজা উদযাপন কমিটির আয়োজনে বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার সালান্দর ইউনিয়নের পাঁচপীরডাঙ্গা গ্রামে ওরাঁওদের এই উৎসব শুরু হয়। ঠাকুরগাঁও কারাম পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিশ^নাথ কেরকেটার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অরুনাংশু দত্ত টিটো। বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ তানভীরুল ইসলাম, পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অশোক কুমার দাশ, সাধারন সম্পাদক প্রবীর কুমার গুপ্ত, সালান্দর ইউপি চেয়ারম্যান মাহাবুব আলম মুকুল। 
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্তিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব সভাপতি ও জেলা আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা মনসুর আলী এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা অ্যাড. ইমরান হোসেন চৌধুরী। প্রতিবছর ভাদ্রের শেষে এবং আশ্বিনের শুরুতে ওরাঁও জনগোষ্ঠী এই উৎসব আয়োজন করে । এই উৎসবে গাছ দেবতা যেন সামনের বছরে ভালো ফসল দেন সে প্রার্থনা করা হয়। এই গাছকে ঘিরে চলে আরাধনা গান। সব বয়সের আদিবাসী শিশু হতে কিশোর বৃদ্ধা হতে যুবক-যুবতীরা সবাই এই গানের সুরে সুর মিলিয়ে গাছ দেবতার প্রার্থনায় মেতে উঠে। গাছ দেবতার সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য ধান, সর্ষেদানা, কলাই, গম প্রভৃতি ফসলের বীজ এই কারাম গাছের গোড়ায় রাখা হয়। যেন গাছ দেবতা সামনের বছর ভাল ফলন দেন। সে প্রার্থনা করে রাতভর চলে এই সম্প্রদায়ের নৃত্যগীত ও হাড়িয়া পান। এলাকাবাসী জানান, কারাম উৎসব উদ্যাপনের জন্য আদিবাসী নর-নারী সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পূজার প্রথম দিন উপোস থাকে। সন্ধ্যায় আয়োজন করা হয় বিশেষ খাবার। সৃষ্টিকর্তার প্রতি উৎসর্গ করার পর সেগুলো আমন্ত্রিত অতিথি ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। 
সারা দিন আদিবাসী মেয়েদের উপোসের মধ্য দিয়ে কারাম পূজা শুরু হয়। পরে তারা মাদল, ঢোল, করতাল ও ঝুমকির বাজনার তালে তালে নেচে-গেয়ে এলাকার গাছ থেকে কারামগাছের (খিল কদম) ডাল তুলে আনে। এরপর তারা একটি পূজার বেদি নির্মাণ করে। সূর্যের আলো পশ্চিমে হেলে গেলে সেই কারামগাছের ডালটি পূজার বেদিতে রোপণ করা হয়। আদিবাসী পুরোহিত উৎসবের আলোকে ধর্মীয় কাহিনি শোনান। 
সে সঙ্গে চলে কাহিনির অন্তর্নিহিত ব্যাখ্যা। ব্যাখ্যা শেষ হলে বেদির চারধারে ঘুরে ঘুরে যুবক-যুবতীরা নাচতে থাকে। এদিকে পুরোহিতের ধর্মীয় কাহিনি পাঠ শেষ হওয়ার পর উপোস রাখা মেয়েরা পরস্পরকে খাবারে আমন্ত্রণ জানিয়ে উপোস ভাঙে। এরপরই আপ্যায়ন করা হয় আমন্ত্রিত অতিথি ও আত্মীয়স্বজনকে। ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে স্থানীয় নদীতে কারাম ডালটি বিসর্জনের মাধ্যমে কারাম উৎসব আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।