Home » » কিশোরগঞ্জে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

কিশোরগঞ্জে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 16 September, 2020 | 11:25:00 AM

মিজানুর রহমান,কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা বছর ঘুরে শরতের শিউলি ফোটা ফুলে,ফলে শস্য শ্যামলিমায় বাসুমতী যখন সুশোভিত তখন নির্মল আকাশে হাতছানি দিয়ে আবারও হিন্দুধর্মালম্বীদের দুয়ারে মহামায়া, যোগমায়া দশভুজা মায়ের আগমন আসন্ন। শত্রুকে বিনষ্ট,সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার আগমনী বার্তা নিয়ে দুর্গাদেবী আসছেন। দূর্গা পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় শুভ মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে।
আগামী বৃহস্পতিবার শুভ মহালয়া। এদিন ঢাকের বাদ্য শঙখ- উলুধ্বনি মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আবাহন জানানো হবে। এ সময় পূজামণ্ডপে প্রতিমার শিল্পীর তুলিতে ফুটে উঠবে ত্রিনয়ন। সূচনা ঘটবে দেবীপক্ষের। তবে এবছর বৈশ্বিক করোনার প্রভাব শারদীয় দুর্গাপূজা মণ্ডপ গুলোতে নেই আয়োজনের তোড়জোড়।
এ উপজেলায় ১৩৩টি মন্দিরে পূজা অর্চনার আয়োজনে পূজামণ্ডপ গুলোতে থাকছে স্বাস্থ্যবিধির বিভিন্ন নির্দেশনা। সরকার ও জেলা পুজা কমিটির নির্দেশনা ও নিরাপত্তা মেনে সীমিত পরিসরে শাস্ত্রানুসারে হবে পূজার আয়োজন। প্রতিবছর মহলয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা ঘটলেও এবছর পঞ্জিকানুসারে আশ্বিন মাস অধিমাস বা মলমাস হওয়ায় কার্তিক মাসে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা।
এবছর পঞ্জিকা অনুসারে মহালয়ার ১মাস পর আগামী ২১শে অক্টোবর পঞ্চমী তিথি শেষে ২২শে অক্টোবর সন্ধ্যায় ষষ্ঠী তিথিতে হবে দেবীর বোধন। দেবী এবার আসছেন দোলায়, ফিরবেন গজে।২৪শে অক্টোবর সপ্তমী, ২৪শে অক্টোবর মহা অষ্টমী, ২৫ শে অক্টোবর মহানবমী, ২৬শে অক্টোবর শুভবিজয়া,দশমীতে বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে দূর্গা পূজার আনুষ্ঠানিকতা। আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া পূজামণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, নরম কাদা মাটি, বাঁশ, খড় কুটো ইত্যাদি দিয়ে মনের আলোর মাধুরী মিশিয়ে নিখুঁত কারুকার্যে শৈল্পিক চিত্রে তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। দক্ষ কারিগরের হাতের শৈল্পিক ছোঁয়ায় নানান রঙ আর তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হবে দেবী দুর্গার প্রতিচ্ছবি। যেন প্রাণ ফিরে পাবে প্রতিমা।
এ কারণে তাদের এই দিনরাত নিরলস পরিশ্রম। অন্য পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায় স্বল্প পরিসরে হলে ও প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা (ভাস্কর) কোথাও প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষ পর্যায়ে, কোথাও বা কারিগররা প্রতিমার রং তুলির আচর দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। কথা হয়, উপজেলার বানিয়া পাড়া মন্দিরের দুর্গা প্রতিমা তৈরীর কারিগর (ভাস্কর) ঐশ্বনি চন্দ্রের সাথে তিনি জানান, মন্দির কমিটির আমাকে প্রতিমা তৈরির দায়িত্ব দেয় প্রতিমা তৈরি করতে। ১দিন পরেই শেষ হবে প্রতিমা তৈরীর কাজ। এরপর রুপায়নের জন্য চলবে রং তুলির কাজ।পারিশ্রমিক হিসেবে পাবো ৪০হাজার টাকা।
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত আমি ৪টি মন্দিরে প্রতিমা তৈরীর কাজ সম্পন্ন করেছি।উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফনিভূষণ মজুমদার জানান, স্বল্প পরিসরে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে ব্যাপক কোন আয়োজন না করে শাস্ত্রানুসারে মায়ের পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
 দুর্গাপুজো আয়োজনের জন্য এরই মধ্যে পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে। এছাড়া পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করণ ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে মত বিনিময় করা হবে।