Home » , » কিশোরগঞ্জে আগাম জাতের আউশ ধান কাটা মাড়াই শুরু

কিশোরগঞ্জে আগাম জাতের আউশ ধান কাটা মাড়াই শুরু

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 31 August, 2020 | 5:19:00 PM

মিজানুর রহমান,কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় লাভের ঐতিহ্য আগাম জাতের আউশ ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। যথাসময়ে স্থানীয় কৃষি বিভাগের কৃষি সেবা, ধানের ভালো ফলন,ন্যায্য বাজার মূল্য ও অল্প সময়ের মধ্যে ধান পাকার আনন্দে উপজেলার আউশ ধান চাষীদের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক। বিলুপ্তপ্রায় আউশ ধান আবারও নতুন রূপে কৃষকের মাঠে ফিরে এসে দেখা দিয়েছে একের ভিতর দুই লাভ। কাঁচা খড় বিক্রি করে আউশ ধান চাষিরা পুষিয়ে নিচ্ছেন যাবতীয় খরচ । ধান কাটার পর একই জমিতে আগাম জাতের আলু আবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকেরা। কৃষিনির্ভর উত্তরের জেলা নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা একসময় মঙ্গাপীড়িত (অভাবি) এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। জানা গেছে, এক সময়ে এ অঞ্চলে বছরের ভাদ্র, আশ্বিন-কার্তিক মাসে কৃষি শ্রমিকদের হাতে কোনো কাজ থাকত না। ফলে দেখা দিয়েছিল অভাব। কৃষি শ্রমিকদের শ্রম বিক্রি করতে কুমিল্লা সহ বিভিন্ন জেলা শহর গুলোতে ছুটতে হত। সেই ক্রান্তিকাল অতিক্রম করে বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষপ, স্থানীয় কৃষি বিভাগ আর কৃষকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একসময়ের অবহেলিত জনপদ এখন স্বনির্ভর জনপদে পরিণত হয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রে ঘটছে নীরব বিপ্লব। আজ সোমবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কিছু ক্ষেতে আগাম জাতের পাকা ধান শিশিরে ভেজা শরতের সকালে ধান কেটে উঠোনে তুলছেন কৃষকরা। কৃষকরা জানান, কৃষি অফিস থেকে সরবরাহকৃত ব্রি ৪৮ সহ হাইব্রিড জাতের ধান অন্যান্য জাতের ধানের চেয়ে২৮থেকে৩০দিন পূর্বে পাকতে শুরু করে এবং ভদ্র মাসের শুরু থেকে শেষ অবধি ধান কাটা ও মাড়াই কাজ শেষ করা সম্ভব। বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি গ্রামের কৃষক,পেয়ারুল, জরিয়াল, জিনারুল সহ অনেকে ধান কাটা মাড়াই এ ব্যস্ত সময় পার করছেন।তাঁরা যে জমির ধান কাটছেন সেখানে পলিথিন বিছিয়ে মাড়াইয়ের কাজ সারছেন।এ সময় পেয়ারুল বলেন,আমি ৩৫ শতাংশ জমিতে আগাম জাতের ধান আবাদ করেছি।এ ৩৫শতাংশ জৃমিতে ২২-২৫ মন ধান ফলনের আশা করছি। এ বছর খড়ের ব্যাপক দাম থাকায় হাল চাষ, কৃষি শ্রমিক সহ যাবতীয় খরচ কাঁচা খড় বিক্রি করে উঠে যাবে। আর যে ধান পাওয়া যাবে পুরোটাই লাভ হবে।আগাম জাতের এই ধান কাটার পর একই জমিতে আগাম জাতের আলু চাষাবাদ করা হবে।আগামী ২০/২৫ দিনের মধ্যে আগাম জাতের আলু লাগানোর কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের যদুমনি গ্রামের কৃষক রশিদুল ইসলাম এবার ৬০ শতাংশ জমিতে ৪৮ জাতের ব্রি আউশ ধান চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এইটা হামার ফাও আবাদ, এইলা জমিত হামরা আগাম আলু আবাদ করি, আগাম আলু আবাদ করার জইন্য জমি ফেলে থুবার (রাখার) নাগে, ধান কাটি আগাম আলু করা যায় না। কিন্তু এই ধান আবাদ করি ধানও পাওয়া যায়, আগাম আলুও গারা (রোপন করা ) যায়।’ বিভিন্ন ইউনিয়নের স্থানীয় কৃষকরা নিকট থেকে জানা গেছে, আগে আগাম জাতের আলু চাষ করার জন্য জমি ফেলে রাখতে হতো এখন আগাম বিভিন্ন জাতের হাইব্রিড ধান আসায় জমি আর ফেলে রাখতে হয় না। তাছাড়া ধান আবাদের পর আগাম আলু চাষ করলে ওই জমিতে আলুর ফলনও ভালো হয়। তারা আরও জানান, এক সময়ে এ অঞ্চলে প্রতিবছর ভাদ্র, আশ্বিন- কার্তিক মাসে দেখা দিত অভাব। স্থানীয় ভাষায় যাকে বলা হয় মঙ্গা। সেই সময়ে অভাবী মানুষজন চড়া সুদে ঋণ গ্রহণ, আগাম শ্রম বিক্রি করতে বাধ্য হতেন। গেল কয়েক বছর থেকে আগাম আউশ, আমন, আলুর আদা- হলুদ বেগুন হরেক রকমের সবজি চাষাবাদে আপামর জনগনে ভাগ্যের পরিবর্তন এসেছে। ইতোমধ্য এ অঞ্চল থেকে মঙ্গা বিতাড়িত হয়ে একটি সুখী সমৃদ্ধ জনপদে পরিণত হয়েছে। মঙ্গা শব্দটির সাথে বর্তমান প্রজন্ম আদৌ পরিচিত নন। কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, আউশ রোপণের শুরু থেকে ঘনঘন বৃষ্টিপাত, আউশের প্রণোদনা, বিনামূল্যে সার- বীজ বিতরণ,কৃষি সেবা কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার এবার আউশের বাম্পার ফলন হয়েছ।