Home » » ফুলবাড়ীর পল্লীতে ৭ মাসেও বাদশা মিয়া হত্যার রহস্য এখনও উদঘাটন হয়নি

ফুলবাড়ীর পল্লীতে ৭ মাসেও বাদশা মিয়া হত্যার রহস্য এখনও উদঘাটন হয়নি

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 22 August, 2020 | 11:24:00 PM

আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : ফুলবাড়ীর পল্লীতে পুকুরের পাহারাদার বাদশা মিয়া হত্যার রহস্য ৭ মাস অতিবাহিত হলেও হত্যার রহস্য এখনও উদঘাটন হয়নি। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী বেতদীঘি ইউপির শাহপুর গ্রামে মৃত আব্দুস সালামের পুত্র মোঃ বাদশা মিয়া (৪৫) পুকুরের পাহারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ৭ মাস গত হলেও বাদসা মিয়া হত্যার রহস্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এখনও উদঘাটন করতে পারেনি। ফুলবাড়ী থানার পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় অবশেষে পিবিআই সংস্থা কে মামলাটি হস্তান্তর করেন ফুলবাড়ী থানার পুলিশ। গত ২৩ জানুয়ারী শুক্রবার ২০২০ ইং সালে দুর্বৃত্তরা দিবাগত রাত্রীতে তাকে নির্মম ভাবে হত্যা করে। মোঃ বাদশা মিয়া দুর্বৃত্তের সুরিকাঘাতে খুন হয়। হত্যার রহস্য উদঘাটনের জন্য এলাকার ফয়জুল ইসলাম নামে এক ব্যাক্তি পুলিশ সুপার বরাবর একটি আবেদন করেন প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য। বিরামপুর উপজেলার দেশমা ইউপির পুইনন্দা গ্রামরে আব্দুলের পুত্র মোঃ রানা ৬টি পুকুরের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। তার নিয়ন্ত্রনে ৬ জন দায়িত্ব পালন করেন পুকুর গুলির। বাদশা হত্যার প্রকৃত খুনি কারা? কে তাকে হত্যা করল? তার কোন ক্লু উদঘাটন করতে পারেনি স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। অবশেষে মামলাটি দিনাজপুর পিবিআই এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পূর্বের সত্রুতার রেশ ধরে তাকে প্রতিপক্ষরা হত্যা করতে পারে বলেও এলাকাবাসী অভিমত ব্যক্ত করেন। যাই হোক না কেন এই লোমহস হত্যার রহস্য কেন উদঘাটন হচ্ছেনা তা রহস্যজনক। এ ব্যাপারে তার স্ত্রী মোছাঃ ফরিদা বেগম বাদি হয়ে গত ২৩/০১/২০২০ ইং তারিখে ফুলবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যাহার মামলা নং-২০। বাদশা মিয়া হত্যার রহস্যটি যাতে ধামাচাপা না পড়ে সে দিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এলাকাবাসী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের আসু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এছাড়া গত ৮ মাস অতিবাহিত হলেও ফুলবাড়ী উপজেলা পৌরসভা এলাকার নয়াপাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা মোছাঃ ফেলানী হত্যার রহস্য এখনও উদঘাটন করতে পারেনি স্থানীয় আইন প্রয়োজকারী সংস্থা। গত ১লা নভেম্বর ২০১৯ ইং সালে শুক্রবার নয়াপাড়া গ্রামের দক্ষিণে প্রায় ১ হাজার মিটার দূরে ইরি বোর ধারেন ক্ষেত থেকে ফেলানীর লাশ উদ্ধার করেন এলাকার লোকজন। ফুলবাড়ী পৌরশহরের কাঁটাবাড়ী গ্রামের আশিকুর রহমান এর স্ত্রী মোছাঃ ফেলানী বেগম প্রতিদিনে ন্যায় ছাগলের ঘাস কাটা সহ ছাগল চরানোর জন্য চকচকা নামক এলাকায় যান। ঐ দিন বিলেক গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও তিনি আর বাড়িতে ফিরে না আসায় বাড়রি লোকজন ঐ এলাকায় খোজাখুজি শুরু করেন এ সময় নয়াপাড়া গ্রামের প্রতিবেশিরা ঐ এলাকায় গিয়ে ধান ক্ষেতের মধ্যে কাদা মাখা অবস্থায় ফেলানী বেগমের মৃত্যুদেহ দেখতে পেয়ে বাড়িতে খবর দেন। পরে পরিবার পরিজন মৃত্যুদেহ উদ্ধার করে ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। ফুলবাড়ী থানার পুলিশ তার মৃত্যুদেহ উদ্ধার করে পরের দিন ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর মর্গে পাঠান। ৮ মাস গত হলেও ফুলবাড়ী থানার পুলিশ এখন পর্যন্ত ফেলানী হত্যার কারা জড়িত রয়েছে তার কোন তথ্য উদঘাটন করতে পারেনি। তবে এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহ ও আসংঙ্কাদেখা দিলেও হত্যার রহস্য প্রায় ধামা চাপা পড়ে যাচ্ছে। সঠিক ভাবে এই হত্যার তদন্ত হলে অবশ্যই এই ঘটনার সাথে কারা জড়িত তা বেরিয়ে আসবে। ফুলবাড়ীতে গত কয়েক বছরে বেশ কিছু হত্যার ঘটনা ঘটলেও প্রত্যেকটি হত্যার সাথে জড়িতদের খুজে বের করে আইনের আওতায় আনতে পারেনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। এ সব হত্যার বিচার পাবেনা ভূক্তভুগিরা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ইচ্ছা করলে প্রত্যেকটি হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারে। মামলার তদন্ত ধীরগতি ধীরগতি হওয়ায় হত্যার দায়েরাকৃত মামলার বাদিরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফুলবাড়ীতে যতগুলি হত্যা হয়েছে তার প্রত্যেকটি হত্যার তদন্ত সঠিক ভাবে করে অপরাধীদের বিচারের কাঠগরায় দাড় করানো উচিৎ।