Home » » কিশোরগঞ্জে লাভের ঐতিহ্য আউশ ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা কৃষকের মুখে হাসি

কিশোরগঞ্জে লাভের ঐতিহ্য আউশ ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা কৃষকের মুখে হাসি

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 17 August, 2020 | 3:00:00 PM

মিজানুর রহমান,কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : বৈশ্বিক করোনা ভাইরাসের মহামারীর এই দুঃসময়ে কৃষকরা খাদ্য ঘাটতি মেটাতে ইঞ্চি পরিমাণ জমি অনাবাদি না রেখে দিনকে রাত আউশ আর আমন চাষে কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছেন। আউশে কৃষি প্রণোদনা, মৌসুম শুরু থেকে ঘনঘন বৃষ্টিপাত, স্বল্প খরচ, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা, ধানের ন্যায্যমূল্য, বাজারে কাঁচা খড়ের ব্যাপক চাহিদায় কৃষকের মুখে ফুটে উঠছে হাসির ঝিলিক।
অন্যদিকে কাঁচা খড় বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করছেন কৃষকেরা। উপজেলার বিভিন্ন মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে সোনালী আউশ ধানের শীষ। সোনা মাখা রোদে ধানের শীষের সোনালী সমারোহ বলে দিচ্ছে আউশ ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভবনা। এবার ইরি-বোরো মৌসুমে ধানের ন্যায্য মূল্য ও সরকারি প্রণোদনায় বীজ ও সার পেয়ে গত বছরের তুলনায় এ বছর দ্বিগুণ জমিতে আউশ ধান চাষ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রণোদনাসহ সহযোগিতা আরো বেশি করা হলেও আগামীতে কৃষকরা বৃষ্টি নির্ভর আউশ ধান চাষে আরো উদ্বুদ্ধ হবে এমনটাই জানালেন এলাকাবাসী। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, সোনালী রোদে বাতাসে দোল খাচ্ছে আউশ ধানের শীষ। অনেক ক্ষেতে সবুজ শীষগুলো সোনালী রঙ ধরতে শুরু করেছে। কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানায়, চলতি আউশ ধান চাষ করা হয়েছে ৩শত১০ হেক্টর জমিতে। আউশ ধানের বীজ তলা থেকে ধান কাটা পর্যন্ত ১০০ থেকে ১১০ দিন সময় লাগে। তাছাড়া সারের পরিমাণ বোরো ধান চাষ থেকে আউশ ধান চাষে ৩০ থেকে ৪০ ভাগ খরচ কম হয়। আর সেচের খরচ হয় না বললেই চলে।
কৃষি বিভাগ আশা করছে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আউশের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের যদু মনি গ্রামের কৃষক রশিদুল ইসলাম জানান, কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে সার বীজ পেয়ে ২ বিঘা জমিতে আউশ ধানের চাষ করে বাম্পার ফলন পাওয়ার আশা করছি।
উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি পশ্চিম পাড়া গ্রামের বর্গাচাষী জিনারুল জানান, এবছর আমি ৮ বিঘা জমিতে আউশ ধান লাগিয়েছি। আউশ ধান চাষ করে একের অধিক লাভ দেখা দিয়েছে, পরিচর্যা কম, ঘন বৃষ্টিপাত, ধানের ন্যায্যমূল্য, অন্যদিকে বাজারে গো খাদ্য হিসেবে কাঁচা ঘরের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এবছর আউশ ধানে লাভবান হওয়ার আশা করছি। কৃষি বিভাগ থেকে বীজ, সার বিনামূল্যে প্রদান করায় আমরা এ ধান চাষ করেছি।এই ধান ঘরে তোলার পর আগাম আলুর চাষ করা হবে। 
উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুর রহমান জানান, এ উপজেলার কৃষকেরা ইরি-বোরো ধানের মতো আউশ ধানের ন্যায্য মূল্য পেলে আগামীতে এ উপজেলায় আউশ চাষে রেকর্ড সৃষ্টি হবে। তিনি আরো জানান, কৃষি বিভাগের লোকজন সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছেন। কৃষকরা যতক্ষণ ফসল ঘরে না তুলছেন ততক্ষণ কৃষি বিভাগ তাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করে যাবেন।