Home » » কিশোরগঞ্জে নদী ভাঙনের মুখে বসতবাড়ীও ফসলি জমি

কিশোরগঞ্জে নদী ভাঙনের মুখে বসতবাড়ীও ফসলি জমি

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 20 July, 2020 | 4:31:00 PM

মিজানুর রহমান,কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : গত দু'দিনের ধারাবাহিক বৃষ্টিপাত আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নীলফামারী কিশোরগঞ্জ উপজেলার ধাইজান নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় নতুন করে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন। কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কেশবা,যদুমনি গ্রামের বুক চেরে বয়ে যাওয়া ধাইজান নদীর তীব্র ভাঙনে মুখে বসতবাড়ির পাশাপাশি ফসলিজমি হারাচ্ছেন নদী অববাহিকার দরিদ্র পরিবারের বাসিন্দারা।
দ্বিতীয় দফা বন্যায় বৃষ্টির পানিসহ উজানথেকে বয়ে আসা ঢলে ধাইজান নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কিশোরগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম কেসবা যদুমনি গ্রামের নতুন করে নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ভাঙ্গন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে ভাঙ্গন কবলিত নদীপাড়ের বসবাসকারীরা। যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে তাদের বাপ দাদার শেষ সম্বল ভিটেবাড়ি। দিনরাত ভাঙ্গন আতঙ্ক, আর সর্বগ্রাসী নদী যেন তাদের তাড়া করছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, পশ্চিম কেসবা যদুমনি তীরবর্তী গ্রামের ফসলি জমি প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে । নদী পাড়ের এলাকাবাসীর অভিযোগ, ধাইজান নদী থেকে বোমা মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর গতিপথ হারাচ্ছে। চলতি বছরে অপরিকল্পিতভাবে মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় অনেক ফসলি জমি ও বসতভিটা অচিরেই নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধসহ নদী ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আবাদি জমিসহ বসতবাড়ি নদী গর্ভে চলে যাবে।
এছাড়াও গত কয়েকদিনে ১০ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়াসহ পশ্চিম কেসবার ৪০টি হতদরিদ্র পরিবারের বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। ৫শত মিটার অংশজুড়ে নদীর তীব্র ভাঙ্গনে চরম আতঙ্ক উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় রয়েছে নদী ভাঙ্গন কবলিত পশ্চিম কেসবা গ্রামের বাসিন্দারা। কেসবা গ্রামের বাসিন্দা আবদার রহমান বলেন, আমার এ পর্যন্ত ২একর আবাদি জমি ধাইজান নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আরও জমি বিলীন হয়ে যাওয়ার পথে।
ওই গ্রামের দিনমজুর ফয়জুল্লাহ মাহমুদ, জোনাব, বাদশা, আনসার আলী বলেন, অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙ্গন আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। অতিসত্বর নদী ভাঙ্গন রোধ করা না গেলে হয়তো দু'এক দিনের মধ্যে গ্রাস করবে বাপ-দাদার যৎসামান্য ভিটেমাটি ।আর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোফাখখরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। অতিসত্বর ভাঙ্গন কবলিত এলাকা মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।