Home » » নীলিমা শামীম এর একগুচ্ছ কবিতা

নীলিমা শামীম এর একগুচ্ছ কবিতা

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 01 July, 2020 | 7:11:00 PM




















আজ শুভজন্মদিন

 <> নীলিমা শামীম <> 

 এমন কিছু বলেছিলে তাই লজ্জায় মুখ ঢেঁকেছি
 ছোট মহারাজ এসেছে জীবনে তাইতো হেসেছি!
তোমার পরশে হই লজ্জিত লালিমায় বিমুগ্ধ
 তোমাতে মিশে রই সারাক্ষণ তাইতো তুমি মুগ্ধ!!

 দূষ্টুমিষ্ট শাহির করে বিড়বিড় আমি কোথায় বলো
তারি সাথে তাই ছবি তুলে রাখি অবেলায় কাজে এলো!
হাসিমুখে নাকি বেশ লাগে ভালো বলো অকারণ তুমি
 মলিন চেহারায় দেখ যদি আমায় এলোমেলো মনভুমি!

 স্মৃতিময় সবি রেখো স্ব-যতনে অসময়ে দেখো শুধু গোপনে
তোমাকে পেয়েছি বড় আশাহুতে, ধরে রেখো এই জীবনে,
প্রীতি ভালোবাসা রেখো তোমারি নামে চাই সমাধী
ক্ষমা করো প্রিয় এইশুভক্ষনে এইজীবনের যত অপরাধী!!



২।  ভেন্টিলেশন


 লোমহর্ষক কথপোকথন
প্লিজ আহা প্লিজ বাড়িয়ে দাওনা
শেষ চেষ্টা অব্যাহত রাখো
আমি বাচতে চাই প্রিয়..৷
আমাকে ছেড়ে যেওনা তুমি,,
 অবজ্ঞা করে এভাবে ফেলে যেওনা
কত শ্রম, কত ভালোবাসা দিয়ে আগলে রেখেছি
তোমার সকল ভালোমন্দকে নীরব নিস্তব্ধতায়।
শ্বাস প্রশ্বাসে বিষ,,,৷ কষ্ট হচ্ছে কই,,৷
বাবাই তুমি আমার নারী ছেড়া ধন
কই বাবাই, এসো আল্লাহ এতো নিষ্টুর নয়
 তোমাদের কিছুই হবেনা বাবাই এসো হাত স্পর্শ করো
 ছেলে ও বাবার প্রস্থান আই সি ইউ থেকে
চারিদিক নীরব, ভালোবাসার মানুষগুলো শুন্য
জীবনের পুরো সময় দেয়া লোকগুলো অদৃশ্য আজ
কত অপেক্ষা চোখের জল গড়িয়ে পড়ছে
 নেই মুছে ফেলার কেহ।
অতি আদরের সন্তান, প্রিয় থেকেও প্রিয়জন
 হে,, আল্লাহ রহম করো আল্লাহ কত আর ক্রন্দন শুনিতে হবে।
সন্তান দূরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে হয়তো শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করার।
স্বামী বাইরে অবস্থান করে আছে সূযোগের ফেলে পালানোর,
সারাজীবনের সঙ্গী স্বামী স্ত্রী--
আহারে আজ ইয়া নাফসি ইয়া নাফসি।
কিন্তু ছোট্ট কাজের মেয়েটি অপেক্ষায় কখন জ্ঞান
ফিরে ম্যাম কিছু চাইবে এই আশায় দাড়িয়ে।
ফ্যালফ্যাল করে চারিদিক চক্ষু বুলিয়ে নিতেই
মেয়েটি বললো মামানি কিছু দিতে হবে?
শক্তিহীন নিথর দেহ, নীরব নিস্তব্ধ শরীর ও হাত-পা বেঁধে রাখা
দুই তৃতীয় অংশ কি ই বা চাইতে পারে?
প্রচন্ড ব্যাথা-বেদনা কঠিন খিচুনি ও শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল
আশপাশে শুধু আহাজারি আত্মীয় স্বজনের।
লাশের সারিতে গন্ধ ছড়াতেও কুন্টা তাইতো
হাত পায়ে ঝিনঝিন করছে, পা কাপছে থরথর।
এই বুঝি সব খুলে দিয়ে মৃত্যু ঘোষণা দেয় ডিউটি নার্স।


৩।  ত্রিরছি আঁখি 



 অমন করে তাকাও কেন/ চোখের ছুরি মারো--
অমন করে হাসো কেন/ কেমন করে পারো?

 অমন করে হাটো কেন/ শরীর দুলে দুলে --
কেমন করে বাধো গো চুল,
হাওয়ায় গেলো খুলে।

 ওমন করে পিছু ফিরে
 বারে বারে কি চাও?
এমন করে ঢেউ তুলে গো
কোথায় তুমি যাও?

 এমন কেন চলনবলন
কেন ধরাও নেশা--
কেমন করে দাও গো কাজল
কেমন চোখের ভাষায়!!

 কেন এমন মন পুড়ে ছাই/ বুক চিনচিন করে--
এমন করে পুড়িয়ে গেলে
সবই জানি কেমন করে?

























৪। বলেছিলে তুমি


 এইভাবে শপথ ভেঙে যাবেনা
বলেছিলে তুমি।
এইভাবে একা রেখে পেছনে
 ফিরবেনা বলেছিলে তুমি?
এবার এলে সাক্ষাৎ করবে কিন্তু
বলেছিলে তুমি।
 শপথের বরখেলাপ করবেনা তাও
বলেছিলে তুমি।
লাইলাতুল কদরের রাতে দোয়া
চেয়েছিলে তুমি।
চলে যাবে সেটা গোপন করেছিলে
কেনো তুমি?
একবার কি করে শুধালেনা আমায়
এটাই শেষ কথা ----
হাজার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দিশেহারা
প্রায় আমি।
 অফলাইনে যাবার আগে কেনো
লিখে গেলেনা?
 ফিরবে না আর কখনো এইপথে
লিখলে দুকলম?
পাথর চাপা কষ্ট গুলো কতদিন
এইভাবে বইবো আমি?
ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে আসছিলে
কেনো জানালেনা তুমি?
বলে ছিলে তুমি, বলে যাবে আমায়
ভুল ভুল ভুল।
ভালো থেকো দোয়া রইলো।।


 ৫। খুঁজে মন তোমায় 



 আমি ছিলেম তোমার বুক পকেটে,
ভুলে চিরকুট ভেবে ছিড়েছো,
নিজের অজান্তে এমন ভুল করেছো
প্রিয়াকে ছুড়ে ফেলেছো।

ভুলের মাসুল দিতেই বুঝি আজি
ভাঙলো বুকের পাজর,
তোমায় ভেবে রোজ সন্ধ্যা বিকেল
 অশ্রুসিক্ত আঁখি অঝোর।

তুমি ছিলে খুব গোপনে! তাইতো,
হৃদয়পটেই রেখেছি।
অজানাতে হারিয়ে গেলে এখন
বেদিশ মনে খুজেছি।

আলোর আশায়, ভালোই নিছো
অন্ধকার ছড়ায়ে,
ঘোর আঁধারে হারায় গেছো
খুঁজে ফিরি নিদয়ে।