Home » » গোবিন্দগঞ্জে যৌতুকের দাবীতে মারপিট করার অভিযোগে আটক-৩

গোবিন্দগঞ্জে যৌতুকের দাবীতে মারপিট করার অভিযোগে আটক-৩

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 16 June, 2020 | 11:06:00 PM

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে যৌতুকের দাবীতে শ্বশুড়, শ্বাশুড়ী, দাদা শ্বশুড়কে মারপিট করে ঘরে আটকে রাখার অভিযোগে থানায় পিতা ও দুই পুত্র আটক। জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শালমারা ইউনিয়নের শাখাহাতি বালুয়া গ্রামের কাজেম উদ্দিন প্রধানের ছেলে যৌতুক লোভি শফি আলম প্রধান (৩২) এর সাথে একই ইউনিয়নের উলিপুর (মধ্যপাড়া) গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে রাবেয়া বেগম (১৯) এর বিবাহ হয় বিগত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর/১৯ ইং তারিখে। 
বিবাহের রাতেই যাবতীয় উপঢৌকন সহ জামাই মেয়েকে বিদায় দেয় অভাগা পিতা আব্দুর রাজ্জাক। শফি আলম প্রধানের স্ত্রী রাবেয়া বেগম বলেন, বিবাহের কিছু দিন পর থেকেই স্বামী, দেবর সূজন প্রধান (২৫) ও স্বাশুড়ী ছায়রা বেগম (৫০) ৩ লাখ টাকা যৌতুক বাবদ পিতার বাড়ী থেকে নিয়ে আসার জন্য মানষিক ও শারিরীক ভাবে নির্যাতন করতে থাকে। স্বামীর সংসার করার জন্য সকল নির্যাতন সহ্য করি। তাদের নির্যাতনে অসহ্য হয়ে শালমারা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। গ্রাম্য আদালতে লেনদেনের মাধ্যমে আপোষ সুত্রে স্বামীর পরিবারে এসে ঘর সংসার করতে থাকে। 
এর কিছু দিন যেতে না যেতেই তার যৌতুক লোভী স্বামী দেবর ও স্বাশুড়ীর পরামর্শে আবারও মানষিক ও শারিরীক নির্যাতন করতে থাকে। আজ ১৫ জুন (সোমবার) সকােল স্বামীর পরিবারের সবাই মিলে পিতার কাছ থেকে ৩ লাক টাকা নিয়ে আসতে বলে। এতে সে অপারগতা প্রকাশ করলে তার স্বামী লাঠি দ্বারা তাকে এলোপাথারি ভাবে মারপিট করে গুরুত্বর আহত করে। এ ঘটনা শুনতে পেরে রাবেয়ার পিতা আব্দুর রাজ্জাক, মাতা কোহিনুর বেগম, দাদা আছাব আলী প্রতিবেশী এরশাদ মিয়াকে সাথে নিয়ে মেয়ের বাড়ীতে আসে। এতে তারা সবাই ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে মারপিট করে ঘরের ভিতর আটকে রেখে মেয়েকে তালাক দেওয়ার চাপ দিতে থাকে না দিলে তাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
 স্থানীয় লোকজন রাবেয়া বেগম সহ আটক সবাইকে উদ্ধার করার চেষ্টা করে না পারায় ৯৯৯ ফোন দেয়। পরে থানার এএসআই সাহাব উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স সহ ঘটনার স্থল থেকে শফি আলম, সূজন মিয়া ও কাজেম উদ্দিন প্রধানকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে এবং স্থানীয়রা আটককৃতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেয়। এ বিষয়ে রাবেয়া বেগম বাদী হয়ে স্বামী শফি আলম প্রধান, দেবর সূজন প্রধান ও স্বাশুড়ী ছায়রা বেগমকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আফজাল হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।