Home » » কিশোরগঞ্জে গবাদি পশুর লাম্পি স্কিন রোগ ছড়িয়ে পড়ায় কৃষকেরা দিশেহারা

কিশোরগঞ্জে গবাদি পশুর লাম্পি স্কিন রোগ ছড়িয়ে পড়ায় কৃষকেরা দিশেহারা

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 16 June, 2020 | 10:54:00 PM

মিজানুর রহমান কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : নীলফামারীর, কিশোরগঞ্জ উপজেলার সর্বত্রই গবাদি পশুর নতুন ভাইরাসজনিত লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারি ও গরু পালনকারীরা। 
 এ রোগের নিদিষ্ট কোন প্রতিষেধক ঔষধ না থাকায় দ্রুত এক গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে খামারি ও গরু পালনকারীর মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে , লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভাইরাস জনিত রোগ।মূলত মশা -মাছি, আঠঁলি থেকে এ রোগ ছড়ায়। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা সেবায়, এ রোগে আক্রান্ত গরু সুস্থ হয়ে উঠবে। 
গরু পালনকারীরা জানান, গরুর গায়ে প্রথমে গুটি গুটি দেখা যায়, দু-একদিনের মধ্যেই তা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে, গুটিগুলো একসময় ঘায়ে পরিণত হয়। এ সময় গরুর শরীরে তীব্র জ্বর ও তাপমাত্রা বেড়ে যায়, এবং গরু খেতে চায় না, অনেক সময় গরুর পা ফুলে যাওয়া সহ বুকের নিচে পানি জমে ক্ষতের সৃষ্টি হয়, ক্ষতস্থানে থেকে মাংস খসে পড়সহ মুখ দিয়ে লালা পড়তে থাকে। কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর এর ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ হোসাইন মোঃ রাকিবুর রহমান জানান, এটি একটি ভাইরাস জনিত চর্মরোগ যা শুধুমাত্র গরু ও মহিষ কে আক্রান্ত করে। প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে এ রোগে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে এ রোগটি নতুনভাবে আবির্ভূত হয়েছে। 
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ রোগে গবাদিপশু আক্রান্ত হচ্ছে, তবে এ রোগে মানুষ আক্রান্ত হয় না। এ রোগটি মূলত আফ্রিকা থেকে আসা। এ রোগ বাইরের দেশে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে উপজেলা প্রাণী অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে রোগের লক্ষণ কারণ বিষয়ে গরু লালন -পালন কারীদের সচেতন করা হয়েছে। এ রোগে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম গুলো ঘুরে দেখা যায়, এই রোগের ব্যাপক প্রার্দুভাব ছড়িয়ে পড়েছে। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গরু পালনকারীরা। কথা হয় উঃ দুরাকুটি গ্রামের কৃষক আলাম হোসেনের সাথে তিনি জানান, আমার একটি ষাঁড় গরু লাম্পি স্কিন ডিজিজ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। একদিকে করোনার ভয়, অন্যদিকে আক্রান্ত গরু নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি। এছাড়াও একই গ্রামের সাজারুল ইসলামের দুইটি গরু, মাগুরা উত্তরপাড়া গ্রামের অহিদুলে একটি গরু, চেংমাারী গ্রামের মজনুর দু,টি গরুসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েকশ গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। 
উপজেলায় বিভিন্ন এলাকার গরু পালনকারী দের সাথে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে। অন্তত কয়েকশ গরু লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত এসব গরুগুলো নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ভুগছেন বলেও জানান, ভুক্তভোগী গরু পালনকারীরা। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহফুজার রহমান বলেন, ‘গবাদি পশুর ভাইরাসজনিত লাম্পি স্কিন ডিজিজ যেহেতু মশা-মাছি থেকে ছড়ায় সেজন্য আক্রান্ত গরু থেকে সুস্থ গবাদি পশুগুলো আলাদা করে রাখাসহ গবাদি পশু থাকার জায়গা সবসময় শুকনো রাখা ও মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে খামারি ও কৃষকদের।