Home » » জিটিসি হটাও-খনি বাঁচাও----- পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনির শ্রমিকদের আল্টিমেটাম

জিটিসি হটাও-খনি বাঁচাও----- পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনির শ্রমিকদের আল্টিমেটাম

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 22 June, 2020 | 6:58:00 PM

বদরুদ্দোজা বুলু, পার্বতীপুর প্রতিনিধি,চলিাহাটি ওয়েব : দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মধ্যপাড়া পাথর খনিতে পাথর উৎপাদন শুরু করাসহ ৬দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে আজ সোমবার ৮শতাধিক শ্রমিক খনি গেটের বাইরে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছে। “মধ্যপাড়া গ্রাইনাইট মাইনিং শ্রমিক সংগঠন” নামের অনিবন্ধিত সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এ অবস্থান ধর্মঘটে আগামী ৩০জুনের মধ্যে শ্রমিকদের ৬দফা দাবী মানা না হলে ১জুলাই থেকে সড়ক অবরোধসহ লাগাতার অনশন কর্মসূচী পালনের হুশিয়ারী দেয়া হয়।
খনি শ্রমিকরা সকাল ১১টায় মধ্যপাড়া কলেজ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে প্রধান সড়ক ও বাজার প্রদক্ষিণ শেষে পাথর খনির প্রধান গেটের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করে। এসময় সংগঠনের সভাপতি মোঃ খোরশেদ আলম তার বক্তব্যে বলেন, আমরা মধ্যপাড়া খনি শ্রমিক, আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ১৪শ ফূট ভূ-গর্ভের নিচে গিয়ে কাজ করি। অথচ সেই শ্রমিকেরা আজ বড় অসহায়, পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে অর্দ্ধাহারে দিন যাপন করছি। এই শ্রমিক নেতা বলেন, সারা বাংলাদেশে একমাত্র উন্নতমানের পাথর খনি মধ্যপাড়ায়। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এই খনির ভূমিকা অনেক। কিন্তু বর্তমান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) এর অমানবিক কর্মকান্ডে বারবার খনির পাথর উত্তোলন কাজ বন্ধ হয়ে যায়। 
৬ বছরের জন্য কন্ট্রাক্ট নিয়ে ৩ বছর খনি চলে। আর ৩ বছর বিভিন্ন অজুহাতে খনির উৎপাদন কাজ বন্ধ রাখে। এর ফলে মোট ৯০ লাখ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের চুক্তি থাকলেও পাথর উত্তোলন করা সম্ভব হয় মাত্র ৪৫ লাখ মেট্রিক টন। এসময় শ্রমিকেরা মুহুর্মুহু শ্লোগান দিতে থাকে। তাদের হাতে থাকা ফেস্টুন, প্লাকার্ড ও ব্যানারে লেখা থাকে জিটিসি হটাও খনি বাঁচাও, শ্রমিকের ৬ দফা দাবী মানতে হবে,করোনাকালীন ছুটির বেতন দিতে হবে-দিয়ে দাও ইত্যাদি। সংগঠনের সাধারন সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া বলেন, গত ২৬ মার্চ থেকে সরকার সাধারন ছুটি ঘোষনা করে। এরপর কয়েকদফা বাড়িয়ে ছুটির মেয়াদ ৩০মে পর্যন্ত করা হয়। 
এর আগেই গার্মেন্টস সেক্টর খুলে দেয়া হয়েছে। গার্মেন্টস এর উৎপাদিত পণ্য বিদেশে যায়। আর দেশের একমাত্র মধ্যপাড়া পাথর খনি বন্ধ রয়েছে। আমরা জানিনা, কার স্বার্থে দেশের সম্ভাবনাময় পাথর খনি বন্ধ রেখে বিদেশ থেকে পাথর আমদানী অব্যাহত রাখা হয়েছে। তিনি অবিলম্বে মধ্যপাড়া পাথর খনির উৎপাদন শুরু করার দাবী জানান। তিনি আরও বলেন, জিটিসি’র অধিনে কর্মরত আছেন ৮ শতাধিক শ্রমিক। এরমধ্যে ৪ শতাধিক শ্রমিক তাদের মজুরী পায় মাসে ৮থেকে ১০ হাজার টাকা মাত্র। শ্রমিকদের বেতন বৈষম্য দূর করা না হলে আমরা অন্যকোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগের দাবী জানাতে বাধ্য হবো। তিনি বলেন,আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। স্ত্রী, পুত্র পরিজন নিয়ে চরম দূর্দিনের মধ্যে দিন কাটছে আমাদের। জিটিসি খনি কর্তৃপক্ষের সাথে সম্পাদিত চুক্তিতে বলেছিল তারা প্রতি বছর শতকার ৫ভাগ বেতন বৃদ্ধি করবে। কিন্তু মোটেও তা করা হয়নি। 
শ্রমিক নেতা অবিলম্বে ছাটাইকৃত শ্রমিকদের চাকরীতে পূনর্বহাল করারও দাবী জানান। এছাড়াও শ্রমিক বীমা বাস্তবায়ন, শ্রমিক ঝুঁকি ভাতা প্রদান ও ওয়ার্কিং সময় নির্দ্ধারিত ৬ ঘন্টার অতিরিক্ত ডিউটি ভাতা বা ওভার টাইম বিল প্রদানেরও দাবী জানানো হয়।সংগঠনের অন্য বক্তারা বলেন, করোনাকালীন সময়ের শ্রমিকদের বেতনভাতা, ঈদ বোনাস, ১৭ মাসের বকেয়া প্রাপ্তিসহ ৬দফা দাবী আগামী ৩০জুনের মধ্যে বাস্তবায়রন করা না হলে ১জুলাই থেকে সড়ক অবরোধসহ লাগাতার অনশন কর্মসূচী পালন করা হবে।
অবস্থান ধর্মঘট শেষে শ্রমিক নেতারা মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানীর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রাস্ট কনসোর্টিয়ামের (জিটিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে এক স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এব্যাপারে জানতে চাইলে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক(এমডি) এবিএম কামরুজ্জামান জানান,সরকারের দেয়া প্রজ্ঞাপন অনুসরন করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খনি উৎপাদন শুরু করার ছিঠি দেয়া হয় বেশ কয়েকবার। জিটিসি গত বৃহস্পতিবার তাদের দেয়া এক চিঠিতে জানিয়েছে করোনার উন্নতি না হলে তাদের পক্ষে খনি চালু করা সম্ভব হবে না । এ ব্যাপারে জিটিসি সুএ স্বীকার করেছে, করোনা উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত খনির পাথর উত্তোলন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না ।