Home » » কিশোরগঞ্জে দুস্থের টাকায় সচ্ছলের ভাগ প্রণোদনার তালিকায় তুঘলুকি কাণ্ড

কিশোরগঞ্জে দুস্থের টাকায় সচ্ছলের ভাগ প্রণোদনার তালিকায় তুঘলুকি কাণ্ড

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 08 June, 2020 | 10:33:00 PM

মিজানুর রহমান, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হোসেন শিহাব এর বিরুদ্ধে করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি প্রণোদনার সুবিধা ভোগীদের তালিকা তৈরিতে স্বজনপ্রীতি আত্মীয় করণ ও সম্পদশালী ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করুণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হতদরিদ্রদের নাম বাদ দিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও নিকটতম লোকদের তালিকাভুক্ত করেছেন বলে জানা গেছে। এর প্রতিকার চেয়ে সুবিধা বঞ্চিত ৬৮৮ জন এলাকাবাসি জেলা প্রশাসক বরাবর গন স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ করেছে। গত মঙ্গলবারের লিখিত অভিযোগ ও গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনা পরিস্থিতিতে সরকার কর্মহীন হয়ে পড়া দরিদ্র মানুষের জন্য প্রণোদনার অর্থ ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনার এককালীন উপহার আড়াই হাজার টাকার তালিকায় সম্পদশালীর নাম অন্তর্ভুক্ত নিয়ে ওই ইউনিয়নে জুড়ে বইছে সমালোচনার ঝর, সৃষ্টি হয়েছে তোলপাড়। আড়াই হাজার টাকার সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১হাজার ৭৩ জন। মাগুরা ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিশেষ প্রণোদনার তালিকায় পাকাবাড়ি ১৫/২০ বিঘা কৃষি জমির মালিক সচ্ছল ব্যবসায়ী, শহর এলাকায় দামি জমির মালিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন ইউপি চেয়ারম্যান। ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল হোসেন শিহাব নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তার অনিয়ম-দুর্নীতিতে সরকারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমজীবী মানুষ। অভিযোগে স্বাক্ষরকারী ওই ইউনিয়নের মাগুরা মাস্টার পাড়া গ্রামের কৃষক তাজুল ইসলাম( ৫৫)বলেন, এবারে বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতির করুন দশায় দিনাতিপাত করছেন কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমজীবী মানুষ। মানুষের এই সংকট কাটানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন মানবিক সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কিন্তু ওই ইউপি চেয়ারম্যান স্বজনপ্রীতি, আত্মীয়করণ,আগামির নিবা্চনে ভোট ব্যাংক বৃদ্ধিকরার লক্ষ্যে প্রভাবশালীদের খুশি করার নিমিত্তে সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেন গ্রামের কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষগুলোকে। সর্বশেষে তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রণোদনার আড়াই হাজার টাকা নিজস্ব লোক জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন।এ প্রণোদনার তালিকায়২৫০ নম্বর এর নাম রয়েছে ওই ইউনিয়নের পাটোয়ারী পাড়া গ্রামের আব্দুল হাই নামের এক কৃষকের ওই কৃষকের দেড় বিঘা জমিতে আধাপাকা বাড়ি কৃষি জমি রয়েছে ১০ বিঘার উর্ধ্বে। স্থানীয়রা এসব তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সম্পর্কে আব্দুল হাই ইউপি চেয়ারম্যানের চাচা শশুর , ২৬৬ নম্বরে থাকা আব্দুল মতিন, আব্দুল হাই এর ছোট ভাই তারও রয়েছে আধা পাকা বাড়ি সহ ২০ বিঘা কৃষিজমি। সম্পর্কের দিক থেকে তিনিও ইউপি চেয়ারম্যানের চাচা শশুর। অপর দিকে চেয়ারম্যানের সুবিধাভোগী গ্রাম পুলিশ আমির আলী নিজেরও তাঁহার দুই ভাইয়ের নাম প্রণোদনায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তাঁহার বাবার নামেও রয়েছে বয়স্ক ভাতার কার্ড।যাঁহার নম্বর -১০৮০ , এছাড়াও ভিজিডি সুবিধা ভোগী একাধিক ব্যক্তিকে প্রণোদনার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেন, এরা হলেন মিয়া পাড়া গ্রামের হুজুরআলী নিজ নামে প্রণোদনা স্ত্রীর ভিজিডি কার্ড নম্বর ১৯৮, ধনি পাড়া গ্রামের কালু মিয়া নিজ নামে প্রণোদনা স্ত্রীর ভিজিডি কার্ড নম্বর২৫৯, খামাতপাড়া গ্রামের বাচান আলীর নিজ নামে প্রণোদনা স্ত্রীর ভিজিডি কার্ড নম্বর ১৫৭, আরও রয়েছে স্বামী স্ত্রী সহ একই পরিবারের একাধিক সদস্যর তলিকায় নাম। একটি ওয়ার্ডে সনাতন ধর্মালম্বীদের বসবাস না থাকলেও ওই ওয়ার্ডে দেখা হয়েছে তাদের নাম। জাতির এ সংকটময় মুহূর্তে বিপাকে পড়া মানুষদের তালিকায় এই অনিয়ম অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন এলাকার সচেতন মহল । এসময় সবারই একটু মানবিক হওয়ার কথা, কিন্তু মানবিকতা উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে, ভোঁতা হয়ে যাচ্ছে মানবিকতা অনুভূতিগুলো। এ সচেতন মহল দাবি করে বলেন, সঠিক তদন্ত হলে, তলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। মূলত ওই চেয়ারম্যান অসহায়-দুস্থদের প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত করে একটি মহল কে খুশি করার জন্য এ তালিকা প্রণয়ন করেন। মাগুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হোসেন শিয়াদের সাথে কথা হলে তিনি জানান, সরকারের পরিপত্র অনুযায়ী আমরা তালিকা প্রণয়ন করেছি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা রুহুল আমিন শাহ্কে তদন্তের ভার দেওয়া হয়েছে।