Home » » ঠাকুরগাঁওয়ে হাত-পা বেঁধে দুই শিশুকে নির্যাতন : র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হলো ইউপি সদস্য জহিরুল

ঠাকুরগাঁওয়ে হাত-পা বেঁধে দুই শিশুকে নির্যাতন : র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হলো ইউপি সদস্য জহিরুল

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 14 June, 2020 | 9:34:00 PM

আজম রেহমান,ঠাকুরগাঁও ব্যুরো, চিলাহাটি ওয়েব : ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় মোবাইল চুরির অপবাদ নিয়ে দুই শিশুকে নির্মমভাবে নির্যাতন করার মামলায় প্রধান আসামী ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম জেলার রাণীশংকৈলের গাজিরহাট এলাকা থেকে রোববার ভোরে র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছেন।
এর আগে জিয়াবুল(৫৬) নামের একজনকে গ্রেফতার কওে ডিবি পুলিশ। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার মূল আসামী মোতালেব কে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। মোতালেবসহ অন্য আসামীদের গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে জানিয়েছে র‌্যাব ও ডিবি পুলিশ। মামলার প্রায় ৮ দিন পেরিয়ে গেলেও তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে মামলাটি শনিবার দুপুরে ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তিতে র‌্যাবকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এদিকে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে নির্যাতিতদের সাথে দেখা করেছেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিম। রোববার দুপুরে র‌্যাব-১৩, ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানী-১, দিনাজপুর এর একটি আভিযানিক দলের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট মামুন জহিরুলকে আটকের কথা নিশ্চিত করেছেন। র‌্যাব অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয় , সেনগাঁও ইউনিয়নের মেম্বার এর মাধ্যমে জানতে পারা যায় চাঞ্চল্যকর মামলার শিশু নির্যাতনকারী সেনগাঁও ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হরিপুর জামুন বাজার এলাকায় আত্মগোপন করে আছে। সেখানে উক্ত আসামীকে পাওয়া না গেলে র‌্যাবের গোপন সূত্র মারফত জানা যায় ঘটনার আসামী অন্যত্র পলাতক আছে।
পরবর্তীতে র‌্যাব-১৩, ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানী-১, দিনাজপুর এর একটি আভিযানিক দল গভীর রাতে ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল থানাধীন গাজীর হাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চাঞ্চল্যকর মামলার শিশু নির্যাতনকারী প্রধান আসামী মোঃ জহিরুল ইসলাম গুড (৪৮) কে আটক করে। আটক জহিরুল জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার দেওধা গ্রামের সোহরাব আলীর ছেলে। জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামী উক্ত শিশু নির্যাতনের সাথে সংশ্লিষ্টতার কথা র‌্যাবের নিকট প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে। আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে ঠাকুরগাঁও ডিবি পুলিশ শনিবার সন্ধ্যায় পীরগঞ্জ উপজেলার সেনগাঁও ইউনিয়নের দেওধা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত জিয়াবুলকে। গ্রেপ্তারকৃত জিয়াবুল ইসলাম (৫৬) দেওধা গ্রামের প্রয়াত মেহেরাব আলীর ছেলে। সে ঐ মামলার ৬ নম্বর আসামী। ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, তাদেরকেও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অতিদ্রæত সময়ের মধ্যে অন্য আসামীদেরকেও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। এর আগে চুরির অপবাদে দুই শিশুকে বর্বরোচিত নির্যাতন করার অভিযোগে ইউপি সদস্যসহ তার সাত সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার সেনগাঁও ইউনিয়নের দেওধা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শুক্রবার (৫ জুন) রাতে পীরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে নির্যাতনের শিকার সরিফা খাতুন। মামলায় সেনগাঁও ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম, মোতালেব আলীসহ আরও ৭ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে মোতালেব আলী তারই প্রতিবেশী গৃহবধূ সরিফা খাতুনকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে সাড়া না দেওয়ায় চুরির অপবাদ দিয়ে গত ২২ মে স্থানীয় ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম, মোতালেব আলীসহ আর ৭ জন মিলে গৃহবধুর ছেলে শিশু সুমন (১৩) ও তার ভাতিজা কমিরুল ইসলাম (১৬) কে আটক করে। এরপর তারা এক সালিশ বৈঠকের আয়োজন করে। সালিশে হাত-পা বেঁধে ওই দুই শিশুকে মারপিট করে ইউপি সদস্যসহ তার সহযোগীরা এবং মারপিটের সেই চিত্র ক্যামেরায় ধারণ করে। পরে ভিডিও চিত্র গৃহবধূ সরিফা খাতুনকে দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে ইউপি সদস্য ও তার সহযোগীরা মিলে সরিফা খাতুনকেও মারপিট ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। পরে গৃহবধূর বাড়ি থেকে একটি গরু নিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় সাথে অভিযুক্তদের অতিদ্রæত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলামের মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এদিকে শনিবার ,ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড.কে,.এম কামরুজ্জামন সেলিম পীরগঞ্জ উপজেলার সেনগাঁও ইউনিয়নে যান এবং গত মোবাইল চুরির ঘটনা নিয়ে নির্মম নির্যাতনের শিকার সুমন ও কামরুলের বাড়িতে যান এবং ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।