Home » » ঠাকুরগাঁওয়ে মুক্তি পেয়েছেন ২ বন্দী, অপেক্ষায় আরও ৩৫ জন

ঠাকুরগাঁওয়ে মুক্তি পেয়েছেন ২ বন্দী, অপেক্ষায় আরও ৩৫ জন

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 06 May, 2020 | 11:32:00 PM

আজম রেহমান,ঠাকুরগাঁও ব্যুরো,চিলাহাাট ওয়েব : দেশে কারাগারে করোনার আশংকায় কয়েদির চাপ কমাতে রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমার আওতায় মুক্তি দেয়ার সুপারিশ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ৩৭ জনের তালিকা পাঠিয়েছে ঠাকুরগাঁও কারা কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যেই অনুমতি পেয়ে ২ জন বন্দী মুক্তি পেয়েছেন,বাকি ৩৫ জন আছেন অপেক্ষমান । এই বন্দীরা স্বল্পমেয়াদী সাজাপ্রাপ্ত বন্দী বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁওয়ের বাসিন্দা এক হাজতী করোনা সনাক্ত হলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং কারাগার থেকে করোনা ছড়ানোর আশংকা করছেন মানুষ। এদিকে করোনার কারণে কারাগারের বাইরে বন্দীদের আনা-নেয়া খুবই সীমিত করা হয়েছে এবং নতুন বন্দী এলে তাদের আলাদা করে প্রথমে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। 
 পর্যায় ক্রমে গত ২ ও ৩ মে ২ জন লঘু সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করেন বলে নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ । মুক্তি প্রাপ্তরা হলেন ঠাকুরগাঁও সদরের ফকির পাড়া এলাকার বাসিন্দা “ মোঃ পলাশ” । তিনি চুরির মামলায় ১ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন । পরদিন মাদক মামলায় ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত ঠাকুরগাঁও শহরের কলিবাড়ি এলাকার “সফিকুল ইসলাম দানি” মুক্তি লাভ করেন । তাদের মধ্যে পলাশ ৮ মাস ও মাদক মামলার সফিকুল ৪ মাসের সাজা ইতিমধ্যে ভোগ করেছেন। ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারের সুপার মোঃ জাবেদ মেহেদী জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ শাখার নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা প্রথমে ৩১ জন ও পরে আরও ৬ জনের মুক্তির প্রস্তাব করে তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাই ।
 প্রস্তাবিত তালিকার সবাই পুরুষ। প্রাথমিকভাবে সরকার কর্তৃক উল্লিখিত দুজন বন্দির অবশিষ্ট কারাদ- মওকুফ করা হয়েছে। পরবর্তীতে মুক্তির নির্দেশ প্রদান করে আরও কিছু কয়েদি বন্দির নাম আসতে পারে । জেল কর্তৃপক্ষ জানান, বর্তমানে করোনার ঝুঁকির কারণে কারাগারে বন্দিদের বাইরে বেরোনো খুবই সীমিত করা হয়েছে। কোর্ট বন্ধ থাকায় কোর্টে নেয়া তো হচ্ছেই না , হাসপাতালেও নেয়া হচ্ছে না বরং কারাগারের ডাক্তার এসে নিয়ম করে রোগীদের দেখে যান। উপরন্তু আগের মতো কারাগার বদলীও নেই বর্তমানে। দর্শনার্থীদের সাক্ষাৎও মূলত বন্ধ। এছাড়া কারাগারের ভেতর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া , মাস্ক-গ্লাবসও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান জেলার শাহ আলম। এর মধ্যেও কোনো নতুন আসামী আসলে তাকে পুরনো হাজতী ও কয়েদিদের থেকে আলাদা করে কোয়ারেন্টাইনে ১৪ দিন রাখার পর শাররীক অবস্থা চেকআপ করে তারপর কারাপ্রকোষ্ঠে ঢুকানো হয়।পঞ্চগড়ে বন্দী ঠাকুরগাঁওয়ের বাসিন্দার করোনা সনাক্ত হওয়ার ঘটনায় আরো নড়েচড়ে বসেছে কারা কর্তৃপক্ষ। জেলার শাহ আলম বলেন , ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারের ধারণ ক্ষমতা সবমিলিয়ে ১৬৫ জন হলেও ৫ তারিখ মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৩ জন মহিলা সহ সেখানে ৩৫৩ জন বন্দি গণনা হেেয়েছ বলে জানিয়েছেন।