Home » , » পঞ্চগড়ে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রী

পঞ্চগড়ে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রী

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 01 May, 2020 | 5:49:00 PM

আমীর খসরু লাভলু,পঞ্চগড় ব্যুরো,চিলাহাটি ওয়েব : রেলপথ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় দেশের কর্মহীন, গরীব, দুঃস্থ, অসহায় প্রতিটি মানুষের মাঝে সরকার খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিবে। দেশের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষও করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকটে পড়েছে। সরকার তাদেরও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে।
তিনি শুক্রবার (১ মে) জেলার বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, যোগাযোগ বন্ধ ছিলো, গণপরিবহণ বন্ধ ছিলো। আমরা আমাদের যাত্রীবাহী ট্রেনগুলো বন্ধ করেছিলাম। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করোনার এই সংকটকালে কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য এবং সারাদেশের সবজির চাহিদা পুরণে মালবাহী ট্রেন চালু করা হয়েছে। যাতে করে স্বল্প খরচে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কৃষি পন্যসহ অন্যান্য পন্য পরিবহন করা যায়। এরফলে ভোক্তা পর্যায়ে সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট কমবে।
মন্ত্রী বলেন,আমাদের পঞ্চগড় থেকে টমেটো, তরমুজসহ বিভিন্ন শাকসবজি স্বল্প ভাড়ায় বেশি পরিমাণে পরিবহণ করতে পারি সেজন্য পঞ্চগড়ের ব্যবসায়ী হোক বাইরের ব্যবসায়ী হোক আমরা তাদের আহ্বান জানাচ্ছি। সাধারণ মানুষের জন্য আমাদের রেলযোগাযোগে এটি একটি নতুন সংযোজন। এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, করোনায় প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুুষদের নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন। প্রধাানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেওয়ার কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে যাতে কোন মানুষ অনাহারে না থাকে। একজনে যেন দুই/তিন বার না পায় আবার কেউ পায় না এমনটা যেন না হয়। মধ্যবিত্ত যারা হাত পাততে পারে না তাদেরও প্রধানমন্ত্রী ত্রান দেয়ার জন্য আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, করোনা মোকাবেলায় আমাদের খাদ্যের যেন কোন ঘাটতি না হয়, এজন্য আমাদের যার যতটুকু জমি আছে সবাইকে ধান, গম,পাটসহ অন্যান্য ফল ও ফসল আবাদ করতে হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলার সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। আমি প্রধানমন্ত্রী অনুমতি নিয়ে এসেছি। তিনি আমাকে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন। শেষ জেলা হওয়ায় আমাদের পঞ্চগড়ের উপর দিয়ে কোন জেলার মানুষ যায় না। এ জন্য আমরা এখনো ভাল আছি। তাই সংক্রমন ঠেকাতে পারলে আমরা নিরাপদ থাকতে পারবো। কৃষি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চত করতে হবে। শাক সবজি লাগাতে হবে। এক ইঞ্চি জমিও ফেলে রাখা যাবে না। গণমাধ্যমকর্মীদের ক্রান্তিকালেও সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, করোনায় সারা বিশে^ দুই লাখের বেশি মানুষ মারা গেছে। এর মধ্যে উন্নত দেশগুলোতেই বেশি করে মারা গেছে। কাজেই স্বাস্থ বিধি মেনে চলতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আল্লাহর ওপর অগাধ বিশ^াস আর আস্থা নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, কোরান তেরওয়াত করেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে এই মহাবিপদ কেটে যাবে।
তিনি আরও বলেন, করোনা সারাবিশ^কে থমকে দিয়েছে। তবে এ সংকট বেশিদিনের নয়, ধৈয্যসহকারে আমাদের সকলকে নিয়ম মেনে চলতে হবে। আর্থিক সংকট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর গৃহিত প্রণোদনা কর্মসূচি দেশের অর্থনীতিকে পুনরায় বেগবান করবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩১ দফা নির্দেশনায় করোনা সংকট মোকাবেলার সব ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সংক্রামণরোধে সরকারি নির্দেশ মেনে সবাইকে ঘরে থাকতে হবে এবং শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানান।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট, পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র তৌহিদুল ইসলাম, পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আমিরুল ইসলাম, বোদা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক আলম টবি, বোদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সোলেমান আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পরে মন্ত্রী ময়দানদিঘী ইউনিয়নের পাঁচ শ’ কর্মহীন, গরীব, দুঃস্থ, অসহায় মানুষের মাঝে চাল, ডাল, তরিতরকারি, তেল, সাবান ও নগদ টাকার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এর আগে মন্ত্রী বোদা উপজেলার ১৮টি কওমি মাদ্রাসার প্রধানদের কাছে প্রধানমন্ত্রী ভালোবাসার উপহার হিসেবে অনুদানের চেক বিতরণ করেন।