Home » » সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় করোনাকালেও মেরামত হচ্ছে লাগেজ ভ্যান

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় করোনাকালেও মেরামত হচ্ছে লাগেজ ভ্যান

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 11 May, 2020 | 10:03:00 PM

সৈয়দপুর প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : নভেল ভাইরাস সংক্রমনকালেও দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাটির জেনারেল ওভারহলিং শপ (জিওএইচ) সচল রাখা হয়েছে। দুর্যোগ মুহূর্তে জরুরি পণ্য পরিবহনের জন্য শপটিতে মেরামত করা হচ্ছে একটি লাগেজ ভ্যান। এর আগে ওয়াগন শপে ৭টি মালবাহী ওয়াগন মেরামত করা হয়েছে বলে জানায় রেলওয়ে কারখানার সংশ্লিষ্ট সূত্র ।
সরেজমিনে দেখা যায়, জিওএইচ শপে চলছিল একটি ব্রড গেজ (বড়) লাইনের লাগেজ ভ্যান মেরামত কাজ। এ কাজে কারখানার শ্রমিকেরা সবাই ব্যস্ত। তাদের সহযোগিতা করছিলেন শপের ইনচার্জ ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান। তাঁর সাথে কথা হলে তিনি জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকির কারণে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির আওতায় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাও বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু ওপরের নির্দেশে গত ৪ মে থেকে সীমিত ভাবে খুলে দেওয়া হয় কারখানা । সাধারণ গণ পরিবহন বন্ধ থাকায় জরুরি পণ্য রেলে পরিবহনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু রেলের কাছে পর্যাপ্ত লাগেজ ভ্যান না থাকায় সংকট দেখা দেয়। যদিও এরই মধ্যে রেলওয়ে সারা দেশে তিনটি পণ্যবাহী পার্সেল ট্রেন চালু করেছে। আরও একটি রাজশাহী বা খুলনা থেকে চালু হবে শিগগিরি। এ কারণে আমরা লাগেজ ভ্যানটি মেরামত করছি ।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার কার্য ব্যবস্থাপক শেখ হাসানুজ্জামান এ সম্পর্কে বলেন, দেশে এখন মহামারী চলছে। করোনাকালের এই দুর্যোগ মুহূর্তে আমরা বসে নেই। কারণ রেলওয়ে হচ্ছে একটি সেবা খাত। তবে কর্মীদের কাজে নামানোর আগে আমরা স্বাস্থ্যবিধি কঠোর ভাবে অনুসরণ করেছি। কারখানার একটিমাত্র ওয়ার্কার গেট খোলা রাখা হয়েছে। সেখানে আমরা জীবানুনাশক ট্যানেল স্থাপন করেছি। যা রেল অঙ্গনে এটাই প্রথম।
থারমার স্ক্যানার দিয়ে শ্রমিকদের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কোনভাবেই যাতে ছড়িয়ে না পড়ে , এ কারণে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখছে শ্রমিকরা । তিনি আরো বলেন, এর আগে আমরা ৭টি মালবাহী ওয়াগন মেরামত করেছি। এসব রেলের পরিবহন বিভাগকে হস্তান্তর করা হয়েছে। ১২ মের মধ্যে লাগেজ ভ্যানটিও হস্তান্তর সম্ভব হবে।
এ ব্যাপারে কথা হয় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) মো. জয়দুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, ঝুঁকি সত্বেও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে রেলওয়ে কর্মীরা মাঠে আছেন। আমরা পরিবহন ব্যবস্থা সচল রাখা ও মানবিক কারনে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেলে পুরোমাত্রায় স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরে যাবে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা, সে মানসিক প্রস্ততি আমাদের রয়েছে ।