Home » , » চিলাহাটিতে সুদের ফাঁদে সর্বস্বান্ত হচ্ছে অভাবীরা

চিলাহাটিতে সুদের ফাঁদে সর্বস্বান্ত হচ্ছে অভাবীরা

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 20 May, 2020 | 2:12:00 PM

জুয়েল বসুনীয়া,চিলাহাটি ওয়েব : নীলফামারী জেলার চিলাহাটি বৌ-বাজার এলাকায় সুদ খোরদের রাজত্র দিনদিন বেড়ে চলছে।
স্থানীয় নেতা,জনপ্রতিনিধি,ব্যবসায়ী ও শিক্ষক বিভিন্ন কৌশলে রমরমা সুদের ব্যবসা চালিয়ে গেলেও দেখার বা বলার কেউ নাই। তাদের খপ্পড়ে পরে লাগামহীন চড়া সুদের কারবারে নিঃস্ব হয়ে কর্মস্থল বা বসত-ভিটা ছেড়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে অনেক মানুষকে।
সুদ খোর মহাজনরা সুদের টাকা দেওয়ার সময় গ্রহিতাদের কাছ থেকে জামানত হিসাবে হাওলাদের কথা উল্লেখ করে ষ্ট্যাম্প অথবা চেকের পাতায় দ্বিগুন তিনগুন টাকা লিখে স্বাক্ষর নিয়ে রাখেন। পরর্বতীত্বে সুদখোরদের বেড়া জালে পড়তে হয় গ্রহিতাদের। আবার অনেক সুদ খোরদের রয়েছে লাঠিয়াল বাহিনী। তারা এই বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রকার অশ্রিল ভাষায় গালিগালাস ও হুমর্কীর মাধ্যমে সুদের টাকা আদায় করে থাকেন।
উল্লেখ্য অনেকে চাপে ফেলে জমি লিখে নেওয়ার পর সুদ থেকে আজো রেহাই পায়নী। চড়া সুদে জড়িয়ে ভিটা-মাটি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে বেশী অভাবীরা। সল্প সময়ের মধ্যে সুদখোর মহাজনরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে।এ দের মধ্যে অনেক শিক্ষকও রয়েছে। এ সমস্ত সুদের ব্যবসায়ীরা ব্যক্তি উদ্দ্যোগে অনুমোদন ছাড়াই সমিতি তৌরী করে চালিয়ে যাচ্ছে রমরমা সুদের ব্যবসা। লাগামহীন চড়া সুদের কারবারে নিঃস্ব হয়ে বসত-ভিটা ছেড়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে অনেক মানুষকে।
এ উপজেলায় ছোট-বড় মিলে প্রায় শতাধিক খানেক মহাজন চালিয়ে যাচ্ছে সুদের ব্যবসা। এদের মধ্যে অর্ধশতাধিক ব্যাক্তি বনে গেছেন এলাকায় বৃত্তশালী। সুদ গৃহিতা মোস্তফা জানান, কর্মহীন অভাবী সুদ গৃহিতদের কাছ থেকে প্রতি হাজারে মাসে দুইশত থেকে তিনশত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সুদ বেশী হওয়ায় অনেকে সুদের টাকা দিতে চোখে সরিষার ফুল দেখছে।
যারা প্রতি মাসে সুদের অংশ দিতে পারেনা তাদের সুদের অংশ পরের মাসে আসলের সাথে যোগ করা হয়। এভাবে চক্র হারে সুদ-আসল বাড়তে থাকে মাসের পর মাস। সুদ বা আসল পেতে দেরী হলে মহাজনরা সুদ গ্রহিতাদের বাড়িতে চড়াও হয়ে বসত-ভিটার কাগজ পত্র,অসবাবপত্র, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগীসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে আসে। চিলাহাটি কামাড়পাড়ার দেবাউ কর্মকার চিলাহাটি ওয়েব ডটকমকে জানান,আমার ছেলে সুর্য কর্মকার বৌবাজারের মহাজনদের কাছে সুদে পাঁচ হাজার টাকা নেয়। এখন সুদ-আসলে দাড়ায় পঁচিশ হাজার টাকা।সুদের টাকার ভয়ে সুর্য ঢাকায় পালিয়ে গেছে।ৎ
একই অভিযোগ কেকাউ কর্মকার,গৌতম কর্মকার,লেলিনসহ অনেকেরই। এই সমস্ত মহাজনরা প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা আয় করলেও তাদের দিতে হয়না টেক্স বা কর। তারা কিভাবে বিশাল সম্পদের মালিক হচ্ছেন তা খতিয়ে দেখছে না কেউ।