Home » » কিশোরগঞ্জে আউশ ধান চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

কিশোরগঞ্জে আউশ ধান চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 16 May, 2020 | 5:47:00 PM

মিজানুর রহমান,কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ, "বাংলার জমিনে এক ইঞ্চি জায়গাও যেন অনাবাদি না থাকে"সেই লক্ষ্য নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় আউশ চাষে কৃষক দিন দিন আগহী হয়ে উঠেছে। আবাদি জমি আর ফেলে না রেখে কৃষকরা সেই জমিতে আউশ চাষে ঝুঁকে পড়েছেন।
বিগত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে আউশ চাষাবাদে কৃষকেরা কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছে। পাশাপাশি সরকার ধানে ন্যায্য মূল্য ঘোষন করায় এবং কৃষি বিভাগের তৎপরতায় আউশ চাষের কৃষকদের মাঝে আগ্রহের মাত্রা যেন বেড়ে গেছে অনেক গুণ । এরই মধ্যে উৎসব মুখর পরিবেশে ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। গ্রামবাংলার চিরাচরিত এই দৃশ্য বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। কিছুদিন পরেই কাদা-মাটির বিস্তীর্ণ ভূমি ভরে যাবে সবুজের সমারোহে। তৈরি হবে অভূতপূর্ব চিত্র।
সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কৃষকরা মাঠে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ জমিতে চাষ দিচ্ছেন, চারা রোপণ করছেন, কেউ বা জমিতে জৈব সার প্রয়োগ করছেন, আবার যেসব জমিতে সেচ নালা নষ্ট হয়েছে সেসব জমিতে সেচ নালা কৃষকরা ঠিক করছেন। সদর ইউনিয়নের ফকির পাড়া গ্রামের কৃষক হামিদুল ইসলাম বলেন,এ বছর ৪ বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়া আবাদ করেছিলাম। মিষ্টি কুমড়া উত্তোলন করে কৃষি অফিসের পরামর্শে জমি ফেলে না রেখে সেই জমিতে আউশ ধান রোপণ করছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আর তাদের উৎসাহে আউশ ধানের আবাদ করছি। একই কথা বলেন ওই গ্রামের কৃষক নুর আমিন তিনি বলেন, এবার প্রথম দেড় বিঘা জমিতে আউশ ধান লাগিয়েছি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কিশোরগঞ্জ অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ৩ শত ৮ হেক্টর জমিতে আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল লতিফ জানান, কৃষকরা সাধারণত উচ্চ ফলনশীল জাতের ব্রি ধান-৪৮, স্থানীয় জাত, চায়না, হাইব্রিডসহ বিভিন্ন জাতের ধানের চারা রোপন করছেন। তিনি আরও বলেন, অধিক ফলনের জন্য পরিমিত সার, কীটনাশকের ব্যবহার সহ নানা বিষয়ে কৃষকের মাঝে পরামর্শ দিয়ে আসতেছি ।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় এবং সরকারি উদ্যোগে ধানের ভালো দাম পাওয়ার পাশাপাশি কৃষি অফিসের পরামর্শে এ উপজেলায় আউশ আবাদে কৃষকেরা আগ্রহী হয়ে উঠেছে। কৃষকদের দোরগোড়ায় কৃষি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে উপ -সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের ধান চাষে পরামর্শ দিয়ে আসতেছেন।