Home » » কিশোরগঞ্জে বাহারি ইফতারের নেই জৌলুস : যখন মানুষ ঘরবন্দি

কিশোরগঞ্জে বাহারি ইফতারের নেই জৌলুস : যখন মানুষ ঘরবন্দি

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 28 April, 2020 | 10:50:00 PM

মিজানুর রহমান,কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : "মাহে রমজান এলো বছর ঘুরে, মোমিন মুসলমানের দ্বারে -দ্বারে "। এ মাহে রমজানের মাহিন্দ্র খনের অনেক আগেই যেন বিশ্ব দরবারে কড়া নাড়ছে অদৃশ্য এক মারনঘাতি করোনাভাইরাস। আর এ ভাইরাস সংক্রমণ বিস্তার ঠেকাতে চলছে লকডাউন, গণজমায়েত এড়িয়ে চলায় বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে সব প্রতিষ্ঠান। এরই মাঝে শুরু হয়েছে মুসলমানদের আত্মশুদ্ধি তথাপবিত্র মাহে রমজান। রমজান হচ্ছে আত্মসংযমের মাস। 
এ মাসে রহমত,বরকত মাগফিরাত ,নাজাতের মধ্যে দিয়ে হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি, অহংকারবোধ ভুলে গিয়ে সুখী সমৃদ্ধশালি, সমাজ প্রতিষ্ঠায় বিশ্ব মুসলিম উম্মার শান্তি, অগ্রগতি কামনায় এ ফজিলতময় মাসের আগমন। বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগন দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকে কখন রমজান আসবে। সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রতিটি মুসলমানের দ্বারে দ্বারে কড়া নাড়ছে পবিত্র রমজান। কিন্তু এখন এক অদ্ভুত সময় এসেছে পৃথিবীতে। অ- দেখা এক ভাইরাসে মরছে মামুষ। ছোঁয়াছে জীবাণুর আতংকে সৃষ্টির সেরা জীব এখন স্বেচ্ছায় ঘরবন্দি। অধিকাংশ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ায় রমজানের সেই আনন্দ উল্লাস এখন যেন ভাটা পড়ার মত। রমজান হচ্ছে অনাবিল আনন্দের মাস। সম্প্রতি করোনাভাইরাসের মহাদুর্যোগে সারাদেশের ন্যায় এ উপজেলায় রমজানের ৩য় রোজা অতিবাহিত হয়েছে। 
সরকারি নিদের্শনায় ভাইরাস সংক্রমনের বিস্তার রোধে অনিদৃষ্ট কালের জন্য লকডাউন বলবৎ থাকায় অধিকাংশ মানুষ কর্মহীন হয়ে দুর্বিষহ জীবন অতিবাহিত করছে। প্রতিবছর রমজানের আগের দিন নানান বয়সি মানুষজন অনেক ব্যস্ততা আর উৎসবমুখর পরিবেশে রোজা আগমনের সাথে সাথে ইফতার সামগ্রিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস খরিদ করতে দেখা যায় দোকান গুলোতে উপছে পড়া ভিড়। দোকানদারাও স্বস্তিতে নিঃশ্বাস ফেলার মত সুযোগ পেত না।এখন যেন খরিদার শূন্যতায় হাট বাজর গুলো খা -খা করছে। বাঙালীদের ইফতারের আইটেমের সর্বজনীন প্রিয় ছোলা অন্যান্য মনোহারী দ্রব্যাদি মুড়ি, ডাল ইত্যাদি। এবারে রমজানের আগেই সেই উৎসব পরিবেশ দেখা যায়নি। 
তবে রোজার প্রথম দিন গুটি কয়েক রোজাদারকে ইফতার কেনার আনাগোনা দেখা গেছে। প্রতি বছর এ উপজেলায় বিভিন্ন দোকানে রমজানের পড়ন্ত বিকেলে বাহারি ডিজাইনের বিভিন্ন রকমারি ইফতারের পসরা সাজিয়ে বসে থাকে দোকানিরা। সেই সাথে দোকানের তরুন বয়রা নানা ছন্দে আর রসিকতায় খরিদারদের হাক ডাকে মুখরিত করে তুলত। সে জৌলুস আর এ রমজানে চোখে পড়ার মতোনয় ।হোটেল বন্ধ রেখে, সামান্য কিছু দোকান খোলা থাকলেও অনেকটা নিয়ন্ত্রিতভাবে প্রশাসনের নজরদারিতে দুপুর ২.ঃ টা থেকে বিকাল ৬.ঃ টা মধ্য বন্ধ করে দিতে হয়। প্রতি বছর রমজানে তারাবির নামাজের সময় অনেক উৎসাহ, আনন্দ নিয়ে মুসল্লিদের মসজিদের যাওয়া এক অভূতপূর্ব দৃশ্য অবতরণ হত। মুসুল্লিরা সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত পোশাক আর মাথায় রং বে-রং টুপি পড়ে সারিবদ্ধ ভাবে এগিয়ে যেত মসজিদের দিকে। তখন পরিবেশটাও হত অন্যরকম। চলার পথে অনেকেই কুশলবিনিময় করতো ময় মুরুব্বিদের মাঝে। আর অনেকেই নামাজে অপেক্ষমান কিছুটা সময় বন্ধু-বান্ধবদের সাথে রমজানে ফজিলত নিয়ে আলাপ চারিতায় মশগুল দেখা যেত। আর প্রত্যেকটি অবিভাবকের সাথে কোমল মতি শিশুরাও যেন ভীড় জমাত মসজিদে। এ রকম দৃশ্য এ বছর চোখে পড়ার মতো নয়। সামাজিক দূরত্ব আর জনসমাগম এড়িয়ে অনেকেই তারাবির নামাজ ঘরই বসে আদায় করছেন। ইফতারের ব্যাপারে কথা হয় বৈশাখী হোটেলের স্বত্বাধিকারী মানিকের সাথে তিনি জানান, বিগত বছরগুলোতে রোজার প্রতিদিন ৪০থেকে ৫০ হাজার টাকার ইফতারি বিক্রি হতো। কিন্তু এ বছর এই অবস্থায় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার মতো ইফতার বিক্রি করা যায়। এ সময় করোনা ভাইরাসের কারণে অনেকটাই মানুষ হয়ে পড়েছে ঘরবন্দি। এতেই জনশূন্য হয়ে পড়েছে হাট-বাজারগুলো। আর প্রতিদিন গুনতে হচ্ছে লোকসান।