Home » » " মায়ের হাসি " (ছোট গল্প)

" মায়ের হাসি " (ছোট গল্প)

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 27 April, 2020 | 10:55:00 PM
























" মায়ের হাসি " 
[গল্প নয় সত্যি] 

 ॥ আনোয়ার হোসেন ॥ 

মাস খানি আগের কথা,
ছোট্ট একটা প্রাইভেট স্কুলে জব করি।
করোনা ভাইরাস সংক্রমণে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বিধায় আমার স্কুল বন্ধ।
ঢাকা থেকে ফোন করে বললাম....
" মা, আগামী শুক্রবার ইনশাআল্লাহ বাড়িতে আসছি"!খুশিতে মা ঝটফট বলে দিলো --
"তাড়াতাড়ি আয় বাবা।তরে দেখার জন্য কলিজাটা পুড়তেছে"
ঠিক আছে কোন চিন্তা করবা না' হাসিমুখে ফোনটা রেখে দিলাম। যেই কথা সেই কাজ।রাতেই কাপড়-চোপড় ব্যাগে গুছিয়ে রাখি।রাতে খুব একটা ভালো ঘুম হয়নি বাড়ি যাবার আনন্দে।ভোরবেলা উঠেই রওয়ানা করলাম আল্লাহর নামে।
রিক্সা করে গাজীপুর মোড়ে আসলাম, মনটা ফুরফুরে লাগছে।দীর্ঘ পাঁচ মাস পড় বাড়ি যাচ্ছি'
'উফফ! এক ঘন্টার মতো দাঁড়িয়ে আছি।বাসের কোন হদীস নেই।অথচ তাড়াতাড়ি বাড়ি যাব বলে সেই ভোরবেলা ঘুম ভেঙে গেলো।ধুত্তেরি ছাই। বাস সব গেল কই?
এসব লাউ কদু ভাবতে ভাবতে হঠাৎ একটা বাস চোখে পড়লো।চারপাশে অপেক্ষমান যাত্রীদের ভীড় পড়ে গেলো। নিজেকে আর কন্ট্রোল করতে পারছিলাম না।
বাসের গেইটটা পর্যন্ত লোড,তবুও গাদাগাদি করে কোনরকম উঠেই পড়লাম।
ঝুলে ঝুলে প্রায় অনেকদূর চলে এলাম। তারপরও খারাপ লাগছিল না। ভালুকা এসে একটা আসন পেয়ে পকাত করে বসে পড়ি।একটু স্বস্তির বোধ করছিলাম।মা'কে ভীষন মনে পড়ছিল।অসুস্থ বৃদ্ধ জননী কেমন করে একলা একলা থাকে।আমাদের প্রয়োজনে নিজের সুখটুকুও বিসর্জন দিয়েছে।
ঘুম ঘুম চোখে ক্লান্তির অবসাদে ভাবতে ভাবতে ময়মনসিংহ বাস্ট স্ট্যান্ডে পৌঁছে গেছি।
মা ততক্ষণে বিরামহীন ফোন করেই যাচ্ছে।বাড়ির কাছাকাছি এসে পড়েছি তাই আর ফোন ধরলাম না। মা'কে সারপ্রাইজ দিব।হাঁটতে হাঁটতে বাড়ির ভেতর ডুকবো। দেখি বৃদ্ধ মা জননী বেড়ায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মনে হচ্ছে আমার পায়ের শব্দ অনেক আগেই মায়ের কানে অটোমেটিক পৌঁছে গেছে। দেখা মাত্রই মৃদু হাসিতে মা জননী আমাকে বরণ করে নিলো। চোখের দিকে তাকাতেই এক ফোঁটা অশ্রু দেখতে পেলাম টলমল করছে। বুঝতে অসুবিধা হয়নি এটা আনন্দ অশ্রু।
উল্লেখ্য বাবা মারা যাওয়ার পর এতোটা মা'কে খুশি হতে দেখিনি। কিছুক্ষণ নীরব আনন্দ হৃদয়কে প্রফুল্লিত করে গেল। মায়ের এক চিলতে হাসির মাঝেও এতোটা শান্তি আগে কখনোই উপলব্ধি করতে পারিনি।
অন্ধের যষ্টির মতো আগলে নিয়ে বললো...
'বাবা,, পথে তর কোন অসুবিধা হয়নি তো?'
হাতমুখ ধুয়ে খেয়ে নে, দ্যাখ তর জন্য কতকিছু রান্না করে রেখেছি !
মনে মনে খুব আনন্দ পেলাম, মায়ের হাতের রান্না খাব। জিভে জল এসে গেলো আহ,, কব্জি ডুবিয়ে খেতে খেতে জননীর মুখের দেখতে পেলাম চাঁদমুখো প্রশান্তির হাসি !
বড় বেশি ভালোবাসি,
মায়ের ঐ মধুর হাসি !