Home » » চিরিরবন্দরের ৩১ শ্রমিককে ধান কাটতে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে প্রেরণ

চিরিরবন্দরের ৩১ শ্রমিককে ধান কাটতে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে প্রেরণ

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 23 April, 2020 | 6:16:00 PM

দেলোয়ার হোসেন বাদশা,চিরিরবন্দর প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : সরকারি নির্দেশনায় দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলা থেকে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আগাম বোরো ধান কাটতে কৃষি শ্রমিক পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
প্রথম ধাপে ৩১ জন ধান কাটার শ্রমিক পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পিবার উপজেলা পরিষদ চত্বর হতে সরকারিভাবে আত্রাই ও নওগাঁ জেলার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ৩১ জন ধান কাটার শ্রমিকদের হাতে কৃষি বিভাগের প্রত্যয়নপত্র, উন্নতমানের ফেস মাস্ক, খাবার, জীবাণুনাশক স্প্রে ও প্রয়োজনীয় ওষুধসহ বিভিন্ন উপকরণ তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা সিদ্দীকা। এ সময় চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডাঃ আজমল হক কৃষি শ্রমিকদের সবাইকে স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ প্রদান করেন। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বোরো ক্ষেতের পাকা ধান কাটতে শ্রমিক সংকট দেখা দেওয়ায় সরকারি নির্দেশে মোতাবেক উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ধান কাটা শ্রমিককে বিশেষ ব্যবস্থায় প্রেরণের উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন।
প্রতি বছর বোরো মৌসুমে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর থেকে কৃষি শ্রমিকরা দেশের হাওড় ও দক্ষিণ অঞ্চলে আগাম বোরো ধান কাটতে বিভিন্ন জেলায় যায়। কিন্তু এবার মহামারি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি বিধি নিষেধ ও লকডাউনের কারণে কেউ এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে পারছেন না। এতে করে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আগাম বোরো ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছে সেখানকার কৃষকরা। এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীসহ কৃষি মন্ত্রণালয় নির্দেশনায় দিনাজপুর অঞ্চল হতে ধান কাটার শ্রমিক পাঠানোর বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা সিদ্দীকা জানান, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে চিরিরবন্দর উপজেলা থেকে কৃষি বিভাগ ও পুলিশের সহযোগিতায় ধান কাটার শ্রমিক পাঠানো হবে। এরই প্রেক্ষিতে চিরিরবন্দর কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রথম ধাপে উপজেলার আব্দুলপর ও আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের ৩১ জন শ্রমিককে একটি বাসে করে আত্রাই নওগাঁ জেলায় প্রেরণ করেছে।
এ ব্যাপারে চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান, শ্রমিকরা যাতে করোনার সংক্রমণ থেকে নিরাপদে থাকে সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই এলাকার লোকজনের সাথে তাদের কেউ মেলামেশা করতে পারবে না। সেখানকার প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তার মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেক শ্রমিককে আলাদা করে থাকার ও খাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে
 শ্রমিকরা সেখান থেকে মাঠে গিয়ে ধান কাটার পর আবার নিজ নিজ কক্ষে ফিরে যাবেন। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে এ অঞ্চল থেকে ৩’শ কৃষি শ্রমিকের তালিকা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাদেরকে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাতে ধান কাটতে পাঠানো হবে।