Home » » বদরগঞ্জে ইটভাটার যানবাহনের ধুলো বালুতে ঢেকে গেছে বাড়িঘর ও ক্ষেত খামার

বদরগঞ্জে ইটভাটার যানবাহনের ধুলো বালুতে ঢেকে গেছে বাড়িঘর ও ক্ষেত খামার

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 11 March, 2020 | 1:13:00 AM

আকাশ রহমান, বদরগঞ্জ প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : রংপুরের বদরগঞ্জে ইটভাটার কাজে নিয়োজিত যানবাহনের ধুলো-বালুতে ঢেকে গেছে গ্রামাঞ্চলের ঘরবাড়ি ও ক্ষেত খামার। পরিবেশ দুষণের পাশাপাশি কাঁচা সড়কগুলোর বেহাল দশা হয়ে চলাচলের অনুপযোগি হয়েছে।
এদিকে ভাটার সামগ্রি বহনের যানবাহন দ্বারা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা সংঘটিত হওয়ায় ৮বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থিরা ভয়ে বিদ্যালয়ে যেতে অনিহা প্রকাশ করছে। গতকাল মঙ্গলবার এলাকাবাসি ধুলো বন্ধের প্রতিবাদ করতে গেলে ইটভাটার মালিকের সাথে তাদের কয়েক দফা বাকবিতন্ডা হয়। এ ঘটনায় উপজেলা নিবার্হি অফিসে অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।
এলাকাবাসির অভিয়োগে জানা যায়, উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের রাধানগর ধোদরারপাড় গ্রামের পার্শ্বে চলতি বছর গড়ে উঠেছে একতা ও কে আর এম নামে দুটি ইটেরভাটা। সেখানকার একমাত্র কাঁচা সড়কের উপর দিয়ে ভাটার কাজে নিয়োজিত যানবাহনগুলো প্রতিনিয়ত চলাচল করার ফলে উড়ন্ত ধুলো বালু ছড়িয়ে ছিটেয়ে পড়ে আশেপাশের অর্ধ শতাধিক বাড়িঘর ও বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত ধুলোয় ঢেকে গেছে। এলাকাবাসি ভাটা মালিক পক্ষকে বার বার তাগিদ দেওয়ার পরও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। উল্টো প্রতিবাদকারিদেরকে ট্রাক্টরের নিচে ফেলে হত্যার হুমকি দিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার লালদিঘী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থি তানজিলা আক্তার, জান্নাতি খাতুন, ফারজিনা আক্তার ও রুবিনা আক্তার জানায়, ইটভাটার যানবাহনগুলো আমাদের ধোদরারপাড় কাঁচা সড়ক নষ্ট করে দিয়েছে। আমরা এক হাটু ধুলোর উপর দিয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাই। এমনকি প্রতিদিন স্কুল ড্রেস পরিস্কার করা সম্ভব না বলে ময়লামাখা ড্রেস পরেই স্কুলে যাই। অন্যদিকে সড়কের পাশের আব্দুল্লাহ নামে একজন মুদি ব্যবসায়ি অভিযোগ করে বলেন, ইটভাটার ট্রাক্টরের কারণে কাঁচা রাস্তার বেহাল অবস্থা হয়েছে। ধুলোয় ঢেকে গেছে অসংখ্যা ঘরবাড়ি। ধুলোর কারণে লোকজন খেতে পারেনা, ঘরে ঘুমাতেও পারেনা। আমরা এর প্রতিবাদ করতে গেলে মালিকপক্ষের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। এমনকি তারা আমাদেরকে হত্যার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছে। আমরা এখন উপজেলা নির্বাহি অফিসে অভিযোগ করতে যাচ্ছি।
এ সময় আতাউর রহমান নামে একজন কৃষক জানান, আমাদের গ্রামের পার্শ্বে একটি পুকুর খনন করা হচ্ছে। ভাটার মালিকগন সেই পুকুরের মাটি সার্বক্ষণ ভাটায় নিয়ে যাওয়ায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে সড়কের ধুলো বালুতে আশেপাশের ফসলের ক্ষেত ঢেকে গেছে। সেইসাথে আমার একটি শিম ক্ষেত সম্পূর্ণ ধুলোয় ঢেকে যাওয়ায় আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে একতা ইটভাটার মালিক সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে সড়কে ট্রাক্টর চালাই। প্রয়োজনে ধুলোবালু রোধ করতে কাঁচা সড়কে পানি দেওয়া হবে। তবুও ট্রাক্টর চালানো বন্ধ করবো না।