Home » » কৃষকের নাম ভাঙ্গিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করেছে বদরগঞ্জ খাদ্য গুদাম

কৃষকের নাম ভাঙ্গিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করেছে বদরগঞ্জ খাদ্য গুদাম

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 01 March, 2020 | 10:04:00 PM

আকাশ রহমান, বদরগঞ্জ প্রতিনিধি, চিলাহাটি ওয়েব : রংপুরের বদরগঞ্জে চলতি আমন মৌসুমে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কৃষকের নাম ভাঙ্গিয়ে ব্যবসায়ি ও ফিটনেস বিহীন মিল চাতাল মালিকদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ২৮শ' মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করেছে উপজেলা খাদ্য গুগাম কর্তৃপক্ষ। আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারের বেধে দেওয়া ২৯৯০ মেট্রিক টন সংগ্রহের লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য তারা এখন ফড়িয়া ও দালালদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। যার ফলে প্রকৃত কৃষকরা অধিকার বঞ্চিত হয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছে। রবিবার কৃষকদের পক্ষ্যে কথা বলতে গিয়ে উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মাহাবুবার রহমান হাবলুর সাথে ওসি এলএসডি আশরাফুল ইসলামের কয়েক দফা বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটেছে। কৃষকদের অভিযোগে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত খাদ্য গ্রদামের অভ্যান্তরে চলে ধান সংগ্রহের মহোৎসব। সেখানে সাধারণ কৃষক উপস্থিত না থাকলেও মিল মালিক, ব্যবসায়ি ও দালালরা বিভিন্ন নামে-বেনামে ধান দিতে মরিয়া হয়ে উঠে। উজেলা প্রশাসন, সুশিল সমাজ কিংবা সাংবাদিকরা কৃষকদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে গুদাম কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললে ওসি এলএসডি আশরাফুল ইসলাম উপস্থিত ধান ব্যবসায়িদেরও কৃষক বলে চালিয়ে দেন বলে উপজেলার কালুপাড়া ইউনিয়নের কৃষক লোকমান মিয়া (৩৬) জানান। গত বছরের ২৬নভেম্বর থেকে উপজেলা খাদ্য গুদামে শুরু হয়েছে ধান সংগ্রহ অভিযান। চলবে আগামি ৫মার্চ পর্যন্ত। সেখানে উপজেলার কৃষকদের কাছ থেকে লটারির মাধ্যমে ধান সংগ্রহের কথা থাকলেও স্থানিয় দালাল ও ফড়িয়ারা কৌশলে কৃষকদের কৃষি কার্ড হাতিয়ে নিয়ে নিজেরাই ধান দিয়ে আসছে। এই সুযোগে দুর্নীতিবাজ ওসি এলএসডি আশরাফুল ইসলাম অর্থ বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। গতকাল রবিবার বিকেলে উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার হাবলু বঞ্চিত কৃষকদের অধিকার আদায়ের ব্যপারে খাদ্য গুদামে কথা বলতে গেলে ওসি এলএসডি আশরাফুল ইসলামের সাথে তার ব্যপক বাকবিতন্ডা হয়। পরে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ছায়েদুল ইসলাম সেখানকার উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ধান ব্যবসায়ির সাথে আলাপকালে তারা বলেন, বর্তমান ওসি এলএসডি আশরাফুল ইসলাম এখানে যোগদানের পর থেকে তিনি এ পর্যন্ত অর্ধকোটি টাকা বাণিজ্য করেছে। তিনি ক্ষমতাসিন দলের প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়ম দুর্নীতি করলেও তার বিরুদ্ধে মুখ খুলার সাহস পায়না কেহ। তারা আরো বলেন, তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় লিখে কোন লাভ হবেনা। পারলে আপনারাও তার সাথে হাত মেলান। উপজেলা মিল চাতাল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবুল শাহ্ বলেন, বছরের প্রায় সময় মিল মালিকদের কাজ না থাকায় মিল চালানো সম্ভব হয়না। আমন মৌসুমে বরাদ্দ পেলে গুদামে চাল দিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। এ সময় তিনি কতিপয় সাংবাদিকদের অন্যায় আবদারের কথাও নির্বিঘেœ স্বীকার করেন। উপজেলা নির্বাহি অফিসার নবীরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই। আগামিকাল সোমবার খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে সেখানে আসলে কি হয়েছে? এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে যারা স্বার্থ নিতে পারেনি তারাই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। তবে আমি চলতি মৌসুমে সকলের সহযোগীতায় ধান সংগ্রহে কাজ করে যাচ্ছি। পাছে লোকে কি বলে বলুক তা শোনার সময় আমার নেই। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ছায়েদুল ইসলাম বলেন, এখানকার সব চাতালে ফিটনেস রয়েছে। তবে বছরের অন্যান্য সময়গুলোতে চাতালগুলো বন্ধ থাকে এবং তাদেরও কিছু দুর্বলতা রয়েছে।