Home » » ডোমারে এসএসসি পরীক্ষার্থী তৃঞ্চা রানীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি ও সড়ক অবরোধ

ডোমারে এসএসসি পরীক্ষার্থী তৃঞ্চা রানীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি ও সড়ক অবরোধ

চিলাহাটি ওয়েব ডটকম : 03 February, 2020 | 11:17:00 PM

আব্দুল্লাহ আল মামুন,ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : জেলার ডোমার উপজেলার মাহিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষার্থী তৃঞ্চা রানী রায় (১৫) এর মৃত্যুর ঘটনায় ৩ ফেব্রুয়ারী দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলাম। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাকেরিনা বেগমকে প্রধান করে জেলা সহকারী পরিদর্শক মশিউর রহমান কে সদস্য করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ায় নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিকে সোমবার সকাল থেকেই স্কুলের শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষার্থী তৃঞ্চা রানীর মৃত্যুর জন্য দায়ী শিক্ষকদের শাস্তির দাবীতে ক্লাস বর্জন করে ডোমার-চিলাহটি প্রধান সড়কে রাস্তায় গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় রাস্তার দুপাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। দুপুরে বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে বিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় জেলা শিক্ষা অফিসার শফিকুল ইসলাম ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাকেরিনা বেগম বিক্ষোভকারীদের মুখে পরলে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা তাদের দুই ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে এবং তৃঞ্চা রানী মৃত্যুর ঘটনায় গাফিলাতির কারনে প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামকে বরখাস্ত ও শাস্তির দাবী জানান। ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী কবিতা রানীর বাবা রবীন্দ্রনাথ রায় জানান, বার্ষিক পরীক্ষায় ফি দিতে দেরী করায় প্রধান শিক্ষক তার মেয়েকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। তৃঞ্চা রানীর সহপাঠি বন্ধু রায়হান ইসলাম ও গোলাম রব্বানী জানান,প্রবেশপত্রে শাখা ভুল আসায় অভিমান করে তৃঞ্চা রানী আত্মহত্যার খবর শুনে আমরা সকলেই মুষরে পরি। আজকে তাকে ছাড়াই পরীক্ষা দিতে হয়েছে। তারা এর সাথে জড়িত ব্যাক্তিদের শাস্তির দাবী জানান। দশম শ্রেনীর ছাত্রী ছালমা আক্তার জানান,তৃঞ্চা আপর মৃত্যুর বিষয়টি আমরা মেনে নিতে পারছিনা। কি কারনে এবং কাদের অবহেলায় সে আত্মহত্যা করেছে সেই বিচারের দাবীতে আমরা ক্লাস বর্জন করে সড়ক অবরোধ করে রেখেছি। প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ক্লাস বর্জনের বিষয়টি স্বীকার করলেও তার স্কুলের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে না বলে জানান। তিনি বলেন তার প্রতিপক্ষরা কিছু শিক্ষার্থীদের দিয়ে এই আন্দোলন করছে। তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাকেরিনা বেগম জানান,তদন্ত চলছে তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, ছাত্রী মৃত্যুর ঘটনাটি দুঃখ জনক। এ ঘটনায় ৩রা ফেব্রুয়ারী দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি জানান। এদিকে ঘটনার একদিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তৃঞ্চা রানীর বাড়ীতে তার শোকাহত পরিবারের সাথে দেখা করতে যাননি স্কুলের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম। উল্লেখ্য মাহিগঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়ের বানিজ্য বিভাগের এসএসসি পরীক্ষার্থী তৃঞ্চা রানী(১৫) রায়ের প্রবেশ পত্রে মানবিক বিভাগ আসায় তিনি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ সিরাজুল ইসলামকে বিষয়টি অবগত করলে তিনি তাকে মানবিক বিভাগেই পরীক্ষা দিতে হবে জানালে রবিবার দুপুরে স্কুল থেকে বাড়ীতে এসে নিজ শোয়ার ঘড়ে ঘড়ের আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা কওে তৃঞ্চা। নিহত তৃঞ্চা রানী বাকডোকরা এলাকার দুলাল রায়ের মেয়ে। তৃঞ্চা রানী মাহিগঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩রা ফেব্রুয়ারী থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল।